Practice Questions

Total Questions: 111

41.
চকিত হইয়া' এর চলিত রূপ জাবি ২০০৫-০৬
চকিত হইয়া' সাধু রীতির একটি ক্রিয়াপদ, যার খাঁটি বাংলা বা চলিত প্রমিত রূপ হলো 'চমকে'। এটি অর্থ এবং শ্রুতিমাধুর্য উভয় দিক থেকেই চলিত রীতির যথার্থ প্রতিনিধিত্ব করে। 'চকিত হয়ে' শব্দটিতে 'চকিত' তৎসম শব্দ রেখে কেবল ক্রিয়াটিকে চলিত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ খাঁটি চলিত রূপ নয়। 'চকিত হইয়্যা' একটি আঞ্চলিক বা বিকৃত উচ্চারণ। 'চকিতে' বলতে আকস্মিকভাবে বোঝায়, এটি 'চকিত হইয়া' এর ক্রিয়াপদের রূপ নয়। তাই শব্দতাত্ত্বিক গঠন ও ভাবের দিক থেকে বিচার করলে 'চমকে' শব্দটিই সঠিক উত্তর।
42.
নিচের কোনটি সাধুরীতির ক্রিয়াপদ? ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি ভর্তি পরীক্ষা- ২০২২
সাধু রীতিতে ক্রিয়াপদের রূপ দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গ হয়। 'চলিতেছে' শব্দটিতে 'ইতেছে' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে এর পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ করেছে, যা সাধু রীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, 'চলছে' হলো 'চলিতেছে' এর সংক্ষিপ্ত চলিত রূপ। 'চললাম' উত্তম পুরুষের চলিত রীতির ক্রিয়াপদ, যার সাধু রূপ হলো 'চলিলাম'। 'চলবে' ভবিষ্যৎ কালের চলিত রূপ, যার সাধু রূপ হলো 'চলিবে'। যেহেতু ক, গ এবং ঘ বিকল্পগুলো চলিত রীতির সংক্ষিপ্ত ক্রিয়াপদ, তাই যৌক্তিকভাবে 'চলিতেছে' শব্দটিই সাধু রীতির উদাহরণ হিসেবে সঠিক।
43.
বাংলা ভাষায় সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণজাত ত্রুটি নির্দেশ পারিভাষিক শব্দ কী? খ ইউনিট ১৯৯৬-৯৭
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণ ঘটলে যে ত্রুটি দেখা দেয়, তাকে পরিভাষায় 'গুরুচণ্ডালী দোষ' বলা হয়, তাই এটি সঠিক। 'জগাখিচুড়ি' একটি সাধারণ বাগধারা যা বিশৃঙ্খলা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, এটি ব্যাকরণগত পরিভাষা নয়। 'লঘুগুরু' ছন্দের ক্ষেত্রে বা মাত্রার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, ভাষার মিশ্রণ বোঝাতে নয়। 'চটুলগম্ভীর' বলতে দুটি ভিন্ন মেজাজের মিশ্রণ বোঝায়, এটি ভাষার রীতিগত কোনো ত্রুটির নাম নয়। তাই অন্যান্য বিকল্পগুলো বাদ দিলে 'গুরুচণ্ডালী' শব্দটিই এখানে একমাত্র নির্ভুল উত্তর।
44.
কোন বিদেশি পণ্ডিত বাংলা উপভাষার শ্রেণিবিন্যাসে বিশেষ অবদান রাখেন? BUP (FSSS) ইউনিট ২০২৪-২৫
স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন তাঁর বিখ্যাত 'Linguistic Survey of India' গ্রন্থে বাংলা উপভাষাকে সর্বপ্রথম বিজ্ঞানসম্মতভাবে কয়েকটি প্রধান ভাগে (যেমন- রাঢ়ী, বঙ্গালী, বরেন্দ্রী ইত্যাদি) শ্রেণিবিন্যাস করেন, যা ভাষাতত্ত্বে অমূল্য অবদান। জর্জ ওয়েদ্দার নামে বাংলা উপভাষা নিয়ে কাজ করা কোনো বিখ্যাত পণ্ডিত নেই, তাই এটি ভুল। জর্জ রোজারিও উপভাষা তত্ত্বে পরিচিত নাম নয়। জর্জ ইমানুয়েলও ভাষা নিয়ে এ ধরনের গবেষণার সাথে যুক্ত নন। ফলে, ঐতিহাসিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণ সাপেক্ষে জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনের নামই একমাত্র সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচিত।
45.
বাংলা চলিত রীতিতে কোন শব্দের ব্যবহার বেশি? চবি D- ইউনিট, (২য় দিন বিকাল) ২০২০-২১
বাংলা চলিত রীতিতে মূলত প্রাত্যহিক জীবনের ব্যবহার্য 'তদ্ভব' বা খাঁটি বাংলা শব্দের প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যা ভাষাকে সাবলীল ও গতিশীল করে। তাই এটি সঠিক উত্তর। তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার সাধু রীতিতে বেশি হয়, চলিতে নয়। অর্ধ-তৎসম শব্দ গ্রামীণ বা বিকৃত উচ্চারণে বেশি ব্যবহৃত হয়, প্রমিত চলিত রীতিতে এর ব্যবহার সীমিত। বিদেশি শব্দের ব্যবহার চলিত রীতিতে থাকলেও তদ্ভব শব্দের তুলনায় এর পরিমাণ অনেক কম। ফলে তদ্ভব শব্দই চলিত রীতির মূল ভিত্তি।
46.
বাংলা লেখ্য ভাষার রূপ কয়টি? জাবি-গ ইউনিট ২০১১-১২
প্রদত্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলা লেখ্য ভাষার বা লেখার ভাষার মূলত তিনটি রূপ পরিলক্ষিত হয়। এগুলো হলো— সর্বজনগ্রাহ্য প্রমিত রীতি, প্রাচীন গ্রন্থগত সাধু রীতি এবং কবিতায় ব্যবহৃত কাব্য রীতি। তাই তিনটি উত্তরটি সঠিক। যদিও সাধারণ ব্যাকরণে সাধু ও চলিত এই দুটি রূপ বেশি প্রচলিত, কিন্তু কাব্যিক রূপকে লেখার আলাদা রীতি হিসেবে ধরা হলে তা তিনটি হয়। চারটি বা সাতটি রীতির কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণগত বা ভাষাতাত্ত্বিক ভিত্তি বাংলা লেখ্য ভাষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নেই। তাই ক বিকল্পটিই সঠিক।
47.
কাটাইনু বহুদিন সুখ পরিহরি'- 'পরিহরি' শব্দটির চলিত রূপ: রাবি B ২০১৫-১৬
পরিহরি' একটি সাধু বা কাব্যিক রীতির অসমাপিকা ক্রিয়া, যার মূল ধাতু হলো 'পরিহার' করা। তাই এর চলিত গদ্য রূপ হবে 'পরিহার করে'। এটিই সঠিক উত্তর। 'ত্যাগ করে' শব্দটির অর্থ পরিহারের কাছাকাছি হলেও এটি সরাসরি 'পরিহরি' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত চলিত রূপ নয়, বরং সমার্থক শব্দ। 'ভ্রমে' অর্থ ভুলে, যা পরিহারের সাথে সম্পর্কিত নয়। 'ভুলে গিয়ে' অর্থ বিস্মৃত হওয়া, এর সাথেও পরিহার বা বর্জন করার কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং আক্ষরিক ও ব্যাকরণগত চলিত রূপ হলো পরিহার করে।
48.
কথ্যভাষার রূপ কয় প্রকার? জাবি গ ইউনিট, ২০২০-২১
কথ্যভাষা বা মানুষের মুখে বলার ভাষাকে প্রধানত দুটি রূপে ভাগ করা যায়— একটি হলো আদর্শ বা প্রমিত কথ্য ভাষা, যা শিক্ষিত সমাজের সর্বজনীন মুখের ভাষা, এবং অপরটি হলো আঞ্চলিক কথ্য ভাষা বা উপভাষা, যা নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের মুখে প্রচলিত। তাই দুই প্রকার উত্তরটি সঠিক। কথ্যভাষার তিন, চার বা পাঁচ প্রকারের কোনো সুনির্দিষ্ট ভাষাতাত্ত্বিক স্বীকৃতি বা ব্যাকরণিক শ্রেণিবিভাগ নেই। তাই অন্যান্য সংখ্যাসূচক বিকল্পগুলো সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন।
49.
কিসের ভেদে ভাষার পরিবর্তন ও পার্থক্য ঘটে? ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি ভর্তি পরীক্ষা- ২০২২
ভাষার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর পরিবর্তনশীলতা। ভৌগোলিক অবস্থান (দেশ), সময়ের পরিবর্তন (কাল) এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিপার্শ্ব (পরিবেশ) ভেদে ভাষার রূপ পরিবর্তিত হয়। তাই গ বিকল্পটি সর্বাধিক সঠিক। ব্যক্তিভেদে ভাষার উচ্চারণ বা বাচনভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন হলেও ভাষার সামগ্রিক ব্যাকরণ বা রূপ ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়ে নতুন ভাষা তৈরি করে না। তাই ব্যক্তিভেদ অপশনযুক্ত খ এবং ঘ ভুল। ক অপশনে পরিবেশের কথা বাদ পড়েছে যা অসম্পূর্ণ। সুতরাং, দেশ, কাল ও পরিবেশভেদে ভাষার পরিবর্তন ঘটে।
50.
বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত শৃঙ্খলা হলো- জিবি ক-ইউনিট ২০১৪-১৫
যেকোনো ভাষার একটি সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণিক শৃঙ্খলা থাকে, যা ক্রমান্বয়ে ক্ষুদ্রতর একক থেকে বৃহত্তর এককে পরিণত হয়। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে সেই অন্তর্নিহিত শৃঙ্খলা হলো— প্রথমে ধ্বনি, ধ্বনি মিলে শব্দ, শব্দ মিলে বাক্য, বাক্যের অর্থ এবং পরিশেষে তার ব্যঞ্জনা। তাই এই ক্রমটি সম্পূর্ণ সঠিক। চলিত ভাষা ভাষার একটি রূপ, শৃঙ্খলা নয়। ভাষার ব্যঞ্জনা বা প্রমিত উচ্চারণ ভাষার শৃঙ্খলার কেবল আংশিক বা একক কোনো উপাদান নির্দেশ করে, সামগ্রিক গঠনতান্ত্রিক কাঠামোকে নয়। তাই অন্যান্য বিকল্পগুলো আংশিক ও ভুল।
51.
বাংলা সাহিত্যে 'বীরবল' কেন বিখ্যাত? রাবি C ইউনিট (গ্রুপ ৫) ২০২৩-২৪
বীরবল' হলো প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম, যিনি 'সবুজ পত্র' পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তন এবং তাকে মান্য ভাষারূপে প্রতিষ্ঠার জন্য বিখ্যাত। তাই এটি সঠিক উত্তর। তিনি নতুন ছন্দ রচনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত নন, ছন্দের জাদুকর বলা হয় সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে। সনেটের জন্য বিখ্যাত মাইকেল মধুসূদন দত্ত, প্রমথ চৌধুরী সনেট লিখলেও এটি তাঁর মূল পরিচিতি নয়। প্রমিত বাংলার চেয়ে চলিত বাংলার প্রবর্তক হিসেবেই তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তাই অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল হিসেবে গণ্য হবে।
52.
কোনটি সাধুরীতির বৈশিষ্ট্য? চবি B ইউনিট, ২০২০-২১
বাংলা সাধু রীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দবহুল একটি মার্জিত ও গাম্ভীর্যপূর্ণ ভাষারীতি। তাই এই উত্তরটি সঠিক। সাধু রীতি ব্যাকরণের নিয়মে সুনির্ধারিত এবং সহজে পরিবর্তনশীল নয়, তাই ক অপশন ভুল। চলিত রীতিতে তদ্ভব শব্দের ব্যবহার বেশি থাকে, সাধু রীতিতে নয়, তাই খ অপশন ভুল। তৎসম শব্দবহুল হওয়ায় সাধু রীতি সাধারণ মানুষের জন্য চলিত রীতির মতো সহজবোধ্য নয়, তাই ঘ অপশনটিও সাধু রীতির বৈশিষ্ট্যের বিপরীত। ফলে গ-ই একমাত্র সঠিক উত্তর।
53.
পতুবী' কী? জাবি, F ইউনিট ২০১৯-২০
পতুবী' (Pahlavi বা পল্লবী) হলো প্রাচীন পারস্যের বা মধ্য-পারসিক ভাষার একটি ঐতিহাসিক নাম। এই ভাষায় প্রাচীন ইরানের অনেক সাহিত্য ও ধর্মগ্রন্থ রচিত হয়েছিল। তাই এটি সঠিক উত্তর। এখানে শব্দটিকে বাংলা শব্দ 'পল্লব' (পাতা) এর সাথে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না; এটি পাতার সমার্থক শব্দ নয়। এটি কোনো ছোট গল্পের নামও নয়। গীতিকা বা লোকগাথার সাথেও এই শব্দের কোনো ভাষাতাত্ত্বিক সম্পর্ক নেই। সুতরাং, ভাষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি মধ্য-পারসিক ভাষার নাম হিসেবেই সিদ্ধ।
54.
বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে- রাবি গ ইউনিট, (অ-বিজ্ঞান) গ্রুপ-১, ২০২০-২১
ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মত অনুযায়ী, বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে মাগধী প্রাকৃত (বা এর অপভ্রংশ) থেকে। এই মতবাদটি সর্বাধিক প্রচলিত এবং সর্বজনগ্রাহ্য। তাই এটি সঠিক উত্তর। পালি ভাষা প্রাচীন ভারতের একটি কথ্য রূপ হলেও সরাসরি তা থেকে বাংলার জন্ম হয়নি। হিন্দি ভাষা শৌরসেনী অপভ্রংশ থেকে উদ্ভূত, এটি বাংলার উৎস নয়। সংস্কৃত ভাষা অনেক প্রাচীন লিখিত ভাষা, যা প্রাকৃতের সমসাময়িক বা পূর্ববর্তী হলেও এটি সরাসরি বাংলা ভাষার জন্মদাতা নয়। তাই মাগধী-প্রাকৃতই সঠিক উত্তর।
55.
পার হইয়া' এর চলিত রূপ- জাবি ২০০৫-০৬
পার হইয়া' সাধু রীতির একটি অসমাপিকা ক্রিয়া। বাংলা চলিত রীতিতে 'পার' এবং 'হইয়া' যুক্ত হয়ে এর প্রমিত ও শ্রুতিমধুর চলিত রূপ হয় 'পেরিয়ে'। তাই এটি সঠিক উত্তর। 'পার হয়ে' একটি আংশিক চলিত রূপ হলেও ক্রিয়াপদের ধ্বনিতাত্ত্বিক নিয়মে (অভিশ্রুতি) এটি পূর্ণাঙ্গ প্রমিত শব্দ 'পেরিয়ে' তে রূপান্তরিত হয়। 'পার হইয়্যা' একটি বিকৃত বা আঞ্চলিক উচ্চারণের রূপ, যা প্রমিত চলিত ভাষা নয়। 'পারিয়ে' বলতে বাংলা ব্যাকরণে কোনো শুদ্ধ শব্দ নেই। ফলে ধ্বনিতাত্ত্বিক নিয়মানুসারে 'পেরিয়ে' শব্দটিই এখানে শুদ্ধ চলিত রূপ।
56.
দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার নেই কোন রীতিতে? জাবি গ ইউনিট, ২০২০-২১
বাংলা সাধু রীতি একটি কঠোর ব্যাকরণানুগ এবং তৎসম শব্দবহুল ভাষারীতি, যেখানে সাধারণত দেশি, বিদেশি বা আঞ্চলিক শব্দের প্রবেশাধিকার নেই বললেই চলে। তাই এই উত্তরটি সঠিক। প্রমিত লেখ্য এবং প্রমিত কথ্য রীতিতে প্রয়োজনে অসংখ্য দেশি-বিদেশি শব্দ ব্যবহৃত হয়। সমাজ ভাষা বা সোশিওলেক্ট হলো সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মুখের ভাষা, যেখানে প্রচুর দেশি ও বিদেশি শব্দের মিশ্রণ ঘটে। যেহেতু কেবল সাধু ভাষাতেই খাঁটি তৎসম শব্দের একাধিপত্য থাকে, তাই দেশি-বিদেশি শব্দের ব্যবহার এই রীতিতেই নেই।
57.
মৈথিলী ও বাংলার মিশ্রণে কোন ভাষার সৃষ্টি হয়েছে? জবি, D-ইউনিট, ২০১৬-১৭
মধ্যযুগে বিদ্যাপতি নামক মিথিলার কবির অনুকরণে বাংলা ও মৈথিলী ভাষার মিশ্রণে যে একটি কৃত্রিম কাব্যভাষার সৃষ্টি হয়েছিল, তার নাম 'ব্রজবুলি'। বৈষ্ণব পদাবলি রচনায় এই ভাষা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। তাই এটি সঠিক উত্তর। প্রাকৃত হলো প্রাচীন ভারতীয় একটি স্বাভাবিক কথ্য ভাষা, কৃত্রিম মিশ্র ভাষা নয়। গৌড়ীয় হলো অপভ্রংশের একটি রূপ, মিশ্র ভাষা নয়। অপভ্রংশ হলো প্রাকৃতের পরবর্তী স্তর। তাই এই তিনটি বিকল্পের কোনোটিই দুটি ভাষার মিশ্রণে সৃষ্ট নয়। ফলে ব্রজবুলিই একমাত্র সঠিক উত্তর।
58.
দ্রাখখমে > দ্রম্য > দাম শব্দটির বিবর্তন হলো যেভাবে- ঘ ইউনিট ২০১৫-১৬
দাম' শব্দটি মূলত প্রাচীন গ্রিক শব্দ 'দ্রাখমে' (drachme) থেকে বিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে, যা মুদ্রা বা মূল্যের একক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তাই এটি সঠিক। এই শব্দটি প্রাচীন পারসিক ভাষা থেকে আসেনি, কারণ ফারসিতে এর মূল রূপ পাওয়া যায় না। এটি প্রাচীন দ্রাবিড় ভাষা থেকেও আসেনি, কারণ দ্রাবিড় শব্দগুলো সাধারণত স্থানীয় ভারতীয় উৎসের হয়। একইভাবে, অস্ট্রিক ভাষা থেকেও এর উৎপত্তি হয়নি। ফলে অন্যান্য ভাষার উৎসের ধারণাটি ভুল এবং এটি নিশ্চিতভাবে একটি গ্রিক আগন্তুক শব্দ।
59.
ভারতীয় আর্যভাষার দ্বিতীয় স্তর কোনটি? রাবি ২০০৯-১০
ঐতিহাসিক ভাষাতত্ত্ব অনুযায়ী প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার বিবর্তনের প্রধান দুটি রূপ দেখা যায়— প্রথমটি হলো বৈদিক ভাষা যা বেদের ভাষা, এবং দ্বিতীয় স্তরটি হলো ব্যাকরণ দ্বারা সংস্কারকৃত মার্জিত 'সংস্কৃত' ভাষা। তাই সংস্কৃত উত্তরটি সঠিক। বাংলা ভাষা হলো নব্য ভারতীয় আর্যভাষার আধুনিক স্তর, দ্বিতীয় স্তর নয়। মাগধী প্রাকৃত হলো মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার স্তর। হিন্দি ভাষাও নব্য ভারতীয় আর্যভাষার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং প্রাচীন স্তরের পর্যায়ক্রম বিবেচনা করলে বৈদিকের পরবর্তী মার্জিত রূপ হিসেবে সংস্কৃতকেই ভারতীয় আর্যভাষার দ্বিতীয় স্তর ধরা হয়।
60.
নিচের কোনটি সহোদর ভাষাগোষ্ঠী? খুবি, B ইউনিট ২০১৯-২০
একই মাগধী অপভ্রংশ বা বঙ্গ-কামরূপী উপশাখা থেকে উদ্ভূত হওয়ার কারণে বাংলা এবং অসমীয়া ভাষাকে সহোদর বা ভগ্নীস্থানীয় ভাষা বলা হয়। এই দুটি ভাষার লিপি এবং ব্যাকরণে অসামান্য মিল রয়েছে। উর্দু ভাষার উৎপত্তি শৌরসেনী অপভ্রংশ ও ফারসি-আরবির মিশ্রণে, তাই এটি বাংলার সহোদর নয়। হিন্দি ভাষার উৎপত্তিও শৌরসেনী থেকে, যা বাংলার সমগোত্রীয় নয়। সংস্কৃত প্রাচীন ভারতীয় ভাষা যা বাংলার পূর্বপুরুষ বা জননী সমতুল্য, সহোদর নয়। তাই বাংলা ও অসমীয়াই একমাত্র সঠিক সহোদর ভাষাগোষ্ঠী।