Subjects & Chapters

Practice Questions

Total Questions: 21

1.
"শক্তি নয়, ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি।"-উক্তিটি কার? [NU-Humanities: 14-15]
"শক্তি নয়, ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি" (Will, not force, is the basis of the state) উক্তিটি বিখ্যাত ব্রিটিশ আদর্শবাদী দার্শনিক টি. এইচ. গ্রিনের। তিনি মনে করতেন রাষ্ট্র কোনো জবরদস্তিমূলক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং জনগণের সাধারণ ইচ্ছার উপর প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে ফাইনার বা অন্যান্য আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ভিন্ন মতাদর্শের ছিলেন, ডেভিড হিউম অভিজ্ঞতাবাদের প্রবক্তা যিনি রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতাকে দেখেছেন, এবং লর্ড ব্রাইস গণতন্ত্র ও তুলনামূলক রাজনীতির বিশ্লেষক ছিলেন, তাই এই তিনজনের কেউই আদর্শবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রের ভিত্তিকে জনগণের ইচ্ছার সাথে সরাসরি এভাবে যুক্ত করেননি। সুতরাং সঠিক উত্তর ঘ।
2.
ফরাসি বিপ্লবের রাজনৈতিক ও দার্শনিক ভিত্তি কোন দার্শনিক প্রতিষ্ঠা করেন? [NU-Humanities: 12-13]
ফরাসি বিপ্লবের রাজনৈতিক ও দার্শনিক ভিত্তি মূলত জঁ-জাক রুশোর চিন্তাধারার উপর প্রতিষ্ঠিত, কারণ তার 'সামাজিক চুক্তি' বা 'Social Contract' তত্ত্ব ফরাসি জনগণকে সাম্য ও স্বাধীনতার প্রেরণায় ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল। অন্যদিকে টমাস হব্স ছিলেন রাজকীয় নিরঙ্কুশ ক্ষমতার সমর্থক যা বিপ্লবের আদর্শের পরিপন্থী। জন লক উদারতাবাদের জনক হলেও তিনি মূলত গৌরবময় বিপ্লবের (১৬৮৮) তাত্ত্বিক ভিত্তি গড়েছিলেন, ফরাসি বিপ্লবের নয়। আর লুইস হেনরি মর্গান ছিলেন একজন নৃবিজ্ঞানী, যিনি সমাজ বিবর্তনের তাত্ত্বিক কাঠামো নিয়ে কাজ করেছেন, ফরাসি বিপ্লবের রাজনৈতিক দর্শনের সাথে তার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। তাই সঠিক উত্তর গ।
3.
স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব' শ্লোগানটি কোন বিপ্লবের? [NU-Humanities: 11-12]
স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব' (Liberty, Equality, Fraternity) শ্লোগানটি ১৭৮৯ সালের ঐতিহাসিক ফরাসি বিপ্লবের মূল মন্ত্র ছিল, যা রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বব্যাপী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। অন্যদিকে ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব ছিল মূলত রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম যেখানে শ্রেণীহীন সমাজ গঠনের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ১৯৫৯ সালের কিউবা বিপ্লব ছিল ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে মার্কিন মদদপুষ্ট বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটানোর লড়াই, এবং ১৯৪৯ সালের চীন বিপ্লব মাও সে তুং-এর নেতৃত্বে কমিউনিস্ট সমাজ প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত ছিল। তাই ফরাসি বিপ্লব ছাড়া অন্য কোনো অপশন এখানে সঠিক নয়।
4.
Social Contract' গ্রন্থটির লেখক কে? [NU-Humanities: 10-11]
Social Contract' (সামাজিক চুক্তি) গ্রন্থটি ১৭৬২ সালে ফরাসি দার্শনিক জঁ-জাক রুশো রচনা করেন, যেখানে তিনি মানুষের প্রাকৃতিক স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের উৎপত্তির সম্পর্ক অত্যন্ত সাবলীলভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। অন্যদিকে লর্ড ব্রাইস 'Modern Democracies' গ্রন্থ রচনার জন্য পরিচিত, জে. ডব্লিউ. গার্নার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞায়ন ও 'Political Science and Government' গ্রন্থের জন্য বিখ্যাত। যদিও জন লক সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা, তার বিখ্যাত গ্রন্থের নাম 'Two Treatises of Government', তিনি 'Social Contract' শিরোনামে কোনো বই লেখেননি। তাই অন্যান্য অপশনগুলো যৌক্তিকভাবেই ভুল এবং রুশোই একমাত্র সঠিক উত্তর।
5.
রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় কত সালে? [NU-Humanities: 10-11]
রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব, যা বলশেভিক বিপ্লব বা অক্টোবর বিপ্লব নামেও ব্যাপকভাবে পরিচিত, ১৯১৭ সালে ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছিল, যার মাধ্যমে জারতন্ত্রের পতন ঘটে এবং বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৮ সালে রাশিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলমান ছিল কিন্তু মূল বিপ্লব তখন সংঘটিত হয়নি। ১৮১৭ সালে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের সেভাবে বিকাশই ঘটেনি। অন্যদিকে ১৯২০ সালে বিপ্লব পরবর্তী গৃহযুদ্ধের প্রায় শেষ পর্যায় চলছিল। সুতরাং ঐতিহাসিক তথ্য ও সময়কাল বিশ্লেষণ করলে ১৯১৮, ১৮১৭ বা ১৯২০ সাল কোনোভাবেই সঠিক নয়, ১৯১৭ সালই একমাত্র সঠিক উত্তর।
6.
"সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই"- উক্তিটি কার? [NU-Humanities:10-11]
"সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই" মানবতাবাদের এই অমোঘ বাণীটি মধ্যযুগের বিখ্যাত বৈষ্ণব পদকর্তা চন্ডীদাসের রচনা। তিনি তার কাব্যের মাধ্যমে ধর্ম বা জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের অন্তর্নিহিত সত্য ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন। বাউল সাধক লালন শাহ মানবতাবাদী গান রচনা করলেও এই নির্দিষ্ট উক্তিটি তার নয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানবতাবাদ নিয়ে অনেক সাহিত্য রচনা করলেও এটি তার পঙ্‌ক্তি নয়। আর কৃত্তিবাস ওঝা বাংলা ভাষায় রামায়ণ অনুবাদের জন্য বিখ্যাত, এই উক্তির সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই অন্য অপশনগুলো ভুল এবং চন্ডীদাস সঠিক।
7.
সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন হলো-
সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত, তাই এটি একটি উৎকৃষ্ট রাজনৈতিক মূল্যবোধ হিসেবে পরিগণিত হয়। সামাজিক মূল্যবোধ মূলত সমাজের আচার-আচরণ ও শিষ্টাচার যেমন বড়দের সম্মান করা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত সততা, ন্যায়-অন্যায় বোধ ও বিবেকের উপর নির্ভর করে। অন্যদিকে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সমাজ বা জাতির দীর্ঘদিনের শিল্প, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত। যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সরকার গঠন ও পরিচালনা সরাসরি রাজনীতির অংশ, তাই অন্য অপশনগুলো বাদ দিয়ে রাজনৈতিক মূল্যবোধকেই সঠিক উত্তর হিসেবে বেছে নিতে হবে।
8.
ইংরেজি 'Law' শব্দটির কোন টিউটনিক শব্দ থেকে এসেছে?
ইংরেজি 'Law' শব্দটি প্রাচীন টিউটনিক শব্দ 'Lag' থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যার আভিধানিক অর্থ হলো স্থির, অপরিবর্তনীয় বা যা সব জায়গায় সমানভাবে প্রযোজ্য। অন্যদিকে 'Low' একটি সাধারণ ইংরেজি শব্দ যার অর্থ নিচু, এটি কোনো মূল শব্দ নয়। 'Leg' শব্দটি লাতিন 'Lex' এর সাথে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে যেখান থেকে 'Legal' শব্দটি এসেছে, কিন্তু 'Law' এর উৎপত্তি সেখানে নয়। আর 'Log' বলতে কাঠের টুকরো বা হিসাব বোঝায় যার সাথে আইনের কোনো আভিধানিক বা ব্যুৎপত্তিগত সম্পর্ক নেই। তাই ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী অন্য বিকল্পগুলো সম্পূর্ণ ভুল।
9.
ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্ক নির্ধারণ করে কোন আইন?
নাগরিক জীবনে সমাজে বসবাসরত একজন ব্যক্তির সাথে অন্য আরেকজন ব্যক্তির পারস্পরিক অধিকার, চুক্তি, সম্পত্তি বা লেনদেন সংক্রান্ত সম্পর্ক নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেসরকারি আইন (Private Law) প্রয়োগ করা হয়। শাসনতান্ত্রিক বা সাংবিধানিক আইন রাষ্ট্রের গঠন এবং সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ক্ষমতা বণ্টন করে। প্রশাসনিক আইন রাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের রূপরেখা দেয়। আর ফৌজদারি আইন সমাজে অপরাধ দমন এবং শান্তিভঙ্গকারীদের শাস্তির বিধান নিশ্চিত করে। তাই ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্য তিনটি আইন প্রযোজ্য নয়, বেসরকারি আইনই সঠিক।
10.
কোন দেশের সাধারণ আইন প্রথানির্ভর?
গ্রেট ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্যের সাধারণ আইন (Common Law) এবং সংবিধান মূলত অলিখিত এবং এটি যুগ যুগ ধরে চলে আসা প্রথা, লোকাচার ও বিচারিক নজিরের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অন্যদিকে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর লিখিত সংবিধান রয়েছে যা প্রথা নির্ভর নয়। বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থাও ব্রিটিশদের তৈরি আইনের ভিত্তিতে গড়ে উঠলেও এটি বর্তমানে একটি লিখিত সংবিধান ও সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের দ্বারা পরিচালিত। ফ্রান্সের আইন ব্যবস্থাও পুরোপুরি লিখিত এবং কোড বা বিধিবদ্ধ আইনের (যেমন নেপোলিয়ন কোড) উপর নির্ভরশীল। তাই গ্রেট ব্রিটেন ছাড়া অন্যগুলো ভুল।
11.
আইন কী?
আইন হলো রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত, প্রণীত ও বলবৎযোগ্য এমন কিছু সুনির্দিষ্ট বিধান যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং যা অমান্য করলে রাষ্ট্রীয় শাস্তি ভোগ করতে হয়। প্রচলিত ধ্যান-ধারণা ও বিশ্বাস সমাজের মূল্যবোধ হতে পারে কিন্তু তা আইন নয় কারণ তাতে রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা নেই। শুধু 'বিধি' বলতে যেকোনো সাধারণ নিয়মকে বোঝাতে পারে যা রাষ্ট্রীয় নাও হতে পারে। প্রথা ও লোকাচার আইনের অন্যতম প্রাচীন উৎস হলেও রাষ্ট্র স্বীকৃতি না দিলে তা আইন হিসেবে গণ্য হয় না। তাই যৌক্তিক বিশ্লেষণে রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত বিধানই একমাত্র সঠিক উত্তর।
12.
অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার জন্য নিচের কোন আইনটি প্রয়োগ করা হয়?
রাষ্ট্রে সংঘটিত চুরি, ডাকাতি, খুন বা সমাজে শান্তি বিনষ্টকারী যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিচার ও অপরাধীকে শাস্তি প্রদানের জন্য ফৌজদারি আইন বা ক্রিমিনাল ল (Criminal Law) প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক আইন স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে, অপরাধীর শাস্তি নয়। সাংবিধানিক আইন রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো, নাগরিক অধিকার এবং সরকারের ক্ষমতা বণ্টন নিয়ে কাজ করে। দেওয়ানি আইন সাধারণত সম্পত্তি, চুক্তি বা ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে ব্যক্তিগত অধিকার সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা করে, শাস্তি প্রদান এর মূল লক্ষ্য নয়। তাই শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনই সঠিক বিকল্প।
13.
হেদায়া ও আলমগিরী কী?
হেদায়া' এবং 'ফতোয়া-ই-আলমগিরী' ইসলামী আইনশাস্ত্র বা ফিকাহর অত্যন্ত সুপরিচিত এবং প্রামাণ্য দুটি গ্রন্থ, যা মুসলিম আইনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে আদালতে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এগুলো নিশ্চিতভাবেই মুসলিম আইনগ্রন্থ। রোমান আইনের বিখ্যাত উদাহরণ হলো জাস্টিনিয়ান কোড বা টুয়েলভ টেবলস, তাই এটি রোমান গ্রন্থ নয়। হিন্দু আইনের উৎস হিসেবে মনুস্মৃতি বা মিতাক্ষরা ব্যবহৃত হয়, ফলে এটি হিন্দু আইনগ্রন্থ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। একইভাবে বৌদ্ধদের ধর্মীয় বা আইনগত গ্রন্থ ত্রিপিটকের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ঐতিহাসিক উৎস বিবেচনায় অন্য সবগুলো অপশন বাতিল হয়ে যায়।
14.
স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য বেশি প্রয়োজন-
নাগরিকদের স্বাধীনতাকে অবাধ, সুরক্ষিত ও অর্থবহভাবে উপভোগ করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো আইন, কারণ বিখ্যাত দার্শনিক জন লক বলেছেন "যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না" (Where there is no law, there is no freedom)। নৈতিকতা মানুষের অন্তরের ভালো-মন্দ বোধ জাগায় কিন্তু অধিকার রক্ষা করতে বাধ্য করতে পারে না। মূল্যবোধ সমাজকে সুন্দর করলেও আইনি সুরক্ষার অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথা কেবল সমাজের দীর্ঘদিনের অভ্যাস, যা পরিবর্তনশীল এবং এর পেছনে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম শক্তি থাকে না। তাই স্বাধীনতা রক্ষাকবচ হিসেবে আইনই সঠিক উত্তর।
15.
"আইন নিরাসক্ত অভিব্যক্তি" বলেছেন-
"আইন হলো আবেগ বর্জিত বা নিরাসক্ত অভিব্যক্তি" বা "Law is reason free from passion" বিখ্যাত এই উক্তিটি প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের, যা তিনি আইনের নৈর্ব্যক্তিক ও নিরপেক্ষ চরিত্রের ওপর জোর দিতে গিয়ে বলেছিলেন। তার গুরু প্লেটো আদর্শ রাষ্ট্রের কথা বললেও আইনের এমন সুনির্দিষ্ট আবেগহীন সংজ্ঞায়ন তিনি করেননি। ফরাসি দার্শনিক রুশো আইনকে সাধারণ ইচ্ছার (General Will) বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেছেন, নিরাসক্ত অভিব্যক্তি হিসেবে নয়। অন্যদিকে জন লক আইনকে স্বাধীনতা রক্ষার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাই অন্যান্য দার্শনিকদের তত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে এরিস্টটলই একমাত্র সঠিক উত্তর।
16.
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের অবস্থান-
পৌরনীতি ও সুশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের অবস্থান মূলত সমান্তরাল, কারণ এই দুটি ধারণা একই সাথে পাশাপাশি অগ্রসর হয় এবং একে অপরের অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে। যখন কোনো ব্যবস্থায় গণতন্ত্র বিকশিত হয়, তার সমান্তরালেই নাগরিকদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সম্প্রসারিত হয়। এগুলো সম্পূরক হলেও সমান্তরালভাবে চলার বিষয়টি এর অবিচ্ছেদ্য গতিপ্রকৃতিকে আরও গভীরভাবে নির্দেশ করে। অসমান্তরাল হলে একটির সাথে অন্যটির বিরোধ তৈরি হতো যা গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থী। সবগুলো অপশন একসাথে সঠিক হতে পারে না, তাই যৌক্তিকভাবে সমান্তরালই হলো প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর।
17.
"আইন রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে"।বলেছেন-
"আইন রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে" বা আইন কেবল রাষ্ট্রের সৃষ্টি নয় বরং এটি সামাজিক সংহতি ও নৈতিকতার বৃহত্তর ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, এই বহুল প্রচলিত ধারণাটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড জোসেফ লাস্কি (Laski) প্রদান করেছেন। জন অস্টিন সম্পূর্ণ বিপরীত মত পোষণ করতেন, তাঁর মতে আইন হলো সার্বভৌম বা রাষ্ট্রের নিছক আদেশ, অর্থাৎ রাষ্ট্রই আইনের ঊর্ধ্বে। হল্যান্ডও আইনকে রাজনৈতিক সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের প্রণীত নিয়ম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। অন্যদিকে রুশো আইনকে সাধারণ ইচ্ছার রূপ হিসেবে দেখলেও সরাসরি রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে বলার তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তিনি দেননি। তাই অস্টিন, হল্যান্ড বা রুশো নয়, বরং লাঙ্কিই (লাস্কি) সঠিক।
18.
"জনমত আইনের উৎস" উক্তিটি করেছেন-
আধুনিক শাসনব্যবস্থায় "জনমত আইনের অন্যতম প্রধান উৎস" এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ওয়াল্ড হেইম (ওপেনহেইম) প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি দেখিয়েছেন জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়। অন্যদিকে টমাস হব্স আইনকে শুধুই নিরঙ্কুশ সার্বভৌম শাসকের আদেশ হিসেবে দেখেছেন, জনমতের প্রতিফলন হিসেবে নয়। হল্যান্ড আইনের উৎস হিসেবে মূলত বিচারিক নজির ও প্রথাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। জন লক আইনকে মানুষের স্বাভাবিক অধিকার রক্ষার মাধ্যম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করলেও, জনমতই যে আইনের মূল উৎস এমন সুস্পষ্ট উক্তি তাঁর নয়। তাই অন্যান্য দার্শনিকদের বাদ দিলে গ অপশনটিই যৌক্তিকভাবে সঠিক।
19.
মানুষের বিচার হয়-
সামাজিকভাবে এবং নৈতিকতার মানদণ্ডে একজন মানুষের প্রকৃত বিচার মূলত তার কর্ম বা কাজের দ্বারাই নির্ধারিত হয়, কারণ মানুষের ভেতরের সত্তা এবং চিন্তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে তার কৃতকর্মের মাধ্যমে। শুধু পুঁথিগত শিক্ষা থাকলেই মানুষ সমাজে ভালো হিসেবে বিবেচিত হয় না যদি না তার কাজ সৎ হয়। বাহ্যিক ব্যবহার অনেক সময় কৃত্রিম হতে পারে এবং তা দিয়ে মানুষের প্রকৃত চরিত্রের গভীরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। যেহেতু শিক্ষা এবং ব্যবহার চূড়ান্ত নির্ণায়ক হতে পারে না, তাই সবগুলো বিকল্প সঠিক নয়। ফলস্বরূপ, কর্মই একজন মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র নির্ভরযোগ্য বিচার্য বিষয়।
20.
আমেরিকা স্বাধীন হয়-
ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে আমেরিকা আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই, যা ঐতিহাসিক 'ডিক্লারেশন অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স' নামে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। ১৭৮০ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ চলছিল, কিন্তু স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা আগেই হয়ে গিয়েছিল। ১৮১০ এবং ১৮২০ সালের দিকে মূলত লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ (যেমন- কলম্বিয়া, মেক্সিকো) স্পেনীয় শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করতে শুরু করে, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই সালগুলোর কোনো ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততা নেই। সুতরাং ইতিহাস এবং কালানুক্রমিক সাল বিশ্লেষণ করলে অন্য তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণ ভুল এবং ১৭৭৬ সালই একমাত্র নির্ভুল উত্তর।