Practice Questions

Total Questions: 23

1.
"অর্থনীতি সম্পদের বিজ্ঞান"- কে বলেছেন? [NU-Humanities: 09-10]
ক্লাসিকাল অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ তাঁর ১৭৭৬ সালে প্রকাশিত 'ওয়েলথ অব নেশন্স' গ্রন্থে অর্থনীতিকে মূলত 'সম্পদের বিজ্ঞান' (Science of Wealth) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, যা উৎপাদনে সম্পদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করে। ডেভিড রিকার্ডো বন্টন তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। রবার্ট লুকাস যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশা তত্ত্বের জন্য পরিচিত। জে.এ. সুমপিটার উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত। এঁদের কেউই অর্থনীতিকে শুধুমাত্র সম্পদের বিজ্ঞান হিসেবে মূল সংজ্ঞায়িত করেননি। তাই ঐতিহাসিক সংজ্ঞার ভিত্তিতে অ্যাডাম স্মিথই সঠিক উত্তর।
2.
Wealth of Nations' গ্রন্থের লেখক কে?
১৭৭৬ সালে প্রকাশিত 'An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন অ্যাডাম স্মিথ। এটি ক্লাসিকাল অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করে এবং পুঁজিবাদী কাঠামোর ধারণা দেয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। জ্যান টিনবারজেন অর্থনীতিতে প্রথম নোবেল বিজয়ী, এই বইয়ের লেখক নন। লিওনেল রবিন্স অর্থনীতির দুষ্প্রাপ্যতার সংজ্ঞার জন্য বিখ্যাত। তাই ঐতিহাসিকভাবে অ্যাডাম স্মিথই সঠিক।
3.
অভাবসমূহ একে অপরের-
অর্থনীতিতে মানুষের অভাবের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো অভাবসমূহ একে অপরের পরিপূরক (Complementary)। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট অভাব পূরণ করতে গেলে প্রায়ই আনুষঙ্গিক অন্যান্য জিনিসের অভাব দেখা দেয়, যেমন- গাড়ি কিনলে জ্বালানির অভাব দেখা দেয়। অভাবসমূহ সাধারণত সম্পূরক নয়। বিরোধী বলতে বোঝায় একটির উপস্থিতি অন্যটিকে নাকচ করে, যা অর্থনীতির সাধারণ নিয়মে পড়ে না। তাই পরিপূরক বৈশিষ্ট্যটিই সঠিক এবং যৌক্তিক।
4.
অমর্ত্য সেন কত সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কল্যাণ অর্থনীতি, দারিদ্র্য এবং সামাজিক চয়ন তত্ত্বে তাঁর অসামান্য গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে সম্মানজনক নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯২ বা ১৯৯৫ সালে অর্থনীতিতে অন্য অর্থনীতিবিদরা নোবেল পেয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে রবার্ট মার্টন এবং মাইরন স্কোলস অপশন প্রাইসিং মডেলের জন্য নোবেল পান। সালভিত্তিক ঐতিহাসিক তথ্যের সুনির্দিষ্টতার কারণে অন্য বিকল্পগুলো ভুল এবং ১৯৯৮ সালই একমাত্র সঠিক উত্তর।
5.
অর্থনীতি বিষয়ের জনক হলেন- [NU-Humanities: 11-12]
স্কটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথকে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি বিষয়ের জনক হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেওয়া হয়, কারণ তিনি প্রথম অর্থনীতিকে সুশৃঙ্খল, তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত বিজ্ঞান হিসেবে রূপ দান করেন। ডেভিড রিকার্ডো তুলনামূলক ব্যয় তত্ত্ব এবং খাজনা তত্ত্বের প্রবক্তা। কার্ল মার্কস বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা এবং পুঁজিবাদের ঘোর সমালোচক। এ.সি. পিগু কল্যাণ অর্থনীতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। এঁরা সবাই অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখলেও 'জনক' হিসেবে অ্যাডাম স্মিথ ঐতিহাসিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত।
6.
অর্থনীতিকে 'Micro' ও 'Macro' দুই ভাগে ভাগ করেন কে?
অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং অর্থনীতিতে প্রথম নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ র‍্যাগনার ফ্রিশ ১৯৩৩ সালে সর্বপ্রথম অর্থনীতিকে ব্যষ্টিক (Micro) এবং সামষ্টিক (Macro)—এই দুটি পৃথক ও সুনির্দিষ্ট শাখায় বিভক্ত করেন। অ্যাডাম স্মিথ অর্থনীতির জনক হলেও তিনি এই বিভাজন করেননি। পল স্যামুয়েলসন আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি গড়েছেন কিন্তু এই নামকরণ তাঁর নয়। অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল মূলত ব্যষ্টিক অর্থনীতির কল্যাণমূলক দিকের বিশ্লেষক। সুতরাং ঐতিহাসিকভাবে বিশ্লেষণ করলে র‍্যাগনার ফ্রিশই সঠিক উত্তর।
7.
অর্থনীতিকে সামাজিক বিজ্ঞান বলেছেন-
নিও-ক্লাসিকাল অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'প্রিন্সিপালস অব ইকোনমিকস' এ অর্থনীতিকে মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি নিয়ে আলোচনাকারী একটি 'সামাজিক বিজ্ঞান' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। স্যামুয়েলসন এটিকে প্রাচীনতম কলা ও নবীনতম বিজ্ঞান বলেছেন। অমর্ত্য সেন কল্যাণ ও নীতিশাস্ত্রের দিকটি তুলে ধরেছেন। অ্যাডাম স্মিথ অর্থনীতিকে মূলত সম্পদের বিজ্ঞান বলেছিলেন। তাই সংজ্ঞাগত পার্থক্যের কারণে মার্শাল সঠিক উত্তর।
8.
অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী প্রথম নারী কে?
মার্কিন অর্থনীতিবিদ এলিনর অসট্রাম (Elinor Ostrom) ২০০৯ সালে অর্থনৈতিক সুশাসন, বিশেষ করে সাধারণ সম্পদের (commons) ব্যবস্থাপনার ওপর গবেষণার জন্য অর্থনীতিতে প্রথম নারী হিসেবে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। এ্যাঞ্জেলা মরকেল জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন, অর্থনীতিবিদ নন। শিরীন এবাদী শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন। মাদাম কুরী পদার্থ ও রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন, অর্থনীতিতে নয়। তাই এলিনর অসট্রাম সঠিক উত্তর।
9.
অর্থনীতিতে প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হলেন-
১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে প্রথমবারের মতো নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় নরওয়ের র‍্যাগনার ফ্রিশ এবং নেদারল্যান্ডসের জ্যান টিনবারজেনকে। অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণে গতিশীল মডেল তৈরির জন্য তারা এই যৌথ পুরস্কার পান। পল স্যামুয়েলসন নোবেল পান ১৯৭০ সালে, অমর্ত্য সেন পান ১৯৯৮ সালে। অ্যাডাম স্মিথ, মার্শাল, ম্যালথাস বা রবিন্সদের আমলে নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তনই হয়নি। তাই ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাগনার ফ্রিশ ও টিনবারজেন সঠিক।
10.
অর্থনীতিতে স্বল্পতা (scarcity) মানে- [NU-Humanities: 12-13]
অর্থনীতিতে 'স্বল্পতা' বা দুষ্প্রাপ্যতা বলতে মানুষের অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সীমিত সম্পদের অপ্রতুলতাকে বোঝায়। এই অভাব ও সম্পদের অসমতার কারণেই মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। সীমিত অভাব ও সীমিত সম্পদের পার্থক্য অবাস্তব, কারণ মানুষের অভাব কখনোই সীমিত নয় বরং অসীম। মোট সুবিধা ও খরচের পার্থক্য হলো মুনাফা বা নিট লাভ। সুযোগ ব্যয় হলো একটি বিকল্প গ্রহণের জন্য অন্য সেরা বিকল্পটি ত্যাগ করা। তাই অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের ধারণাই সঠিক।
11.
অর্থনীতির জনক কে? [NU-Humanities: 13-14]
স্কটিশ দার্শনিক ও ক্লাসিকাল অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথকে সামগ্রিক অর্থনীতির জনক বলা হয়। ১৭৭৬ সালে তাঁর 'ওয়েলথ অব নেশন্স' গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে অর্থনীতি একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। জন মেনার্ড কেইনস হলেন আধুনিক সামষ্টিক অর্থনীতির জনক, সামগ্রিক অর্থনীতির জনক নন। কার্ল মার্কসকে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির প্রবক্তা বলা হয়। টমাস রবার্ট ম্যালথাস তাঁর জনসংখ্যা তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত। সুতরাং সর্বজনস্বীকৃতভাবে অ্যাডাম স্মিথই সঠিক উত্তর।
12.
অর্থনৈতির মৌলিক সমস্যা নয় কোনটি?
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ পল স্যামুয়েলসনের মতে, যেকোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান তিনটি মৌলিক সমস্যা হলো: কী ও কতটুকু উৎপাদন করতে হবে, কীভাবে বা কোন উপায়ে উৎপাদন করতে হবে এবং কার জন্য উৎপাদন করতে হবে। 'কে উৎপাদনের বণ্টন করবে' এটি সরাসরি কোনো মৌলিক সমস্যা হিসেবে স্বীকৃত নয়, বরং এটি 'কার জন্য উৎপাদন করা হবে' এই প্রশ্নের একটি পরোক্ষ এবং আনুষঙ্গিক অংশ মাত্র। তাই লজিক্যাল এলিমিনেশনের মাধ্যমে স্পষ্টতই বোঝা যায় ঘ নম্বর অপশনটি সঠিক।
13.
আধুনিক অর্থনীতির জনক-
মার্কিন অর্থনীতিবিদ পল এ. স্যামুয়েলসনকে 'আধুনিক অর্থনীতির জনক' বলা হয়, কারণ তিনি অর্থনীতিতে গণিত ও পরিসংখ্যানের ব্যাপক ব্যবহার করে এটিকে আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক রূপ দিয়েছেন। অ্যাডাম স্মিথ হলেন সনাতন বা সামগ্রিক অর্থনীতির জনক। র‍্যাগনার ফ্রিশ অর্থনীতিকে ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক ভাগে ভাগ করেছেন, জনক নন। অমর্ত্য সেন কল্যাণ অর্থনীতির একজন নোবেলজয়ী প্রবক্তা। আধুনিক গাণিতিক বিশ্লেষণের ভিত্তি গড়ার কারণে স্যামুয়েলসন সঠিক উত্তর।
14.
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা- [NU-Humanities: 14-15]
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (Production Possibility Curve) সাধারণত বাম থেকে ডান দিকে নিম্নগামী বা অবতল হয়। এর যৌক্তিক কারণ হলো, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি অর্থনীতিতে সম্পদ ও প্রযুক্তি সীমিত থাকে, ফলে একটি দ্রব্যের উৎপাদন বাড়াতে চাইলে অন্য দ্রব্যের উৎপাদন অবশ্যই কমাতে হয়। ঊর্ধ্বগামী রেখা সরাসরি সম্পর্ক নির্দেশ করে, যা সীমিত সম্পদের ক্ষেত্রে অবাস্তব। ভূমির সমান্তরাল রেখা বোঝায় একটির উৎপাদন অপরিবর্তিত রেখে অন্যটি বাড়ানো সম্ভব, যা ভুল। ভূমির সাথে লম্ব রেখাও সম্পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক পরিস্থিতি নির্দেশ করে। তাই নিম্নগামী সঠিক।
15.
কত সাল থেকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরষ্কার প্রবর্তন করা হয়?
আলফ্রেড নোবেলের মূল উইলে অর্থনীতির কথা ছিল না। সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ৩০০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৬৮ সালে এই পুরস্কারটি চালু করে এবং ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো তা র‍্যাগনার ফ্রিশ ও জ্যান টিনবারজেনকে প্রদান করা হয়। ১৯০১ সাল থেকে পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল দেওয়া শুরু হয়। ১৯৫৯ বা ১৯৭৯ সাল এই পুরস্কার প্রবর্তনের সাথে সম্পর্কিত নয়। তাই ১৯৬৯ সাল সঠিক।
16.
কোন অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না?
সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ওপর কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না; জমি, কলকারখানা এবং উৎপাদনের সকল উপাদানের রাষ্ট্রীয় বা যৌথ মালিকানা থাকে। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগত উভয় মালিকানাই পাশাপাশি অবস্থান করে। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় শরীয়তের সীমার মধ্যে ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত। তাই সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা সঠিক।
17.
কোন ধরনের অর্থ ব্যবস্থায় ভোক্তার নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা বিরাজমান?
সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ ঠিক করে দেয় কী উৎপাদিত হবে, ফলে বাজারে ক্রেতা বা ভোক্তার সার্বভৌমত্ব বা স্বাধীনতা থাকে না, তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। মিশ্র এবং পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় ভোক্তার পছন্দ অনুযায়ী বাজার পরিচালিত হয়, ফলে স্বাধীনতা থাকে। ইসলামি অর্থনীতিতে হালাল-হারামের শর্ত থাকলেও ভোক্তারা হালাল দ্রব্যের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকে। তাই সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা সঠিক।
18.
দ্যা ওয়েলথ অব নেশন্স' বইটি লিখেছেন- [NU-Humanities: 14-15]
১৭৭৬ সালে প্রকাশিত 'অ্যান ইনকোয়ারি ইনটু দ্য নেচার অ্যান্ড কজেস অব দ্য ওয়েলথ অব নেশনস' বইটির রচয়িতা ক্লাসিকাল অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ, যাকে আধুনিক অর্থনীতির জনক বলা হয়। এই বইটি অর্থনীতিকে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তক, তিনি এই বই লেখেননি। কার্ল মার্কস 'দাস ক্যাপিটাল' গ্রন্থের রচয়িতা, যা সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির ভিত্তি। অমর্ত্য সেন কল্যাণ অর্থনীতির জন্য নোবেলজয়ী, তবে এই বিখ্যাত বইটি তাঁর রচনা নয়। সুতরাং ঐতিহাসিকভাবে অ্যাডাম স্মিথই সঠিক।
19.
বাংলাদেশে কোন ধরনের অর্থ ব্যবস্থা বিদ্যমান? [NU-Humanities: 24-25]
বাংলাদেশে মিশ্র অর্থ ব্যবস্থা বিদ্যমান, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় সহাবস্থান লক্ষ্য করা যায়। এই ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মালিকানার পাশাপাশি জনকল্যাণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগও কাজ করে। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্পদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে এবং সরকারের হস্তক্ষেপ থাকে না, যা বাংলাদেশে পুরোপুরি নেই। নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সব সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় থাকে, এটিও বাংলাদেশের চিত্র নয়। ইসলামি অর্থ ব্যবস্থা শরিয়াহ ভিত্তিক, কিন্তু বাংলাদেশের মূল অর্থনৈতিক কাঠামো সুদভিত্তিক এবং বৈশ্বিক পুঁজিবাদের সাথে মিশ্রিত। তাই মিশ্র ব্যবস্থা সঠিক।
20.
সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন সম্ভাবনা' রেখার কি হয়? [NU-Humanities: 13-14]
কোনো অর্থনীতিতে যখন সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, শ্রমশক্তির উন্নতি হয় বা প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধিত হয়, তখন ওই দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে যায়, যার ফলে সম্পূর্ণ উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC) ডানদিকে বা বাইরের দিকে স্থানান্তরিত হয়। বামদিকে স্থানান্তর ঘটে কেবল যখন সম্পদ কমে যায় বা ধ্বংস হয়। একই রেখার এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দুতে স্থানান্তর কেবল দুটি দ্রব্যের উৎপাদনের অনুপাত পরিবর্তনের ফলে ঘটে, সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি নির্দেশ করে না। তাই ডানদিকে স্থানান্তরই যৌক্তিক উত্তর।