Practice Questions

Total Questions: 111

21.
অল্পপ্রাণ স্পৃষ্টধ্বনি কোনগুলো? [BRUR-A: 19-20]
প্রশ্নটির ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী সঠিক উত্তর হলো অপশন ৪ (ক, গ, ট, ড), কারণ ক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি ধ্বনিকে স্পৃষ্টধ্বনি বলে এবং বর্গের প্রথম ও তৃতীয় ধ্বনি অল্পপ্রাণ হয়, যার শর্ত এই অপশনটি পূরণ করে। অপরদিকে, অন্যান্য অপশনগুলো ভুল। প্রথমত, অপশন ১ ও ২ সঠিক নয়, কারণ এতে খ, ছ, থ এর মতো মহাপ্রাণ ধ্বনি মিশ্রিত আছে। দ্বিতীয়ত, অপশন ৩ ভুল, কারণ ফ, ঝ মহাপ্রাণ ধ্বনি। সুতরাং, অন্যান্য সকল বিকল্প অপসারিত হওয়ায় এটিই একমাত্র নির্ভুল উত্তর।
22.
কোনগুলো ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি? [RU:A: ২৩-২৪]
প্রশ্নটির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী সঠিক উত্তর হলো অপশন ২ (প, ফ, ব, ভ, ম), কারণ এই প-বর্গীয় ধ্বনিগুলো উচ্চারণের ক্ষেত্রে উপরের ও নিচের ঠোঁটের (ওষ্ঠ) সক্রিয় ব্যবহার ঘটে। অপরদিকে, অন্যান্য অপশনগুলো যৌক্তিকভাবে ভুল। প্রথমত, অপশন ১ (ক, চ, ট, ত, প) সঠিক নয়, কারণ এটি ভিন্ন ভিন্ন বর্গের মিশ্রণ। দ্বিতীয়ত, অপশন ৩ (ত, থ, দ, ধ, ন) ভুল, কারণ এগুলো দন্ত্য ধ্বনি। সবশেষে, অপশন ৪ (র, ল, ব, শ, হ) কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়, কারণ এগুলো অন্তস্থ ও উষ্ম ধ্বনি। সুতরাং, এটিই সঠিক উত্তর।
23.
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আধুনিক যুগ শুরু হয়েছে কত সাল থেকে? গ ইউনিট ২০০৬-০৭
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আধুনিক যুগ ১৮০১ সাল থেকে শুরু হয়েছে বলে পণ্ডিতগণ সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেছেন, কারণ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গদ্যের বিকাশ এ সময়েই ঘটে। তাই ১৮০১ সাল সঠিক। ১৯০১ সাল বিংশ শতাব্দীর শুরু নির্দেশ করে, যা আধুনিক যুগের অনেক পরের পর্যায়। ২০০১ সাল একবিংশ শতাব্দীর শুরু। ১৮৭৫ সাল বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ সময় হলেও যুগবিভাগের শুরু নয়। অন্যান্য সালগুলো বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিক্ষণ বা সূচনাকালকে নির্দেশ করে না বিধায় সেগুলো ভুল বলে পরিগণিত।
24.
চর্যাপদ' আবিষ্কৃত হয় কত সালে? চবি A1-ইউনিট ২০১৪-১৫
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ' মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয়। তাই ১৯০৭ সালটি ঐতিহাসিকভাবে সঠিক। ১৯১৬ সালে চর্যাপদ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল, আবিষ্কৃত হয়নি। ১৮০১ সাল বাংলা গদ্যের সূচনাকাল নির্দেশ করে, চর্যাপদ আবিষ্কারের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় 'সবুজ পত্র' পত্রিকা প্রকাশিত হয়, এটিও চর্যাপদের সাথে প্রাসঙ্গিক নয়। সুতরাং অন্যান্য সালগুলো ভুল এবং ১৯০৭ সালই সঠিক উত্তর।
25.
প্রত্যেক ভাষার মৌলিক অংশ কয়টি? রাবি, E-ইউনিট, ২০১৬-১৭
ভাষাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক ভাষার মৌলিক অংশ বা উপাদান হলো ৪টি। এগুলো হলো: ধ্বনি (Sound), শব্দ (Word), বাক্য (Sentence) এবং অর্থ (Meaning)। এই চারটি উপাদানের ওপর ভিত্তি করেই ভাষার ব্যাকরণ রচিত হয়। তাই ৪টি উত্তরটি সঠিক। ভাষার মৌলিক অংশ তিনটি, পাঁচটি বা দুটি হওয়ার কোনো ভাষাতাত্ত্বিক ভিত্তি নেই, কারণ ধ্বনি বা শব্দের কোনো একটি বাদ দিলে ভাষার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি হতে পারে না। ফলে অন্যান্য সংখ্যাসূচক বিকল্পগুলো সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়।
26.
বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ কয়টি? ইবি খ ইউনিট ২০০৭-০৮
যেকোনো ভাষার মতো বাংলা ভাষারও দুটি প্রধান ও মৌলিক রূপ রয়েছে— একটি হলো কথ্য রূপ বা মুখের ভাষা এবং অপরটি হলো লেখ্য রূপ বা লেখার ভাষা। এই দুই রূপেই ভাষা সম্পূর্ণতা পায়। তাই ২ উত্তরটি সঠিক। ভাষার ৪টি বা ৩টি মৌলিক রূপের কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, কারণ কথা বলা এবং লেখার বাইরে ভাষার অন্য কোনো মৌলিক মাধ্যম নেই। ১টি রূপ বললে ভাষার একটি প্রধান দিক বাদ পড়ে যায়। তাই দুটি রূপই ভাষার সর্বজনীন ভিত্তি।
27.
জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলা ভাষা পৃথিবীর কততম ভাষা? চবি B-1 উপ-ইউনিট ২০২৪-২৫
এথনোলগ এবং অন্যান্য বৈশ্বিক ভাষা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যবহারকারী জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষা পৃথিবীতে ৬ষ্ঠ (ষষ্ঠ) স্থান অধিকার করে আছে। তাই এই উত্তরটি তথ্যগতভাবে সঠিক। বিশ্বব্যাপী ভাষাভাষীর সংখ্যা বিচারে ম্যান্ডারিন, স্প্যানিশ, ইংরেজি, হিন্দি ও আরবি ভাষার পরেই বাংলার অবস্থান, ফলে ৫ম, ৭ম বা ৮ম স্থানটি পরিসংখ্যানগতভাবে ভুল। ভাষা ব্যবহারের আন্তর্জাতিক সমীক্ষাগুলোতে বাংলার অবস্থান ধারাবাহিকভাবে এই স্থানেই স্থিতিশীল রয়েছে। তাই অন্যান্য বিকল্পগুলো যৌক্তিকভাবে বাদ দিয়ে ৬ষ্ঠ স্থানকেই সঠিক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
28.
বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন শতাব্দীতে? BUP FASS ইউনিট- ২০২১-২২
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে, অর্থাৎ ৭ম শতাব্দীতে। চর্যাপদের রচনাকাল বিচার করেও এটি প্রমাণিত হয়। তাই ৭ম শতাব্দী সঠিক উত্তর। ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে অপভ্রংশের ব্যবহার ছিল, পূর্ণাঙ্গ বাংলা ভাষার নয়। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ১০ম শতাব্দী হলেও, যেহেতু ১০ম বা একাদশ শতাব্দী অপশনে নেই, তাই শহীদুল্লাহর মত অনুযায়ী ৭ম শতাব্দীই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। ৮ম ও ৯ম শতাব্দী বাংলা লিপির বিবর্তনের সময়কাল হলেও উৎপত্তির সুনির্দিষ্ট প্রাথমিক স্তর হিসেবে ৭ম শতাব্দীকেই ধরা হয়।
29.
বঙ্গকমরূপী' থেকে সৃষ্ট একটি ভাষা বাংলা, অপর ভাষা কোনটি? ঘ ইউনিট ২০১২-১৩
ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, বঙ্গ-কামরূপী উপশাখা থেকে দুটি প্রধান ভাষার জন্ম হয়েছে— একটি হলো বাংলা এবং অপরটি হলো অসমীয়া। এই দুটি ভাষার লিপিতেও অনেক মিল রয়েছে। অন্যদিকে, উড়িয়া ভাষার জন্ম হয়েছে ভিন্ন একটি উপশাখা (উড্র) থেকে, তাই এটি ভুল। হিন্দি ভাষার উৎপত্তি শৌরসেনী প্রাকৃত থেকে, ফলে এটি বঙ্গ-কামরূপীর অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্রজবুলি কোনো স্বাভাবিক মাতৃভাষা নয়, এটি মৈথিলী ও বাংলার মিশ্রণে তৈরি একটি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা। সুতরাং, বিকল্পগুলো বিশ্লেষণ করলে অসমীয়া ভাষাই এখানে একমাত্র সঠিক উত্তর।
30.
প্রমিত বাংলা ভাষা' বলতে বোঝায়- রাবি বি ইউনিট ২০১৫-১৬
প্রমিত বাংলা ভাষা বলতে মূলত চলিত রীতির মার্জিত, সর্বজনগ্রাহ্য এবং ব্যাকরণসম্মত রূপকেই বোঝায়, যা বর্তমানে লেখা ও পড়া উভয় ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে গৃহীত। তাই চলিত রীতির বাংলা ভাষাই প্রমিত বাংলা। আঞ্চলিক রীতির বাংলা ভাষা কোনো সর্বজনীন রূপ নয়, এটি নির্দিষ্ট এলাকার ভাষা। সাধারণ কথ্য রীতি ব্যাকরণের কঠোর নিয়ম মানে না, তাই এটি প্রমিত নয়। সাধু রীতি একটি প্রাচীন ও গ্রন্থগত রীতি, যা বর্তমানে প্রমিত ব্যবহারের জন্য চলিত রীতির কাছে স্থান হারিয়েছে। তাই গ-ই সঠিক।
31.
বাংলা ভাষার চলিত রীতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য কোনটি? রাবি গ ইউনিট, অ-বিজ্ঞান বিভাগের গ্রুপ-১, ২০২০-২১
চলিত ভাষা মানুষের মুখের স্বাভাবিক এবং সাবলীল ভাষা, তাই এটি সম্পূর্ণ কৃত্রিমতা বর্জিত এবং প্রাঞ্জল। এটি এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আভিজাত্যপূর্ণ এবং গুরুগম্ভীর হওয়া সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য, চলিত রীতির নয়। পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত এবং ব্যাকরণের কঠোর নিয়মাধীন থাকাও সাধু ভাষার লক্ষণ। চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এর কাঠামো পরিবর্তিত হয়, ফলে 'কাঠামো অপরিবর্তিত' কথাটি চলিত ভাষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাই অন্যান্য বিকল্পগুলো বাদ দিয়ে 'কৃত্রিমতা বর্জিত' বৈশিষ্ট্যটিই সঠিক।
32.
নিচের কোনটি বাংলা ভাষার বিবর্তনের সঠিক ক্রম স্তর? BUP (FSSS ইউনিট) ২০২২-২৩
বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক বিবর্তনের সঠিক ধারাটি হলো: মূল ভাষা পরিবার ইন্দো-ইউরোপীয়, সেখান থেকে ইন্দো-ইরানীয়, তার শাখা ভারতীয় আর্য, যা কালক্রমে প্রাকৃত ও অপভ্রংশ হয়ে বাংলায় রূপ নিয়েছে। তাই খ বিকল্পটি সঠিক। ক অপশনে প্রাকৃতের পরে আর্য দেওয়া হয়েছে, যা কালানুক্রমিকভাবে ভুল। গ অপশনেও প্রাকৃতের পরে ভারতীয় আর্য রাখা হয়েছে, যা ভাষাতাত্ত্বিক বিবর্তনের নিয়মের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। যেহেতু খ বিকল্পটি বিবর্তনের সঠিক স্তরগুলো ক্রমানুসারে ধারণ করে, তাই 'কোনোটিই নয়' উত্তরটি গ্রহণযোগ্য হবে না।
33.
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষেরা কোন পদ্ধতিতে লেখাপড়া করে? বিএসসি ইন নার্সিং-২০২২
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা লেখাপড়া করার জন্য 'ব্রেইল পদ্ধতি' ব্যবহার করে, যা কতগুলো উঁচু বিন্দুর সাহায্যে স্পর্শের মাধ্যমে পড়া যায়। এটি লুই ব্রেইল আবিষ্কার করেছিলেন। তাই এটি সঠিক উত্তর। ইশারা পদ্ধতি মূলত বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষেরা ব্যবহার করে, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা নয়। শ্রবণ পদ্ধতি বা অডিও শোনার মাধ্যমে শেখা গেলেও এটি সরাসরি লেখাপড়া বা লিপির বিকল্প নয়। শব্দ পদ্ধতি নামে লেখাপড়ার কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নেই। তাই ব্রেইল পদ্ধতিই এখানে একমাত্র সঠিক ও যৌক্তিক বিকল্প।
34.
কোন লেখক চলিত ভাষাকে ভাষারূপে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন করেছিলেন? ঘ ইউনিট ২০১৫-১৬
চলিত ভাষাকে বাংলা সাহিত্যের মান্য ভাষারূপে প্রতিষ্ঠা করার জন্য 'সবুজ পত্র' পত্রিকার মাধ্যমে প্রমথ চৌধুরী প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাই তাঁর নাম সঠিক। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সাধু রীতির গদ্যের জনক হিসেবে পরিচিত, চলিত রীতির নয়। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী প্রবন্ধ রচনায় খ্যাতি লাভ করলেও তিনি চলিত ভাষার আন্দোলনের মূল হোতা ছিলেন না। বুদ্ধদেব বসু আধুনিক যুগের কবি ও প্রাবন্ধিক, কিন্তু চলিত ভাষা প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক আন্দোলনটি তাঁর দ্বারা সংঘটিত হয়নি। তাই অন্যান্য লেখকদের নাম এই ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয়।
35.
বাংলা ভাষার নিকট আত্মীয় কোনটি? চবি B ইউনিট, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ (২য় শিফট) ২০২০-২১
মাগধী অপভ্রংশের পূর্বীয় শাখা থেকে বাংলা, অসমীয়া ও উড়িয়া ভাষার জন্ম হয়েছে। একই উৎস থেকে উদ্ভূত হওয়ার কারণে এই ভাষাগুলোর ব্যাকরণ ও শব্দভাণ্ডারে ব্যাপক মিল রয়েছে, তাই উড়িয়া হলো বাংলা ভাষার নিকট আত্মীয়। পালি প্রাচীন ভাষা, যা বাংলার নিকট আত্মীয় নয়, বরং পূর্বসূরি স্তরের ভাষা। সংস্কৃত অনেক পুরোনো ভারতীয় আর্যভাষা, এটি বাংলার নিকট আত্মীয় বা ভগ্নীস্থানীয় ভাষা নয়। ইংরেজি ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের হলেও এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন শাখার (জার্মানিক) ভাষা। তাই উড়িয়াই সঠিক উত্তর।
36.
বাংলাদেশ ছাড়া কোন অঞ্চলের মানুষের সর্বজনীন ভাষা বাংলা? বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স- ২০২৩
বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মানুষের সর্বজনীন এবং প্রধান মাতৃভাষা হলো বাংলা। তাই এটি সঠিক উত্তর। উত্তর প্রদেশের প্রধান ভাষা হিন্দি এবং উর্দু, বাংলা নয়। গুজরাটের প্রধান ভাষা গুজরাটি, যা বাংলার সাথে সম্পর্কিত হলেও বাংলা নয়। আসামের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে (বরাক উপত্যকা) বাংলার প্রচলন থাকলেও সমগ্র আসামের সর্বজনীন ভাষা হলো অসমীয়া। সুতরাং, প্রশাসনিক ও জনতাত্ত্বিক দিক থেকে বিচার করলে পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র অঞ্চল যেখানে বাংলা ভাষা সর্বজনীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
37.
বাংলা ভাষায় 'গুরুচণ্ডালী' দোষ মানে হলো গ ইউনিট ২০০৬-০৭
গুরুচণ্ডালী দোষ' বলতে মূলত সাধু ও চলিত ভাষার অনাকাঙ্ক্ষিত মিশ্রণকে বোঝায়, যার একটি প্রধান রূপ হলো তৎসম বা সংস্কৃত (গুরু) শব্দের সাথে দেশি বা চলিত (চণ্ডালী) শব্দের অশোভন মিশ্রণ। তাই এই উত্তরটি সঠিক। উপমার ভুল প্রয়োগ হলো অলংকারগত ত্রুটি, এটি রীতির মিশ্রণ নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দের ব্যবহারকে 'বাহুল্য দোষ' বলা হয়, গুরুচণ্ডালী নয়। বাগধারার রদবদল করলে বাগধারার নিজস্ব অর্থ নষ্ট হয়, যাকে গুরুচণ্ডালী বলা যায় না। ফলে, তৎসম ও দেশি শব্দের মিশ্রণই এখানে একমাত্র সঠিক ব্যাখ্যা।
38.
ভাষা কী? বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স ২০২৩
ভাষা বলতে মূলত মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে বোঝায়, যা বাকপ্রত্যঙ্গের সাহায্যে উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনিসমষ্টির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই এটি সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর। কণ্ঠের উচ্চারণ কেবল একটি শারীরিক প্রক্রিয়া, এটি নিজে ভাষা নয়। উচ্চারণের প্রতীক হলো লিপি বা বর্ণ, যা ভাষার লিখিত রূপ। ধ্বনির সমষ্টি হলেই তা ভাষা হয় না, যদি না তা মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। তাই অন্যান্য অপশনগুলো ভাষার আংশিক বা বাহ্যিক রূপ প্রকাশ করলেও 'ভাব প্রকাশের মাধ্যম' কথাটি ভাষার মূল কাজকে সংজ্ঞায়িত করে।
39.
রংপুর অঞ্চলে কোন উপভাষার ব্যবহার হয়েছে? রাবি এ ইউনিট ২০২২-২৩
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা যেমন রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের আসামের কিছু অংশে যে উপভাষা প্রচলিত, ভাষাতত্ত্বে তার নাম কামরূপী উপভাষা। তাই এটি সঠিক। বরেন্দ্রী উপভাষা রাজশাহী, মালদহ অঞ্চলে প্রচলিত, রংপুরে নয়। রাঢ়ী উপভাষা মূলত কলকাতা, নদীয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যাঞ্চলে ব্যবহৃত হয়, যা বাংলাদেশের রংপুরের ভাষা নয়। পূর্বি কোনো সুনির্দিষ্ট উপভাষার বৈজ্ঞানিক নাম নয়। তাই ভৌগোলিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগ অনুসারে রংপুর অঞ্চলের ভাষা হিসেবে কামরূপী ব্যতীত অন্যান্য সব বিকল্পই ভুল।
40.
কোন অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে বলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন? কি ইউনিট ২০০৩-০৪
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে, তাই এটি সঠিক। অন্যদিকে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে এর উদ্ভব মাগধী অপভ্রংশ থেকে, তাই মাগধী ভুল। শৌরসেনী অপভ্রংশ থেকে হিন্দি ভাষার উদ্ভব হয়েছে, তাই এটিও ভুল। মহারাষ্ট্রী অপভ্রংশ থেকে মারাঠি ভাষার উদ্ভব হয়েছে, তাই এটিও বাংলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সুতরাং, ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী অন্যান্য বিকল্পগুলো যৌক্তিকভাবে বাদ দিয়ে গৌড়ীয় অপভ্রংশই ড. শহীদুল্লাহর মতবাদ হিসেবে চূড়ান্তভাবে সঠিক বলে বিবেচিত হয়।