Practice Questions

Total Questions: 304

261.
মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রচলন হয় কোন যুগে?
(JKKNIU: 17-18) মুক্তবাজার অর্থনীতি (Free Market Economy) হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে বাজার শক্তিগুলোর (চাহিদা ও জোগান) মাধ্যমে দাম নির্ধারিত হয় এবং সরকারি হস্তক্ষেপ থাকে না। শিল্প বিপ্লবের পর অ্যাডাম স্মিথের হাত ধরে এই ধারণার প্রসার ঘটে, যা সম্পূর্ণভাবে 'আধুনিক' যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, অপশন A (প্রাচীন) যুগে মূলত বিনিময় প্রথা ও কৃষিভিত্তিক সমাজ ছিল, তাই এটি ভুল। অপশন B (মধ্যযুগ) সামন্তবাদ ও গিল্ড ব্যবস্থার অধীনে নিয়ন্ত্রিত ছিল, যা মুক্তবাজারের ঠিক বিপরীত। অপশন D বর্জনীয় কারণ সঠিক উত্তর অপশন C-তে বিদ্যমান। তাই অপশন C সঠিক।
262.
মুক্তবাজার এক ধরনের-
(PUST: 17-18) 'মুক্তবাজার' (Free Market) কোনো দৃশ্যমান বস্তু বা নির্দিষ্ট স্থান নয়, এটি অর্থনীতির একটি তাত্ত্বিক 'ধারণা' (Concept) বা ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে, অপশন A (সেবা) ভুল কারণ এটি সরাসরি মানুষের কোনো কাজ করে দেয় না, এটি একটি নীতি। অপশন C (বস্তু) ভুল কারণ এটিকে স্পর্শ করা যায় না। অপশন D (স্থান) ভুল কারণ এটি কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক বাজার (যেমন- নিউমার্কেট) নয়, এটি সমগ্র অর্থনীতির একটি অবস্থা। তাই কাঠামোগত বিশ্লেষণে অপশন B সঠিক।
263.
মুদ্রার অতি মূল্যায়ন উৎসাহিত করে-
[HSTU: 13-14] মুদ্রার অতি মূল্যায়ন (Overvaluation) হলে বৈদেশিক মুদ্রার তুলনায় দেশীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্য কৃত্রিমভাবে বেড়ে যায়। ফলে বিদেশি পণ্য সস্তা মনে হওয়ায় দেশে 'আমদানি' ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হয়। অন্যদিকে, অপশন B (রপ্তানি) ভুল কারণ অতি মূল্যায়নে রপ্তানিপণ্য বিদেশিদের কাছে দামি হয়ে যাওয়ায় রপ্তানি নিরুৎসাহিত হয়। অপশন C (মূল্যস্ফীতি) সরাসরি অতি মূল্যায়নের প্রাথমিক ফলাফল নয়, বরং অবমূল্যায়নের ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে। যেহেতু অপশন C ভুল প্রমাণিত হয়েছে, তাই অপশন D (A ও C উভয়ই) স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। সুতরাং, যৌক্তিক বর্জনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে অপশন A সঠিক।
264.
মুদ্রাস্ফীতি দ্বারা বুঝায়-
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো টাকার যোগান বৃদ্ধি (Increase in Money Supply)। সামষ্টিক অর্থনীতিতে যখন বাজারে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার তুলনায় অর্থের বা টাকার জোগান অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যায়, তখন টাকার নিজস্ব ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় এবং জিনিসপত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক অবস্থাকেই মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বলে। বর্জন কৌশলের সাহায্যে দেখলে: অপশন A (টাকার চাহিদা সংকোচন) হলে জিনিসপত্রের দাম কমে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পায়। অপশন C (আয় বৃদ্ধি) মুদ্রাস্ফীতির সরাসরি প্রতিশব্দ নয়, এটি প্রভাব হতে পারে। অপশন D (টাকার মান বৃদ্ধি) হলো মুদ্রাস্ফীতির সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা, যাকে মুদ্রা সংকোচন (Deflation) বলে। তাই অন্যান্য অপশনগুলো যৌক্তিকভাবে বর্জনীয়।
265.
মুদ্রাস্ফীতি দ্বারা বুঝায়- [CU: 13-14]
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার (২০১৩-১৪) এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'টাকার যোগান বৃদ্ধি' (Increase in Money Supply)। যৌক্তিক অবরোহ অনুযায়ী, অর্থনীতিতে যখন বাজারে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার তুলনায় অর্থের বা টাকার জোগান অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন টাকার নিজস্ব ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় এবং জিনিসপত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এই অর্থনৈতিক অবস্থাকেই মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বলে। বাজারে টাকার জোগান বৃদ্ধিই এর অন্যতম প্রধান কারণ। অন্যদিকে বর্জন কৌশল প্রয়োগ করলে: অপশন A (চাহিদা সংকোচন) হলে মুদ্রাস্ফীতি কমে যায়; অপশন C (আয় বৃদ্ধি) মুদ্রাস্ফীতির সরাসরি প্রতিশব্দ নয়; এবং অপশন D (টাকার মান বৃদ্ধি) হলো মুদ্রাস্ফীতির সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা, যাকে মুদ্রা সংকোচন (Deflation) বলে। তাই অন্যান্য অপশনগুলো যৌক্তিকভাবে বর্জনীয়।
266.
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত কাজকে বলে? [JES-16]
এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষার (যশোর বোর্ড-১৬) এই প্রশ্নের প্রদত্ত সমাধান অনুযায়ী সঠিক উত্তর হলো 'পণ্য বিনিময়' বা ট্রেড (Trade)। যৌক্তিক অবরোহ অনুযায়ী, বাণিজ্যের প্রধান দুটি শাখা রয়েছে: ট্রেড (ক্রয়-বিক্রয়) এবং বাণিজ্যের সহায়ক কার্যাবলি। মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদকের কাছ থেকে পণ্য কিনে ভোক্তার কাছে বিক্রি করে যে স্বত্বগত উপযোগ বা মালিকানা হস্তান্তর করা হয়, তার সুনির্দিষ্ট নাম হলো ট্রেড বা পণ্য বিনিময়। অন্যদিকে বর্জন কৌশল প্রয়োগ করলে: অপশন A (ব্যবসায়) হলো উৎপাদন ও বণ্টনসহ একটি বৃহত্তর ধারণা; অপশন B (বাণিজ্য) হলো পণ্য বিনিময় এবং এর সাথে পরিবহণ ও বীমাসহ সকল সহায়ক কাজের সমষ্টি; এবং অপশন C (প্রত্যক্ষ সেবা) হলো স্বাধীন পেশা (যেমন ডাক্তার)। যেহেতু শুধু ক্রয়-বিক্রয়ের কথা বলা হয়েছে, তাই অপশন D সঠিক।
267.
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য বা সেবা আদান প্রদান সংক্রান্ত সর্বপ্রকার মানবীয় কার্যাবলিকে বলা হয়- [CU: 13-14]
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার (২০১৩-১৪) এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'ব্যবসায়' (Business)। যৌক্তিক অবরোহ অনুযায়ী, অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক সংজ্ঞায়, মুনাফা অর্জনের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যে ঝুঁকি গ্রহণ করে বৈধভাবে পণ্য বা সেবা উৎপাদন, সেগুলোর বণ্টন বা আদান-প্রদান এবং এর সাথে সম্পর্কিত সকল সহায়ক অর্থনৈতিক ও মানবীয় কার্যাবলির সামগ্রিক রূপটিকেই ব্যবসায় বলা হয়। অন্যদিকে বর্জন কৌশল প্রয়োগ করলে: অপশন B (বাণিজ্য) হলো ব্যবসায়ের একটি শাখা যা কেবল পণ্য বণ্টন ও আদান-প্রদানের সাথে যুক্ত; অপশন C (শিল্প) হলো কেবল পণ্য উৎপাদনের শাখা; এবং অপশন D (বাজারজাতকরণ) হলো বাণিজ্যের আওতাধীন বিপণন প্রক্রিয়া। যেহেতু প্রশ্নে সর্বপ্রকার মানবীয় ও অর্থনৈতিক কার্যাবলির সামগ্রিক রূপ জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই খণ্ডিত অংশগুলো বর্জনীয়।
268.
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপাদন, বণ্টন ও এর সহায়ক যাবতীয় কাজের সমষ্টিকে কী বলে? [CoU-C: 18-19]
[CoU-C: 18-19] পরীক্ষার প্রশ্ন অনুযায়ী এর সঠিক উত্তর হলো ব্যবসায়। অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষার মৌলিক সংজ্ঞা অনুসারে, মানুষের অভাব পূরণের জন্য মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য বা সেবার উৎপাদন (শিল্প), উক্ত পণ্যের বণ্টন (বাণিজ্য) এবং বণ্টন সহায়ক যাবতীয় বৈধ কার্যাবলির সমষ্টিকেই ব্যবসায় বলা হয়। বর্জন কৌশলের সাহায্যে দেখলে: অপশন A (বাণিজ্য) কেবল বণ্টনের কাজ করে, উৎপাদনের নয়। অপশন B (বিমা) হলো বাণিজ্যের একটি সহায়ক কাজ যা কেবল ঝুঁকি দূর করে। অপশন D (বিজ্ঞাপন) হলো জ্ঞানগত বাধা দূর করার একটি মাধ্যম। যেহেতু প্রশ্নে উৎপাদন, বণ্টন ও সহায়ক সব কাজের সমষ্টি জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই অপশন C সঠিক।
269.
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রকৃতি থেকে সম্পদ আহরণ করে পরবর্তীতে সেগুলোর রূপান্তর ঘটিয়ে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্য বা সেবা তৈরির প্রক্রিয়াকে কী বলে?
[CoU-C: 19-20] যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদের আকার, আকৃতি বা রূপ পরিবর্তন করে মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতা বা ব্যবহারোপযোগী নতুন পণ্য তৈরি করা হয়, তাকে 'শিল্প' (Industry) বলে। শিল্প মূলত ব্যবসায়ের উৎপাদন শাখা, যা রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, অপশন A (ব্যবসায়) একটি ব্যাপক শব্দ যার একটি অংশ হলো শিল্প। অপশন B (বাণিজ্য) উৎপাদিত পণ্য বণ্টন করে, রূপান্তর করে না। অপশন C (বাজারজাতকরণ) হলো পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় কাজের সমষ্টি। যেহেতু প্রশ্নে সরাসরি রূপান্তর বা উৎপাদনের প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, তাই সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায় অপশন D সঠিক।
270.
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে সকল কাজকে ব্যবসায় বলে।
[HSTU: 11-12,12-13] ব্যবসায়ের তাত্ত্বিক সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো 'বৈধ' অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকেই কেবল ব্যবসায় বলে। কাজটির আইনগত বৈধতা থাকা ব্যবসায়ের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত। অন্যদিকে, অপশন A (আর্থিক) কাজ হলেই তা সর্বদা ব্যবসায় হবে না, কারণ তা অবৈধ আর্থিক কাজও হতে পারে। অপশন C (বৈধ ও অবৈধ) সম্পূর্ণ ভুল, কারণ অবৈধ কাজ যেমন চোরাচালান কখনোই ব্যবসায় বলে গণ্য হয় না। যেহেতু অবৈধ কাজ ব্যবসায়ের আওতাভুক্ত নয়, তাই অপশন D (সবগুলোই) বর্জনীয়। যৌক্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে অপশন B হলো একমাত্র সঠিক উত্তর।
271.
মেট্রোরেল কোন শিল্পের অন্তর্ভুক্ত? [য. বো-২৩]
এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষার (যশোর বোর্ড-২৩) প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'সেবা' (Service) শিল্প। যৌক্তিক অবরোহ অনুযায়ী, যে শিল্প মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কাজকে সহজ, দ্রুত এবং আরামদায়ক করার জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অদৃশ্য পরিসেবা প্রদান করে, তাকে সেবা পরিবেশক শিল্প বলে। মেট্রোরেল হলো একটি অত্যাধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা, যা যাত্রীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত ও নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সরাসরি পরিবহণ 'সেবা' প্রদান করে। অন্যদিকে বর্জন কৌশল প্রয়োগ করলে: অপশন A (যৌগিক) শিল্প সাবান বা সার বানায়; অপশন C (সংযোজন) শিল্প যন্ত্রাংশ জোড়া দেয়; এবং অপশন D (নির্মাণ) শিল্প কেবল অবকাঠামো বা রেললাইন তৈরি করে। যেহেতু মেট্রোরেল সরাসরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, তাই অন্যগুলো বর্জনীয়।
272.
মোটর শিল্প, ইলেকট্রনিক্স শিল্প ও অটোমোবাইল শিল্প হলো-[JUST-F: 18-19]
[JUST-F: 18-19] সালের এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো সংযোজন শিল্প। যে শিল্পে অন্য কারখানায় উৎপাদিত বিভিন্ন খণ্ডিত বা পূর্ণাঙ্গ যন্ত্রাংশ (Parts) একত্রে জোড়া দিয়ে বা সংযোজিত করে একটি নতুন ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিগত পণ্য তৈরি করা হয়, তাকে সংযোজন শিল্প বলে। অটোমোবাইল বা মোটরগাড়ি এভাবেই বিভিন্ন পার্টস জোড়া লাগিয়ে তৈরি হয়। বর্জন কৌশল অনুযায়ী: অপশন A (যৌগিক শিল্প) হলো একাধিক রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে সার বা সাবান তৈরি করা। অপশন B (নির্মাণ শিল্প) হলো রাস্তাঘাট বা দালানকোঠা তৈরি করা। অপশন D (প্রজনন শিল্প) হলো হ্যাচারিতে মাছ বা মুরগির বংশবিস্তার ঘটানো। যেহেতু যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর কাজ তাই C সঠিক।
273.
মোবাইল ফোন কোন জাতীয় শিল্প? [IU: 15-16]
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার [IU: 15-16] এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'সংযোজন' (Assembling) শিল্প। যৌক্তিক অবরোহ অনুযায়ী, যে উৎপাদন শিল্পে অন্যান্য শিল্পে উৎপাদিত বিভিন্ন খণ্ডিত যন্ত্রাংশ (যেমন- ব্যাটারি, মাদারবোর্ড, স্ক্রিন, ক্যামেরা) একত্রিত বা সংযোজিত করে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও ব্যবহার উপযোগী পণ্য তৈরি করা হয়, তাকে সংযোজন শিল্প বলে। মোবাইল ফোন এভাবেই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জুড়ে তৈরি করা হয়। অন্যদিকে বর্জন কৌশল প্রয়োগ করলে: অপশন B (নির্মাণ) শিল্পে দালানকোঠা তৈরি হয়; অপশন C (প্রক্রিয়াকরণ) শিল্পে তুলা থেকে সুতার মতো ধারাবাহিক রূপান্তর ঘটে; এবং অপশন D (যৌগিক) শিল্পে একাধিক রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে সার বা সাবান বানানো হয়। তাই অন্যান্য অপশনগুলো ভিন্ন শিল্প নির্দেশ করায় যৌক্তিকভাবে বর্জনীয়।
274.
যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে বিভিন্ন উপায়ে বা পর্যায়ে এর আকার বা রূপগত উপযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্য উৎপাদন করা হয় তাকে বলা হয়- [CU-C: 05-06; CoU: 19-20]
চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের আলোকে সঠিক উত্তর হলো 'শিল্প' (Industry)। যৌক্তিক অবরোহ অনুযায়ী, অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক সংজ্ঞায়, কাঁচামালের আকার বা রূপগত পরিবর্তনের (Form Utility) মাধ্যমে নতুন ব্যবহারযোগ্য পণ্য সৃষ্টি বা উৎপাদন করার সামগ্রিক প্রক্রিয়াটিকেই শিল্প বলা হয়। শিল্প হলো ব্যবসায়ের উৎপাদন শাখা। অন্যদিকে বর্জন কৌশল প্রয়োগ করলে: অপশন A (ব্যবসায়) হলো উৎপাদন, বণ্টন ও সহায়ক কাজের একটি সামগ্রিক ও বৃহৎ ধারণা; অপশন C (বাণিজ্য) হলো উৎপাদিত পণ্য বণ্টন করে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া; এবং অপশন D (কারখানা) হলো সেই স্থান যেখানে শিল্পের কাজটি ঘটে, এটি প্রক্রিয়ার নাম নয়। রূপগত উপযোগ সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া কেবল শিল্প হওয়ায় অন্যগুলো বর্জনীয়।
275.
যে বাজার ব্যবস্থায় কয়েকটি বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিরাজ করে তাকে বলে-[BU: 14-15]
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার (২০১৪-১৫) এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'Oligopoly' (অলিগোপলি)। যৌক্তিক অবরোহ অনুযায়ী, অর্থনীতির বাজার কাঠামোতে অলিগোপলি হলো এমন একটি বাজার ব্যবস্থা যেখানে পণ্যের ক্রেতা অসংখ্য থাকে, কিন্তু বিক্রেতা বা উৎপাদনকারী হিসেবে বাজারে কেবল গুটিকয়েক (Few) বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান বিরাজ করে (যেমন- মোবাইল অপারেটর বা বিমান কোম্পানি)। অন্যদিকে বর্জন কৌশল প্রয়োগ করলে: অপশন B (Cartel) হলো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জোট বেঁধে একচেটিয়া বাজার তৈরির একটি অবৈধ বা নিয়ন্ত্রিত চুক্তি, এটি মৌলিক বাজার কাঠামো নয়; অপশন C (Monopoly) হলো একচেটিয়া বাজার যেখানে মাত্র একজন বিক্রেতা থাকে; এবং অপশন D (Multinational) হলো বহুজাতিক কোম্পানি, যা বাজারের ধরন নয়। তাই অন্যান্য অপশনগুলো যৌক্তিকভাবে বর্জনীয়।
276.
যে শিল্প প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ আহরণ বা সংগ্রহ করা হয় তাকে বলা হয়: [SUST: 11-12]
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের আলোকে সঠিক উত্তর হলো 'নিষ্কাশন শিল্প' (Extractive Industry)। যৌক্তিক অবরোহ অনুযায়ী, প্রকৃতি প্রদত্ত উৎস যেমন- ভূপৃষ্ঠ, ভূগর্ভ, জলভাগ বা বায়ুমণ্ডল থেকে মানুষের শ্রম ও চেষ্টার মাধ্যমে সরাসরি খনিজ বা প্রাকৃতিক সম্পদ (যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস বা বনের কাঠ) আহরণ বা উত্তোলন করা হলে তাকে নিষ্কাশন শিল্প বলে। অন্যদিকে বর্জন কৌশল প্রয়োগ করলে: অপশন A (প্রস্তুত শিল্প) কারখানায় কাঁচামাল রূপান্তর করে; অপশন B (প্রজনন শিল্প) উদ্ভিদ বা প্রাণীর বংশবিস্তার ঘটায়; অপশন D (নির্মাণ শিল্প) দালান বা রাস্তা বানায়; এবং অপশন E (প্রক্রিয়াভিত্তিক) কাঁচামালকে ধাপে ধাপে রূপান্তর করে। তাই অন্যান্য অপশনগুলো বর্জনীয়।
277.
যে শিল্পসমূহ অন্যান্য শিল্পকে সহায়তা পরিসেবা প্রদান করে, সেগুলোকে বলে.....। [DU 7 College: 22-23]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো 'টারশিয়ারি' (Tertiary) বা সেবা শিল্প। (নোট: প্রদত্ত ইনপুটে উত্তর D দেওয়া থাকলেও সেটি ভুল, সঠিক উত্তর C হবে)। যৌক্তিক অবরোহ অনুযায়ী, অর্থনীতির তিনটি খাতের মধ্যে টারশিয়ারি বা সেবা খাত (যেমন- যোগাযোগ, ব্যাংকিং, পরিবহণ) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক খাতের শিল্পের প্রসারে অপরিহার্য সহায়তা পরিসেবা প্রদান করে। অন্যদিকে বর্জন কৌশল প্রয়োগ করলে: অপশন A (প্রাথমিক শিল্প) প্রকৃতি থেকে সম্পদ আহরণ করে; অপশন B (বাণিজ্যিক শিল্প) কোনো স্বীকৃত খাত নয়; এবং অপশন D (মাধ্যমিক শিল্প) কারখানায় পণ্য উৎপাদন করে। সহায়তা পরিসেবা সরাসরি টারশিয়ারি বা তৃতীয় খাতের কাজ হওয়ায় অন্যান্য অপশনগুলো যৌক্তিকভাবে বর্জনীয়।
278.
রংপুরে উৎপাদিত হাঁড়িভাঙ্গা আম ঢাকায় বিক্রি করার উদ্দেশ্য নিয়ে গেলে কী ধরনের উপযোগ সৃষ্টি হয়?
[BRUR: 15-16] যখন কোনো পণ্য তার মূল উৎপত্তিস্থল বা উৎপাদনের ভৌগোলিক স্থান (রংপুর) থেকে পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোক্তাদের অভাব পূরণের জন্য দূরবর্তী অন্য কোনো স্থানে (ঢাকা) নিয়ে যাওয়া হয়, তখন পণ্যের সেই স্থানান্তরের ফলে সৃষ্ট উপযোগকে 'স্থানগত উপযোগ' (Place Utility) বলে। অন্যদিকে, অপশন B (সময়গত) উপযোগ সৃষ্টি হয় দীর্ঘ সময় গুদামে সংরক্ষণের মাধ্যমে, স্থানান্তরের মাধ্যমে নয়। অপশন C (স্বত্বগত) উপযোগ সৃষ্টি হয় ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে। অপশন D (আকৃতিগত) উপযোগ সৃষ্টি হয় শিল্পে কাঁচামালের রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে। তাই অপশন A সঠিক।
279.
রাজশাহীর আম ঢাকায় নিলে যে উপযোগ সৃষ্টি হয়-
[RU: 09-10] যখন কোনো কৃষিজ বা উৎপাদিত পণ্য তার উৎপত্তিস্থল (যেমন- রাজশাহী) থেকে পরিবহন বা যাতায়াত ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্য কোনো ভৌগোলিক স্থানে (যেমন- ঢাকা) ভোক্তাদের অভাব পূরণের জন্য স্থানান্তর করা হয়, তখন পণ্যের সেই স্থানান্তরের ফলে যে উপযোগ সৃষ্টি হয় তাকে 'স্থানগত উপযোগ' (Place Utility) বলে। অন্যদিকে, অপশন B (স্বত্বগত) উপযোগ সৃষ্টি হয় কেনাবেচার মাধ্যমে। অপশন C (সময়গত) উপযোগ সৃষ্টি হয় সংরক্ষণের মাধ্যমে। অপশন D (আকৃতিগত) উপযোগ সৃষ্টি হয় কারখানায় রূপান্তরের মাধ্যমে। ভৌগোলিক স্থানান্তরের যৌক্তিকতায় অপশন A সঠিক।
280.
লেনদেনের ঝুঁকিগত উপাদান হলো-
[HSTU: 12-13] ব্যবসায়ে যেকোনো লেনদেন করতে গিয়ে সবসময় প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জিত হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। পণ্য উৎপাদন বা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতি হওয়ার যে সম্ভাবনা থাকে, তাকেই 'ব্যবসায়িক লোকসান' বলা হয়, যা লেনদেনের প্রধান ঝুঁকিগত উপাদান। অন্যদিকে, অপশন B (ব্যবসায়িক লেনদেন) হলো অর্থের মাপকাঠিতে পরিমাপযোগ্য একটি সাধারণ প্রক্রিয়া, এটি নিজেই সরাসরি কোনো ঝুঁকি নয়। অপশন C (মুনাফা অর্জন) হলো ঝুঁকি গ্রহণের পুরস্কার বা ইতিবাচক ফল, এটি ঝুঁকিগত উপাদান নয়। যেহেতু অন্য অপশনগুলো ঝুঁকির সমার্থক নয়, তাই অপশন D (সবগুলো) বর্জনীয়। সুতরাং যৌক্তিক বিচারে অপশন A সঠিক।