Practice Questions

Total Questions: 27

1.
DNA বলতে বোঝায়- [NU-Humanities: 09-10]
জীববিজ্ঞানের পরিভাষায় DNA-এর পূর্ণরূপ হলো 'ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড' (Deoxyribonucleic Acid)। এটি জীবের জেনেটিক বা বংশগত বৈশিষ্ট্যের প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করে, যা কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। এর রাসায়নিক গঠনে ডিঅক্সিরাইবোজ সুগার থাকে বলেই একে এই নামে ডাকা হয়, তাই অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, ডি সালফার এসিড (অপশন ১) বলতে রসায়নে কোনো সুপরিচিত বা প্রাসঙ্গিক জৈব যৌগ নেই। ডি ইউরোনিয়াম এসিড (অপশন ৩) সম্পূর্ণ একটি কাল্পনিক নাম যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এছাড়া ডি নিউক্লিয়ার এসিড (অপশন ৪) নামের কোনো রাসায়নিক উপাদান জীবদেহে পাওয়া যায় না, সঠিক পরিভাষাটি নিউক্লিক অ্যাসিড। বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে তাই অপশন ১, ৩ এবং ৪ সুস্পষ্টভাবে ভুল।
2.
Siamese twins' বলা হয়-
চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় 'Siamese twins' বলতে সেই সকল যমজ শিশুদের বোঝায় যারা মাতৃগর্ভে থাকার সময় শারীরিকভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে সিয়াম (বর্তমান থাইল্যান্ড) দেশে জন্মগ্রহণকারী চ্যাং এবং এং নামক দুই যুক্তদেহী যমজ ভাইয়ের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি থেকে এই নামের উৎপত্তি, তাই অপশন ৪ (যুক্তদেহী যমজ) সঠিক। অন্যদিকে, ভিন্ন যমজ (Fraternal twins) আলাদা দুটি ডিম্বাণু থেকে তৈরি হয়। অভিন্ন যমজ (Identical twins) একটি ডিম্বাণু থেকে তৈরি হলেও তারা সাধারণত সম্পূর্ণ আলাদা দেহ নিয়ে জন্মায়। জোড়া অভিন্ন বলতে কোনো সুনির্দিষ্ট মেডিকেল টার্ম নেই। তাই গঠনগত সংজ্ঞায় অপশন ১, ২ এবং ৩ ভুল।
3.
X ও Y ক্রোমোজমকে কী বলা হয়?
মানবদেহের ক্রোমোজমগুলোকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজম বা যৌন ক্রোমোজম। X এবং Y ক্রোমোজম সরাসরি একজন মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ করে (যেমন XX হলে নারী এবং XY হলে পুরুষ), তাই এদেরকে যৌন ক্রোমোসোম বলা হয়, যা অপশন ২-কে সঠিক প্রমাণ করে। অন্যদিকে, অটোসোম বা অটোজোম হলো লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজম বাদে বাকি ২২ জোড়া ক্রোমোজম যা দেহের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। জিন হলো ক্রোমোজমের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্রতম অংশ। আর জননকোষ হলো শুক্রাণু বা ডিম্বাণু যা ক্রোমোজম বহন করে। তাই সংজ্ঞাগত দিক থেকে অপশন ১, ৩ এবং ৪ সম্পূর্ণ ভুল।
4.
x ক্রোমোজমের ডিম্বাণু y ক্রোমোজমের শুক্রাণুর সাথে মিলিত হলে সন্তানটি হয়
মানব প্রজননে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ নির্ভর করে পুরুষের শুক্রাণুর ওপর। যখন মায়ের দিক থেকে আসা X ক্রোমোজমবাহী ডিম্বাণু এবং বাবার দিক থেকে আসা Y ক্রোমোজমবাহী শুক্রাণুর মধ্যে নিষেক ঘটে, তখন সৃষ্ট জাইগোটের সেক্স ক্রোমোজম বিন্যাস হয় XY। আর জীববিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী XY ক্রোমোজম বিন্যাস সর্বদা 'ছেলে' সন্তানের জন্ম দেয়, তাই অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, নিষেকে X শুক্রাণু ও X ডিম্বাণু মিলিত হলে XX বিন্যাস তৈরি হয়, যা মেয়ে সন্তান নির্দেশ করে। যমজ সন্তান তৈরি হয় ভিন্ন প্রক্রিয়ায় (যেমন একটি ডিম্বাণু ভেঙে গেলে বা দুটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে), এর সাথে কেবল লিঙ্গ নির্ধারণের সম্পর্ক নেই। তাই অপশন ১, ৩ এবং ৪ ভুল।
5.
অভিন্ন যমজদের নিয়ে পরীক্ষণ করেন-
বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত জীববিজ্ঞানী এবং বংশগতিবিদ হোরেশিও হ্যাকেট নিউম্যান (H.H. Newman) অভিন্ন যমজদের ওপর তাঁর বিখ্যাত গবেষণার জন্য সুপরিচিত। তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা মিলে প্রমাণ করেছিলেন যে, মানব বিকাশে বংশগতি এবং পরিবেশ কীভাবে আলাদা প্রভাব ফেলে, তাই অপশন ১ সঠিক। অন্যদিকে, গ্রেগর মেন্ডেল মটরশুঁটি গাছের ওপর গবেষণা করেছিলেন, যমজ শিশুদের ওপর নয়। মার্ক (কার্ল মার্কস) ছিলেন সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ, বিজ্ঞানের কোনো পরীক্ষণের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই। কার্ল রজার্স (রোজস) ছিলেন একজন মনস্তাত্ত্বিক যিনি ক্লায়েন্ট-কেন্দ্রিক থেরাপি নিয়ে কাজ করেছেন, যমজদের জিনতত্ত্ব নিয়ে নয়। ঐতিহাসিক গবেষণার ভিত্তিতে অপশন ২, ৩ এবং ৪ সম্পূর্ণ ভুল।
6.
অভিন্ন যমজদের যে বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে হুবহু মিল থাকে তা হলো-
অভিন্ন যমজ বা আইডেন্টিক্যাল টুইনস (Identical twins) মূলত একটিমাত্র নিষিক্ত ডিম্বাণু (জাইগোট) বিভাজিত হয়ে সৃষ্টি হয়। যেহেতু তারা একই জাইগোট থেকে উৎপন্ন, তাই তাদের DNA বা জেনেটিক কোড শতভাগ একই থাকে। এই কারণে তাদের 'বংশগত' বা জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে হুবহু মিল থাকে, যা অপশন ২-কে সঠিক প্রমাণ করে। অন্যদিকে, স্বভাবগত ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলো (অপশন ১ ও ৩) তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ, শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। পরিবেশগত উপাদানগুলো (অপশন ৪) কখনোই দুজন মানুষের ক্ষেত্রে হুবহু এক হতে পারে না। তাই অপশন ১, ৩ এবং ৪ যৌক্তিকভাবে ভুল উত্তর।
7.
কোনটিকে পূর্বে বংশগতির বাহক মনে করা হতো?
জিন বা DNA-এর গঠন আবিষ্কারের অনেক পূর্বে, বিজ্ঞানীরা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে কোষ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াসের ভেতরে সুতোর মতো কিছু কাঠামো দেখতে পান এবং তাঁরা প্রাথমিকভাবে এই 'ক্রোমোজম'-কেই বংশগতির প্রধান বাহক হিসেবে মনে করতেন। পরবর্তীতে প্রমাণিত হয় যে ক্রোমোজমের ভেতরে থাকা জিন বা DNA হলো প্রকৃত বাহক, তাই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অপশন ১ সঠিক। অন্যদিকে, প্রাণকেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস হলো কোষের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র, একে নির্দিষ্ট বাহক ভাবা হতো না। জিন হলো আধুনিক আবিষ্কৃত প্রকৃত বাহক, পূর্বের ধারণা নয়। ভ্রূণ হলো একটি প্রাথমিক জীব, এটি কোনো আণবিক স্তরের বাহক নয়। সুতরাং বিজ্ঞানের ইতিহাস অনুযায়ী অপশন ২, ৩ এবং ৪ ভুল।
8.
ক্রোমোজমের মধ্যে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রাসায়নিক পদার্থকে বলে-
ক্রোমোজমের অভ্যন্তরে অবস্থানকারী যে অতি সূক্ষ্ম জৈব রাসায়নিক অংশগুলো জীবের সুনির্দিষ্ট বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলো (যেমন চোখের রং, উচ্চতা) নিয়ন্ত্রণ করে এবং এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বহন করে, তাদেরকে 'জিন' বলা হয়। জিন হলো ক্রোমোজমের কার্যকরী একক, তাই অপশন ১ সঠিক। অন্যদিকে, DNA হলো সেই মূল রাসায়নিক অণু যা দিয়ে জিন এবং ক্রোমোজম গঠিত, কিন্তু সূক্ষ্ম কার্যকরী এককের প্রশ্নে জিন বেশি সুনির্দিষ্ট। RNA সাধারণত প্রোটিন সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখে, এটি ক্রোমোজমের মূল গঠনকারী উপাদান নয়। কোষ হলো জীবদেহের গঠন একক, এটি ক্রোমোজমের ভেতরে থাকে না বরং ক্রোমোজম কোষের ভেতরে থাকে। তাই অপশন ২, ৩ এবং ৪ ভুল।
9.
জিন শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন কে?
জিনতত্ত্বের ইতিহাসে ১৯০৯ সালে ডেনিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী উইলহেম জোহানসেন সর্বপ্রথম মেন্ডেলের প্রস্তাবিত বংশগতির একক বা 'ফ্যাক্টর'-কে বোঝাতে 'জিন' (Gene) শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ শব্দ দুটিরও প্রবর্তক, তাই অপশন ৪ সঠিক। অন্যদিকে, গ্রেগর মেন্ডেল বংশগতির সূত্র আবিষ্কার করলেও তিনি 'জিন' শব্দের বদলে 'ফ্যাক্টর' শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। হরগোবিন্দ খোরানা জেনেটিক কোড নিয়ে কাজ করে নোবেল পেয়েছেন, কিন্তু জিন শব্দ প্রবর্তন করেননি। রবার্ট হুক সর্বপ্রথম কোষ আবিষ্কার করেছিলেন, জিনের সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের এই স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অপশন ১, ২ এবং ৩ সম্পূর্ণরূপে ভুল।
10.
জীব কোষের প্রাণকেন্দ্রকে বলা হয়-
জীববিজ্ঞানে একটি আদর্শ ইউক্যারিওটিক কোষের সমস্ত জৈবিক কার্যাবলী এবং বংশগতির তথ্য যে গোলাকার অঙ্গাণুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে 'নিউক্লিয়াস' বলা হয়। কোষের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখান থেকে আসে বলে একে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়, তাই অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, প্রোটোপ্লাজম হলো কোষের ভিতরের সমস্ত সজীব তরল পদার্থ, এটি কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্র নয়। বংশগতির বাহক বলতে ক্রোমোজম বা জিনকে বোঝায়, যা নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে থাকে। আর কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের একক, এটি নিজে নিজের প্রাণকেন্দ্র হতে পারে না। তাই অপশন ১, ৩ এবং ৪ নিশ্চিতভাবে ভুল।
11.
জীবকোষে ক্রোমোজমের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন-
গ্রেগর মেন্ডেল তাঁর বিখ্যাত মটরশুঁটি পরীক্ষার মাধ্যমে সর্বপ্রথম কোষে বংশগতির ধারক 'ফ্যাক্টর'-এর অস্তিত্ব প্রমাণ করেন, যা পরবর্তীতে ক্রোমোজম ও জিন হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে, তাই প্রদত্ত অপশনগুলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অপশন ২ সবচেয়ে যৌক্তিক উত্তর। অন্যদিকে, কিংসলি ডেভিস ছিলেন একজন প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী, জীববিজ্ঞানী বা জিনতত্ত্ববিদ নন। কার্ল রজার্স (রোজর্স) ছিলেন একজন মানবতাবাদী মনোবিজ্ঞানী, যিনি সাইকোথেরাপি নিয়ে কাজ করেছেন। মার্ক (সম্ভবত কার্ল মার্কস) ছিলেন একজন দার্শনিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিবিদ। যেহেতু এঁদের কারোরই কোষবিদ্যা বা ক্রোমোজমের সাথে কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই, তাই অপশন ১, ৩ এবং ৪ সুস্পষ্টভাবেই ভুল বিকল্প।
12.
দিনা রাস্তায় পড়ে থাকা কলার খোসাটি ডাস্টবিনে ফেলল- এটি কোন ধরনের বিকাশ?
রাস্তায় পড়ে থাকা একটি কলার খোসা দেখে সেটি সরিয়ে ডাস্টবিনে ফেলা একটি দায়িত্বশীল ও মূল্যবোধ সম্পন্ন কাজ, যা ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা থেকে আসে। মানুষের এই ভালো কাজের প্রতি ঝোঁক বা উচিত-অনুচিত বোঝার ক্ষমতাই হলো 'নৈতিক বিকাশ' (Moral Development), তাই অপশন ২ সঠিক। অন্যদিকে, শারীরিক বিকাশ বলতে দৈহিক উচ্চতা বা ওজন বৃদ্ধি বোঝায়, যার সাথে এই কাজের সম্পর্ক নেই। সামাজিক বিকাশ বলতে সমাজে অন্যদের সাথে মেলামেশা বোঝায়, এখানে সরাসরি কোনো সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ঘটেনি। আবেগীয় বিকাশ হলো রাগ, ভয় বা ভালোবাসা নিয়ন্ত্রণ। সুতরাং সংজ্ঞাগতভাবে অপশন ১, ৩ এবং ৪ ভুল।
13.
নারীর জনন কোষের ক্রোমোজম হল- [NU-Humanities: 09-10]
মানবদেহের জেনেটিক বিন্যাস অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ডিপ্লয়েড কোষে যৌন ক্রোমোজম থাকে XX। মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে যখন নারীর জনন কোষ বা ডিম্বাণু (Gamete) তৈরি হয়, তখন ক্রোমোজম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। ফলে প্রতিটি ডিম্বাণুতে শুধুমাত্র একটি 'X' ক্রোমোজম থাকে, তাই অপশন ৩ সঠিক। অন্যদিকে, XY হলো একজন স্বাভাবিক পুরুষের যৌন ক্রোমোজমের বিন্যাস, যা নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। YY ক্রোমোজম বিন্যাস প্রাকৃতিকভাবে কোনো মানবকোষে তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। আর Y ক্রোমোজম শুধুমাত্র পুরুষের জনন কোষ বা শুক্রাণুতেই অবস্থান করে, নারীর ডিম্বাণুতে কখনোই Y ক্রোমোজম থাকে না। জিনতত্ত্বের এই অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে অপশন ১, ২ এবং ৪ সম্পূর্ণরূপে ভুল।
14.
পরিপক্কতার সাথে সম্পর্ক রয়েছে কীসের?
পরিপক্কতা বা Maturation হলো একটি স্বতঃস্ফূর্ত জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে প্রাণীর অন্তর্নিহিত জেনেটিক বৈশিষ্ট্যগুলো বিকশিত হয়। এই প্রক্রিয়ার সাথে প্রধানত বংশগতি বা জেনেটিক্সের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, কারণ বংশগতিই নির্ধারণ করে একজন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক পরিপক্কতার স্বাভাবিক গতিপথ কেমন হবে, তাই অপশন ৩ সঠিক। অন্যদিকে, পরিণমন (পরিপক্কতা) নিজেই একটি প্রক্রিয়া, তাই এর সাথে এর নিজেরই সম্পর্ক স্থাপন করা যৌক্তিক নয়। বয়স পরিপক্কতার একটি সময়কাল নির্দেশ করে, কিন্তু মূল চালিকাশক্তি নয়। শিক্ষণ একটি বাহ্যিক প্রক্রিয়া যা অনুশীলনের মাধ্যমে ঘটে, এটি অভ্যন্তরীণ পরিপক্কতা নয়। তাই অপশন ১, ২ এবং ৪ ভুল।
15.
প্রতিটি জনন কোষে ক্রোমোজম থাকে-
মানবদেহের প্রতিটি সাধারণ দেহকোষে (সোমাটিক কোষে) ডিপ্লয়েড বা ৪৬টি ক্রোমোজম থাকে। কিন্তু যখন জনন কোষ বা গ্যামেট (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) তৈরি হয়, তখন মিয়োসিস কোষ বিভাজনের কারণে ক্রোমোজম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। ফলে প্রতিটি জনন কোষে হ্যাপ্লয়েড সংখ্যক অর্থাৎ '২৩টি' ক্রোমোজম থাকে, তাই অপশন ৪ সঠিক। অন্যদিকে, ২২টি হলো মানবদেহের অটোজোমের জোড়া সংখ্যা, মোট ক্রোমোজম সংখ্যা নয়। ৪৩টি ক্রোমোজমের কোনো স্বাভাবিক মানব বায়োলজিক্যাল অস্তিত্ব বা তাৎপর্য নেই। আর ৪৬টি ক্রোমোজম থাকে দেহকোষে, জনন কোষে কখনোই ৪৬টি ক্রোমোজম থাকে না। তাই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে অপশন ১, ২ এবং ৩ সম্পূর্ণ ভুল।
16.
বংশগতির উদ্ভাবক কে?
জীববিজ্ঞানের শাখায় বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্সের জনক হিসেবে অস্ট্রিয়ান ধর্মযাজক ও বিজ্ঞানী গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে সর্বজনীনভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তিনি মটরশুঁটি গাছের ওপর দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে বংশগতির মৌলিক সূত্রগুলো (ল অব সেগ্রিগেশন এবং ল অব ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাসর্টমেন্ট) আবিষ্কার করেন, তাই অপশন ৪ সঠিক। অন্যদিকে, জন বি. ওয়াটসন ছিলেন মনোবিজ্ঞানের আচরণবাদী (Behaviorism) ধারার প্রতিষ্ঠাতা, বংশগতিবিদ্যার সাথে তাঁর কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পৃক্ততা নেই। ওডওয়ার্থ (উডওয়ার্থ) এবং মার্কুয়িস ছিলেন প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী, যারা মানুষের আচরণ ও মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন, জেনেটিক্স নিয়ে নয়। সুতরাং, ঐতিহাসিক এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে অপশন ১, ২ এবং ৩ পুরোপুরি ভুল উত্তর হিসেবে প্রমাণিত হয়।
17.
বংশগতির সত্যিকার বাহক কোনটি?
জীববিজ্ঞানের আধুনিক আবিষ্কার অনুযায়ী, বংশগতির সত্যিকার এবং সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কার্যকরী একক বা বাহক হলো 'জিন' (Gene)। জিন মূলত DNA-এর একটি নির্দিষ্ট অংশ যা পিতামাতা থেকে সন্তানে সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বহন করে নিয়ে যায়, তাই অপশন ১ সঠিক। অন্যদিকে, ক্রোমোসোম হলো জিনের ধারণকারী বৃহত্তর কাঠামো, এটি স্বয়ং সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের একক নয়। প্রাণকেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস কোষের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র, যা ক্রোমোসোম ধারণ করে, এটি সরাসরি বাহক নয়। জননকোষ (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) পুরো ক্রোমোজম সেট বহন করে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের আণবিক বাহক হলো জিন। সূক্ষ্মতম এককের সংজ্ঞায় তাই অপশন ২, ৩ এবং ৪ ভুল।
18.
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের ক্ষেত্রে কোন হরমোন ক্ষরিত হয়?
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের প্রধান নিয়ন্ত্রক হলো টেস্টোস্টেরন, যা মূলত 'এন্ড্রোজেন' নামক হরমোন গ্রুপের অন্তর্গত। এই হরমোনের প্রভাবেই ছেলেদের দাড়ি-গোঁফ গজায় এবং কণ্ঠস্বর ভারী হয়, তাই অপশন ৩ সঠিক। অন্যদিকে, থাইরক্সিন হরমোন থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয় যা নারী-পুরুষ উভয়ের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে, এটি বয়ঃসন্ধিকালের সুনির্দিষ্ট হরমোন নয়। এড্রিনালিন হরমোন উত্তেজনা বা ভয়ের সময় ক্ষরিত হয়, যা লিঙ্গভিত্তিক নয়। এস্ট্রোজেন হলো প্রধানত মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন। সুতরাং হরমোনের সুনির্দিষ্ট জৈবিক কার্যাবলীর ভিত্তিতে অপশন ১, ২ এবং ৪ সুস্পষ্টভাবে ভুল।
19.
মাতৃজনন কোষে যে ক্রোমোজম পাওয়া যায় তা হলো-
নারীদের ডিপ্লয়েড দেহকোষে সেক্স ক্রোমোজম থাকে XX। মাতৃজনন কোষ বা ডিম্বাণু উৎপাদনের সময় মিয়োসিস কোষ বিভাজন ঘটে, যার ফলে ক্রোমোজম জোড়া আলাদা হয়ে যায় এবং প্রতিটি ডিম্বাণু হ্যাপ্লয়েড আকার ধারণ করে। তাই প্রতিটি মাতৃজনন কোষে কেবলমাত্র একটি 'X' ক্রোমোজম পাওয়া যায়, ফলে অপশন ৪ সঠিক। অন্যদিকে, XX ক্রোমোজম জোড়া দেহকোষে থাকে, জনন কোষে নয়। XY হলো পুরুষের দেহকোষের ক্রোমোজম বিন্যাস, যা নারীর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। YY ক্রোমোজম বিন্যাস প্রাকৃতিকভাবে অসম্ভব এবং এটি মাতৃকোষে থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না। তাই জিনতত্ত্বের সুস্পষ্ট নিয়মে অপশন ১, ২ এবং ৩ ভুল।
20.
মানসিক চাপ সৃষ্টি হলে কোন গ্রন্থির হরমোন নিঃরসণ ব্যাহত হয়? [NL-Humanities: 24-25]
মানবদেহে তীব্র মানসিক চাপ বা স্ট্রেস সৃষ্টি হলে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস প্রভাবিত হয়, যা সরাসরি পিটুইটারি গ্রন্থির স্বাভাবিক হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে অ্যাড্রেনোকোর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH) ক্ষরিত হয় যা মানসিক চাপের সাথে সম্পর্কিত, তাই অপশন ৩ সঠিক। অন্যদিকে, থাইরয়েড গ্রন্থি মূলত শরীরের বিপাক বা মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে, মানসিক চাপের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। প্যারা-থাইরয়েড গ্রন্থি রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, যার সাথে মানসিক চাপের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অপশন ৪-এ উল্লিখিত 'এনাল' বলতে কোনো অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি মানবদেহে নেই (সম্ভবত এটি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির ভুল রূপ)। সুতরাং যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপশন ১, ২ এবং ৪ সম্পূর্ণ ভুল এবং বেমানান।