Practice Questions

Total Questions: 43

21.
বদরের যুদ্ধে কতজন মুসলিম অংশগ্রহন করে?
দ্বিতীয় হিজরীতে সংঘটিত ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন। এই ক্ষুদ্র ও স্বল্প অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী নিয়েই মহানবী (স.) মক্কার আবু জাহেলের নেতৃত্বাধীন প্রায় এক হাজার জনের বিশাল ও সুসজ্জিত কুরাইশ বাহিনীর মোকাবিলা করেন এবং আল্লাহর সাহায্যে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেন, তাই অপশন ৪ সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, ৬১৩, ৫৩ বা ৪১৩ সংখ্যাগুলোর কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই এবং এগুলো বদর যুদ্ধের মুসলিম সৈন্যসংখ্যার কোনো প্রামাণ্য দলিলে পাওয়া যায় না। ফলশ্রুতিতে, ইসলামি ইতিহাসের পরিসংখ্যানগত তথ্য বিশ্লেষণ করলে অপশন ১, ২ এবং ৩ পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও ভুল প্রমাণিত হয়।
22.
মদিনা সনদ' কী?
মদিনা সনদ' হলো ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) কর্তৃক প্রণীত একটি ঐতিহাসিক লিখিত সংবিধান বা 'চুক্তি'। মদিনায় হিজরতের পর মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান এবং পৌত্তলিকসহ সকল ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই রাজনৈতিক চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছিল, তাই অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, এটি কোনো সাহিত্যিক কর্ম যেমন কবিতা বা মহাকাব্য নয়। একইসাথে এটি ইবাদতের স্থান বা মসজিদও নয়, বরং এটি একটি আইনি ও রাজনৈতিক দলিল। সুতরাং, মদিনা সনদের মৌলিক সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অপশন ১, ৩ এবং ৪ যৌক্তিকভাবে ভুল।
23.
মদিনা সনদে কতটি শর্ত ছিল?
পৃথিবীর প্রথম লিখিত রাষ্ট্রীয় সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত 'মদিনা সনদে' মোট ৪৭টি শর্ত বা ধারা সন্নিবেশিত ছিল। মহানবী (স.) মদিনায় বসবাসরত মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য অমুসলিম গোত্রগুলোর মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক সুরক্ষার জন্য এই ৪৭টি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে চুক্তিটি প্রণয়ন করেছিলেন, তাই অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, ৪০, ৫০ বা ৫৭ সংখ্যাগুলো মদিনা সনদের ধারার সংখ্যার সাথে সম্পর্কিত নয়। ঐতিহাসিক দলিল ও ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থে এই সনদের যে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়া যায়, সেখানে ধারার সংখ্যা ৪৭-ই উল্লেখ রয়েছে। তাই অপশন ১, ৩ এবং ৪ তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ ভুল।
24.
মহনবী (সঃ) কতটি যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন?
মহানবী (স.) তাঁর জীবদ্দশায় মোট ২৭টি গাজওয়া বা সামরিক অভিযানে স্বয়ং নেতৃত্ব দিলেও, এর সবগুলোতে প্রত্যক্ষভাবে তরবারি চালনা বা সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি মাত্র ৯টি যুদ্ধে শত্রুপক্ষের সাথে সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করেছিলেন (যেমন বদর, উহুদ, খন্দক ইত্যাদি), তাই অপশন ৩ সঠিক উত্তর। অন্যদিকে, ২৭টি হলো তাঁর পরিচালিত মোট অভিযানের সংখ্যা, যেখানে অনেক সময় বিনা যুদ্ধেই শত্রুরা পিছু হটেছিল। ২৫ এবং ২৪ সংখ্যা দুটির সাথে মহানবীর (স.) প্রত্যক্ষ যুদ্ধ অংশগ্রহণের কোনো ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানগত মিল নেই। ফলে যৌক্তিক বিশ্লেষণে অপশন ১, ২ এবং ৪ ভুল।
25.
মহানবি (স) কোথায় বিদায় হজের ভাষণ দেন?
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) দশম হিজরিতে (৬৩২ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর জীবনের সর্বশেষ হজ পালন করেন এবং ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত 'জাবালে রহমত' বা দয়ার পাহাড়ে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ প্রদান করেন। নির্দিষ্ট স্থানের উল্লেখ থাকায় অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, কাবা চত্বর হলো মক্কার পবিত্র মাসজিদুল হারামের অংশ যেখানে তাওয়াফ করা হয়। সাফা পর্বত সাঈ করার স্থান এবং আরাফাত একটি বিস্তৃত ময়দান যার নির্দিষ্ট পাহাড় হলো জাবালে রহমত। আরাফাত ময়দান হলেও যেহেতু জাবালে রহমত সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্দেশ করে, তাই কাবা চত্বর, সাফা পর্বত এবং কেবল আরাফাত (সুনির্দিষ্ট পাহাড় বাদে) অপশন হিসেবে ভুল।
26.
মহানবী (স) কত বছর বয়সে নবুয়্যত পান?
ঐতিহাসিক ও সীরাত গ্রন্থগুলোর সর্বসম্মত মতামত অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) যখন পরিণত বয়সে উপনীত হন, ঠিক তখন অর্থাৎ তাঁর ৪০ বছর বয়সে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নবুয়্যত লাভ করেন। হেরা গুহায় ধ্যানরত অবস্থায় জিব্রাইল (আঃ) সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে আসেন, তাই অপশন ১ সঠিক। অন্যদিকে, ৩০ বছর বয়সে তিনি সমাজ সংস্কারমূলক বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু নবুয়্যত পাননি। ৪৫ বা ৪২ বছর বয়সটিও ঐতিহাসিক সত্যের পরিপন্থী, কারণ নবুয়্যতের পর তিনি মক্কায় ১৩ বছর অবস্থান করেছিলেন। বয়স সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অপশন ২, ৩ এবং ৪ ভুল।
27.
মহানবী (স) কত সালে মেরাজে যান?
ঐতিহাসিকদের মতে এবং নির্ভরযোগ্য সীরাত গ্রন্থগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুয়্যত প্রাপ্তির দশম বা একাদশ বছরে, অর্থাৎ ৬২০ খ্রিস্টাব্দের রজব মাসে ঐতিহাসিক মেরাজ বা ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেন। এই বছরটি তাঁর জীবনের অত্যন্ত দুঃখের বছর বা 'আমুল হুযন' ছিল, যার পরপরই এই অলৌকিক ঘটনা ঘটে, তাই অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, ৬১০ সালে তিনি প্রথম নবুয়্যত বা ওহী লাভ করেন, ৬২২ সালে তিনি মক্কা থেকে মদিনায় ঐতিহাসিক হিজরত করেন এবং ৬৩২ সালে তিনি বিদায় হজ পালন শেষে ইন্তেকাল করেন। ফলে সালগুলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অপশন ১, ৩ এবং ৪ ভুল।
28.
মহানবী (স) কোন গোত্রে জন্ম গ্রহণ করেন?
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) আরবের মক্কা নগরীর সবচেয়ে মর্যাদাবান ও অভিজাত কুরাইশ বংশের 'বনু হাশেম' বা হাশেমীয় গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রপিতামহ হাশিমের নামানুসারে এই গোত্রের নামকরণ করা হয়েছিল, যারা কাবার রক্ষণাবেক্ষণ ও হাজীদের সেবার পবিত্র দায়িত্ব পালন করতেন, তাই অপশন ৩ সঠিক। অন্যদিকে, তাইম গোত্র ছিল হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর বংশ। উমাইয়া গোত্র কুরাইশদের আরেকটি শাখা হলেও এটি মহানবীর (স.) সরাসরি গোত্র ছিল; বরং এই গোত্রের সাথে হাশেমীয়দের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব ছিল। সুনির্দিষ্ট বংশলতিকার প্রমাণের ভিত্তিতে অপশন ১, ২ এবং ৪ যৌক্তিকভাবেই ভুল বিকল্প হিসেবে গণ্য হবে।
29.
মহানবী (স) কোন সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন?
হারবুল ফিজার বা অন্যায় সমরের ভয়াবহতা ও রক্তপাত দেখে তরুণ মুহাম্মদ (স.) অত্যন্ত ব্যথিত হন। আরবে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মজলুমকে সাহায্য করা এবং রক্তপাত বন্ধ করার মহান উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর সমমনা যুবকদের নিয়ে 'হিলফুল ফুজুল' (শান্তি সংঘ) নামক একটি ঐতিহাসিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, তাই অপশন ৩ সঠিক। অন্যদিকে, জাতিসংঘ হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আধুনিক আন্তর্জাতিক সংস্থা। গোত্র সংঘ নামে সুনির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক সংগঠন তিনি প্রতিষ্ঠা করেননি। যেহেতু হিলফুল ফুজুল একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সত্য, তাই অন্য কোনো বিকল্প সঠিক হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে অপশন ১, ২ এবং ৪ ভুল।
30.
মহানবী (স.) এর প্রথমা স্ত্রী ছিলেন-[NU-Humanities: 09-10]
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) মাত্র ২৫ বছর বয়সে মক্কার ধনাঢ্য ও সম্মানিতা বিধবা নারী হযরত খাদীজাকে (রাঃ) প্রথম বিবাহ করেন। তাঁর জীবদ্দশায় মহানবী (স.) অন্য কোনো নারীকে বিবাহ করেননি, তাই ঐতিহাসিকভাবে হযরত খাদীজা (রাঃ) হলেন তাঁর প্রথমা স্ত্রী (অপশন ২)। অন্যদিকে, হযরত আয়েশা (রাঃ) ছিলেন তাঁর তৃতীয় স্ত্রী, যাঁকে তিনি হিজরতের পর মদিনায় বিবাহ করেন। হযরত হাফসা (রাঃ) এবং হযরত যয়নব (রাঃ)-ও ছিলেন মহানবীর (স.) মদিনা জীবনের পরবর্তী স্ত্রীগণ। যেহেতু এই তিনজন স্ত্রীর কেউই মহানবীর (স.) জীবনের প্রথম বিবাহিত স্ত্রী নন, তাই ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে অপশন ১, ৩ এবং ৪ যৌক্তিকভাবে ভুল।
31.
মহানবী (সঃ) কতটি যুদ্ধ পরিচালনা করেন?
ইসলামি ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ও সীরাত বিশারদদের মতে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) মদিনায় হিজরতের পর তাঁর জীবদ্দশায় সর্বমোট ২৭টি সামরিক অভিযান বা যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। যেসব যুদ্ধে তিনি নিজে সেনাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সেগুলোকে 'গাজওয়া' বলা হয়, তাই ২৭ সংখ্যাটি সঠিক (অপশন ২)। অন্যদিকে, ৯টি হলো সেইসব যুদ্ধের সংখ্যা যেগুলোতে প্রত্যক্ষভাবে সম্মুখ সমরে সশস্ত্র লড়াই সংঘটিত হয়েছিল। ২৫ বা ২৪ সংখ্যাগুলো গাজওয়ার সঠিক ঐতিহাসিক গণনার সাথে কোনোভাবেই মেলে না। সুতরাং সঠিক ঐতিহাসিক দলিল ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে অপশন ১, ৩ এবং ৪ ভুল উত্তর হিসেবে প্রমাণিত।
32.
মহানবীর (স.) হিজরতের আগে মদীনায় যে দুটি গোত্রের মধ্যে প্রবল বিবাদ ছিল সেগুলো হলো-[NU-Humanities: 11-12]
প্রাক-ইসলামি যুগে মদিনায় (তৎকালীন ইয়াসরিব) বসবাসকারী প্রধান দুটি আরব গোত্র ছিল আউস ও খাজরাজ। এই দুই গোত্রের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে প্রবল সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ (যেমন বুয়াসের যুদ্ধ) চলমান ছিল। পরবর্তীতে মহানবী (স.) মদিনা সনদের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন, ফলে অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, উমাইয়া ও আব্বাসীয়, এবং উমাইয়া ও হাশেমীয় হলো মূলত মক্কার কুরাইশ বংশের বিভিন্ন শাখা, যাদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ইসলাম পরবর্তী যুগে বা খিলাফত আমলে দেখা যায়। কুরাইশ ও কায়েস গোত্রও মদিনার স্থানীয় বাসিন্দা ছিল না। সুতরাং অপশন ১, ৩ এবং ৪ সম্পূর্ণরূপে ভুল ও ভিত্তিহীন।
33.
মুসলিমদের মক্কা বিজয় সংঘটিত হয়-[NU-Humanities: 09-10]
মুসলিমদের ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় সংঘটিত হয়েছিল অষ্টম হিজরীর রমজান মাসে, যা ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে পড়ে। কুরাইশরা হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করলে মহানবী (স.) দশ হাজার সাহাবীর এক বিশাল বাহিনী নিয়ে প্রায় রক্তপাতহীনভাবে মক্কা জয় করেন, তাই অপশন ৩ সঠিক। অন্যদিকে, ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে বদর যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়, ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে হুদায়বিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় এবং ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (স.) বিদায় হজ পালন করেন ও তাঁর ওফাত লাভ হয়। যেহেতু এই সালগুলো মক্কা বিজয়ের প্রকৃত সময়ের সাথে মিলে না, তাই যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপশন ১, ২ এবং ৪ ভুল উত্তর হিসেবে বিবেচিত হবে।
34.
মুহাম্মদ (স) এর সাথে মদীনায় হিযরতকারীদের কী বলে?
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে যে সকল মুসলিম নিজেদের সহায়-সম্বল ত্যাগ করে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন, ইসলামি পরিভাষায় তাঁদেরকে 'মুহাজিরীন' (প্রশ্নে মুহারেজীন লেখা হয়েছে) বলা হয়। আরবি 'হিজরত' শব্দ থেকে এই নামের উৎপত্তি, তাই অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, মদিনার যে স্থানীয় মুসলিমরা এই হিজরতকারীদের আশ্রয় ও সাহায্য দিয়েছিলেন তাঁদের বলা হয় 'আনসার'। যুদ্ধে জয়ী হয়ে ফিরে আসা মুসলিম যোদ্ধাদের বলা হয় 'গাজী'। আর যারা মুখে ঈমানের দাবি করলেও অন্তরে কুফরি পোষণ করত, তারা হলো 'মুনাফেকীন'। সুতরাং সংজ্ঞাগত দিক থেকে অপশন ১, ৩ এবং ৪ সম্পূর্ণরূপে ভুল।
35.
মুহাম্মদ (স) কত খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন?
অধিকাংশ ঐতিহাসিক এবং সীরাত রচয়িতাদের সর্বসম্মত মতানুসারে, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) আরবের মক্কা নগরীতে ১২ রবিউল আউয়াল মোতাবেক ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। এই বছরটি আরবে 'আমুল ফীল' বা হস্তীর বছর নামেও ব্যাপকভাবে সমাদৃত, যা অপশন ২-কে সঠিক উত্তর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। অন্যদিকে, ৫৬০ খ্রিস্টাব্দের সাথে তাঁর জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। ৬২০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মেরাজ সংঘটিত হয় এবং ৬৭০ খ্রিস্টাব্দে তিনি পৃথিবীতে জীবিত ছিলেন না (৬৩২ খ্রি. ওফাত)। কালানুক্রমিক ও জীবনীভিত্তিক অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাই অপশন ১, ৩ এবং ৪ সম্পূর্ণরূপে ভুল এবং অসত্য।
36.
মেরাজ শব্দের অর্থ কী?
আরবি 'মেরাজ' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সিঁড়ি বা 'ঊর্ধ্বে গমন' করার মাধ্যম। ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) যে অলৌকিক সফরে রাতের বেলায় মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সশরীরে ঊর্ধ্বাকাশে বা সপ্ত আসমান পেরিয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন করেছিলেন, তাকেই শবে মেরাজ বলা হয়, তাই অপশন ৩ সঠিক। অন্যদিকে, অদৃশ্য হওয়া বা গায়েব হয়ে যাওয়ার সাথে মেরাজের ভাষাগত কোনো মিল নেই। এটি একটি অলৌকিক ঘটনা হলেও 'মেরাজ' শব্দের সরাসরি অর্থ অলৌকিক ক্ষমতা নয়। যেহেতু 'ঊর্ধ্বে গমন' আভিধানিক ও পারিভাষিক উভয় অর্থেই সঠিক, তাই অপশন ১, ২ এবং ৪ ভুল বিকল্প।
37.
যুন্নুরাইন' কার উপাধি?
আরবি 'যুন্নুরাইন' শব্দের অর্থ হলো 'দুই জ্যোতির অধিকারী'। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রাঃ) পর্যায়ক্রমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দুই কন্যা রুকাইয়া (রাঃ) এবং উম্মে কুলসুম (রাঃ)-কে বিবাহ করার অনন্য সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন বলে তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়, তাই অপশন ৩ সঠিক। অন্যদিকে, হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর উপাধি 'সিদ্দিক', হযরত ওমর (রাঃ)-এর উপাধি 'ফারুক' এবং হযরত আলী (রাঃ)-এর উপাধি 'আসাদুল্লাহ' হিসেবে সর্বজনবিদিত। যেহেতু অন্য কোনো সাহাবী মহানবীর (স.) দুই কন্যাকে বিবাহ করার এই বিশেষ মর্যাদা লাভ করেননি, তাই অপশন ১, ২ এবং ৪ ঐতিহাসিকভাবে ভুল।
38.
সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান কোনটি?
পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ ও লিখিত রাষ্ট্রীয় সংবিধান হিসেবে 'মদিনা সনদ' স্বীকৃত। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (স.) মদিনায় হিজরতের পর সেখানকার সকল ধর্ম ও গোত্রের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে ৪৭টি ধারা সম্বলিত এই ঐতিহাসিক সনদ প্রণয়ন করেন, যা অপশন ১ কে সঠিক প্রমাণ করে। অন্যদিকে, ব্রিটেনের ম্যাগনা কার্টা (১২১৫), আমেরিকান সংবিধান (১৭৮৭) এবং ফরাসি সংবিধান অনেক পরের যুগে রচিত আধুনিক রাজনৈতিক দলিল। যেহেতু এই আধুনিক আইন বা দলিলগুলো সপ্তম শতাব্দীর মদিনা সনদের শত শত বছর পর প্রণীত হয়েছে, তাই কালানুক্রমিক ও ঐতিহাসিক বিচারে অপশন ২, ৩ এবং ৪ সুস্পষ্টভাবে ভুল।
39.
সাইফুল্লাহ' কার উপাধি?
সাইফুল্লাহ' বা 'আল্লাহর তরবারি' হলো ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদের উপাধি। মুতার যুদ্ধে তাঁর অসামান্য সামরিক প্রজ্ঞা এবং বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেখে মহানবী (স.) তাঁকে এই বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন, যার ফলে অপশন ১ সঠিক। অন্যদিকে, হযরত আলী (রাঃ)-এর উপাধি ছিল 'আসাদুল্লাহ' (আল্লাহর সিংহ)। হযরত ওমর (রাঃ)-এর উপাধি ছিল 'আল-ফারুক' এবং হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর উপাধি ছিল 'সিদ্দিক' (মহাসত্যবাদী)। যেহেতু এই সাহাবীদের নিজস্ব আলাদা ও সুনির্দিষ্ট উপাধি রয়েছে যা সাইফুল্লাহ থেকে ভিন্ন, তাই যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপশন ২, ৩ এবং ৪ সুস্পষ্টভাবেই ভুল বিকল্প।
40.
হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কত সালে মদীনায় হিজরত করেন?
মক্কার কুরাইশদের মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচার এবং হত্যার ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহর নির্দেশে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মক্কা ত্যাগ করে ইয়াসরিব বা মদিনায় হিজরত করেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে ইসলামি বা হিজরী বর্ষপঞ্জির গণনা শুরু হয়, তাই অপশন ৪ সঠিক। অন্যদিকে, ৬১০ সালে তিনি হেরা গুহায় প্রথম নবুয়্যত লাভ করেন, ৬১২ সালে তিনি প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার শুরু করেন এবং ৬২০ সালে তায়েফ গমন ও মেরাজের ঘটনা সংঘটিত হয়। যেহেতু হিজরতের প্রকৃত কাল ৬২২ খ্রিস্টাব্দ, তাই ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে অপশন ১, ২ এবং ৩ নিশ্চিতভাবে ভুল।