Practice Questions

Total Questions: 36

21.
ঝুঁকিবিহীন সিকিউরিটি কোনটি?
ফিন্যান্সের দৃষ্টিকোণ থেকে যে বিনিয়োগে নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিশ্রুত নগদ প্রবাহ না পাওয়ার কোনো শঙ্কা থাকে না, তাকে ঝুঁকিবিহীন সিকিউরিটি বলে। ট্রেজারি বিল যেহেতু সরাসরি সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইস্যু করে, তাই সরকার দেউলিয়া না হওয়া পর্যন্ত এতে বিনিয়োগের মূলধন হারানো বা সুদ না পাওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না।
22.
পুঁজি বাজারের উপাদানবহির্ভূত কোনটি?
পুঁজি বাজার বা মূলধন বাজারে শুধুমাত্র দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজ যেমন সাধারণ শেয়ার, অগ্রাধিকার শেয়ার এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণপত্র বা বন্ড কেনাবেচা হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যবসায় ঋণ (Trade Credit) হলো বাকিতে পণ্য ক্রয়ের ফলে সৃষ্ট একটি সম্পূর্ণ স্বল্পমেয়াদি স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নের উৎস, যা পুঁজি বাজারের কোনো কাঠামোগত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়।
23.
নিচের কোনটি মুদ্রা বাজারের হাতিয়ার?
মুদ্রা বাজারে এক বছরের কম মেয়াদের আর্থিক দলিলসমূহ লেনদেন হয়। বিনিময় বিল (Bill of Exchange) হলো একটি লিখিত শর্তহীন আদেশ যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের পর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানে বাধ্য থাকে। এটি একটি স্বল্পমেয়াদি দলিল হওয়ায় এটি মুদ্রা বাজারের একটি অন্যতম নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার।
24.
মূলধন বাজারের হাতিয়ার হচ্ছে-
মূলধন বাজারে এক বছরের অধিক মেয়াদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দলিল লেনদেন হয়। বাণিজ্যিক কাগজ, পুনঃক্রয় চুক্তি (রেপো) এবং ট্রেজারি বিল হলো স্বল্পমেয়াদি মুদ্রাবাজারের হাতিয়ার। অন্যদিকে, ট্রেজারি বন্ড হলো দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণপত্র যার মেয়াদ ২ বছর থেকে ২০ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তাই এটি মূলধন বাজারের হাতিয়ার।
25.
বাংলাদেশের মুদ্রা বাজার কোন প্রতিষ্ঠান দ্বারা সরাসরি নিয়ন্ত্রিত?
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অভিভাবক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রা বাজারকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম তদারকি, সংবিধিবদ্ধ জমার হার (SLR, CRR) নির্ধারণ এবং ট্রেজারি বিল ইস্যুর মাধ্যমে বাজারে অর্থের তারল্য ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে মুদ্রা বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখে।
26.
সিকিউরিটি ইস্যু ও বিক্রির মোট খরচকে কী বলে?
যখন কোনো কোম্পানি শেয়ার বা বন্ড ইস্যু করে বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করে, তখন প্রসপেক্টাস ছাপানো, অবলেখকের কমিশন, আইনি ফি এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার জন্য যে বিপুল পরিমাণ খরচ হয় তাকে উত্তরণ ব্যয় বা ফ্লোটেশন কস্ট (Flotation Cost) বলা হয়। এটি মূলধন ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
27.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর কত সালে পুনরায় শেয়ারবাজারের কার্যক্রম শুরু হয়?
১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্বাধীনতা লাভের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয় এবং দীর্ঘ ৫ বছর পর ১৯৭৬ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরায় তার আনুষ্ঠানিক লেনদেন ও শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হয়।
28.
যে বাজারে শুধু বিনিয়োগকারীদের মধ্যে লেনদেন হয় তাকে কী বলে?
যখন কোনো বিনিয়োগকারী প্রাথমিক বাজার থেকে আইপিও-এর মাধ্যমে ক্রয়কৃত শেয়ার অন্য কোনো বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রি করতে চান, তখন তাকে মাধ্যমিক বাজার বা সেকেন্ডারি মার্কেটে যেতে হয়। এই বাজারে ইস্যুকারী কোম্পানি সরাসরি কোনো তহবিল পায় না, বরং শুধুমাত্র বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ারের হাতবদল বা ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে থাকে।
29.
শেয়ারের দাম বাড়লে সূচক-
শেয়ার বাজারের সূচক বা ইনডেক্স হলো বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার মূল্যের গড় পরিবর্তনের একটি গাণিতিক নির্দেশক। বাজারে যখন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পায় এবং বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ের চাপ বাড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাজারের সামগ্রিক মূলধন বাড়ে, যার ফলস্বরূপ শেয়ার বাজারের মূল সূচকটিও ঊর্ধ্বমুখী হয় বা বাড়তে থাকে।
30.
লিখিত মুল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে শেয়ার বিক্রি করা হলে তাকে কী বলে?
একটি কোম্পানির শেয়ারের গায়ে যে ফেস ভ্যালু বা লিখিত মূল্য উল্লেখ থাকে, তার চেয়ে বেশি মূল্যে শেয়ার বিক্রি করাকে শেয়ার অধিহার বা প্রিমিয়াম (Premium) বলা হয়। সাধারণত যেসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা খুব ভালো এবং বাজারে প্রচুর সুনাম রয়েছে, কেবল তারাই বিনিয়োগকারীদের কাছে অধিহারে তাদের শেয়ার বিক্রি করতে সক্ষম হয়।
31.
মূলধন বাজারে কোন ধরনের বিনিয়োগ হয়ে থাকে?
আর্থিক বাজারের যে অংশে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের আদান-প্রদান ঘটে, তাকে মূলধন বাজার বলা হয়। এই বাজারে সাধারণত সাধারণ শেয়ার, অগ্রাধিকার শেয়ার এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের মতো সিকিউরিটিজগুলোর লেনদেন হয়, যেগুলোর মেয়াদ এক বছরের অনেক বেশি হয়। তাই কর্পোরেশনগুলো তাদের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মূলধন বাজার থেকেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সংগ্রহ করে।
32.
বাংলাদেশে ব্যাংকিং কোম্পানি আইনটি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক এবং কাঠামোগত আইনি রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে 'ব্যাংক কোম্পানি আইন' প্রতিষ্ঠিত এবং কার্যকর করা হয়। এই যুগান্তকারী আইনের আলোকেই বর্তমানে দেশের সকল রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে তাদের দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
33.
বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হয় কোন সালে?
বাংলাদেশের বিমা শিল্পকে যুগোপযোগী, সুশৃঙ্খল এবং গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে 'বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন' পাশ হয়। এই আইনের অধীনেই ২০১০ সালে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (IDRA) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দেশের সকল জীবন বিমা এবং সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর সার্বিক কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
34.
বাংলাদেশে প্রচলিত কোম্পানি আইন কত সালের?
বাংলাদেশে বর্তমানে যৌথ মূলধনী কোম্পানিগুলোর গঠন, নিবন্ধন, পরিচালনা এবং বিলোপসাধন ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এটি মূলত ব্রিটিশ ভারতের ১৯১৩ সালের কোম্পানি আইনের একটি সংশোধিত ও আধুনিক সংস্করণ। দেশের সকল প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে এই ১৯৯৪ সালের আইনটি কঠোরভাবে মেনে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।
35.
ব্যাংকিং অংশীদারি ব্যবসায়ের সর্বোচ্চ সদস্য কতজন হতে পারে?
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন এবং কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী, সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন হতে পারে। কিন্তু ব্যবসায়টি যদি ব্যাংকিং প্রকৃতির হয়, তবে আইন অনুযায়ী এর সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা কোনোভাবেই ১০ জনের বেশি হতে পারবে না, এটি একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা।
36.
মানি লন্ডারিং বলতে বোঝায়-
মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার হলো এমন একটি মারাত্মক অর্থনৈতিক অপরাধ যেখানে চোরাচালান, দুর্নীতি বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত কালো টাকাকে বিভিন্ন জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ বা সাদা টাকায় রূপান্তরিত করে গোপনে বিদেশে প্রেরণ করা হয়। এটি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ একটি বেআইনি প্রক্রিয়া।