Practice Questions

Total Questions: 11

1.
অশ্মমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণকে অশ্মমণ্ডল বা শিলামণ্ডল (Lithosphere) বলা হয়। এটি মূলত বিভিন্ন প্রকার শিলা (Rock) এবং খনিজ (Mineral) পদার্থ দ্বারা গঠিত। তাই শিলা ও খনিজ সরাসরি অশ্মমণ্ডলের প্রধান উপাদান। অন্যদিকে, বায়ুর উপাদানসমূহ (যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন) বায়ুমণ্ডলের (Atmosphere) অংশ, অশ্মমণ্ডলের নয়। মহীসোপান (Continental Shelf) সমুদ্রের তলদেশের ভূপ্রকৃতির অংশ, যা বারিমণ্ডলের (Hydrosphere) অধীনে সমুদ্রবিদ্যা বা ওশানোগ্রাফিতে আলোচিত হয়। টর্নেডো হলো একটি বায়ুমণ্ডলীয় দুর্যোগ বা ঝড়ের রূপ, যা জলবায়ুবিদ্যা এবং বায়ুমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং, অন্য তিনটি বিকল্প বাদ দিলে অশ্মমণ্ডলের সঠিক উপাদান হিসেবে শিলা ও খনিজ নির্ধারণ করা যৌক্তিক।
2.
কোনটি প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত নয়?
প্রাকৃতিক ভূগোল মূলত পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগের প্রাকৃতিক পরিবেশ, ভূমিরূপ, বায়ুমণ্ডল এবং বারিমণ্ডল নিয়ে আলোচনা করে। ভূমিরূপবিদ্যা এবং সমুদ্রবিদ্যা হলো প্রাকৃতিক ভূগোলের দুটি প্রধান ও সুপ্রতিষ্ঠিত শাখা। সমুদ্র স্রোত সমুদ্রবিদ্যার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় বা উপাদান। অন্যদিকে, ভূমিকম্প (Earthquake) মূলত পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন এবং প্লেট টেকটোনিক্সের সাথে সম্পর্কিত, যা বিশুদ্ধ ভূতত্ত্ববিদ্যা (Geology) বা ভূকম্পনবিদ্যার (Seismology) মূল আলোচ্য বিষয়। যদিও প্রাকৃতিক ভূগোলে ভূমিকম্পের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়, তবে কাঠামোগতভাবে এটি ভূগোলের নিজস্ব শাখা বা মৌলিক উপাদান নয়, বরং ভূতত্ত্বের অংশ। তাই অন্য বিকল্পগুলোর তুলনায় ভূমিকম্পকে সরাসরি প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল কাঠামোর বাইরে ধরা যৌক্তিক।
3.
প্রাকৃতিক ভূগোলের উপাদান কোনটি?
প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো প্রকৃতির বিভিন্ন জড় ও জীব উপাদান এবং তাদের চক্রাকার প্রক্রিয়া। পানি চক্র (Water Cycle) একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা বারিমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল ও অশ্মমণ্ডলের মধ্যে পানির আদান-প্রদান নিশ্চিত করে; তাই এটি প্রাকৃতিক ভূগোলের অবিচ্ছেদ্য উপাদান। অন্যদিকে, বসতি (Settlement), নগরায়ণ (Urbanization) এবং শিল্পায়ন (Industrialization) হলো মানবীয় বা অর্থনৈতিক ভূগোলের (Human/Economic Geography) উপাদান, কারণ এগুলো মানুষের কার্যকলাপ, সমাজ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রকৃতি নিজে থেকে নগর বা শিল্প তৈরি করে না। সুতরাং, লজিক্যাল এলিমিনেশনের মাধ্যমে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে কেবল পানি চক্রই প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত।
4.
প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন শাখায় নদ-নদীর উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়?
প্রাকৃতিক ভূগোলের যে শাখায় পৃথিবীর পৃষ্ঠের বিভিন্ন ভূমিরূপ, এদের উৎপত্তি, বিবর্তন এবং নদ-নদী, হিমবাহ, বায়ু প্রভৃতির কার্য নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology) বলে। তাই নদ-নদীর উৎপত্তি ও এর কার্যকলাপ ভূমিরূপবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, পানিবিদ্যা (Hydrology) মূলত পৃথিবীর পানিসম্পদ, পানি চক্র এবং ভূপৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ পানির বণ্টন নিয়ে কাজ করে, সরাসরি নদ-নদীর উৎপত্তির ভূমিরূপগত দিক নয়। জলবায়ুবিদ্যা (Climatology) বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থা, তাপ, চাপ ও বায়ুপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করে। সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography) মহাসাগর, সমুদ্রস্রোত ও মহীসোপান নিয়ে কাজ করে। সুতরাং, যৌক্তিক কারণেই সঠিক উত্তর ভূমিরূপবিদ্যা।
5.
প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন শাখায় নদীর কার্য নিয়ে বর্ণনা রয়েছে?
প্রাকৃতিক ভূগোলের ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology) শাখায় ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন ভূমিরূপ সৃষ্টি, পরিবর্তন এবং এর পেছনে দায়ী প্রাকৃতিক শক্তিগুলোর (যেমন- নদী, বায়ু, হিমবাহ) কার্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নদীর ক্ষয়, বহন এবং সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলো এই শাখার মূল আলোচ্য। অন্যদিকে, জলবায়ুবিদ্যা (Climatology) বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়া নিয়ে কাজ করে, নদীর কার্য নিয়ে নয়। বারিমণ্ডল (Hydrosphere) বলতে পৃথিবীর সমগ্র জলভাগকে বোঝায়, তবে নদীর 'ভূমিরূপ পরিবর্তনকারী কার্য' সরাসরি ভূমিরূপবিদ্যার অংশ। জীবমণ্ডল (Biosphere) প্রাণী ও উদ্ভিদ জগৎ নিয়ে আলোচনা করে। সুতরাং, নদীর কার্যাবলি পর্যালোচনার জন্য ভূমিরূপবিদ্যাই হলো সবচেয়ে সঠিক এবং যৌক্তিক উত্তর।
6.
প্রাকৃতিক ভূগোলের নবীনতম শাখা কোনটি?
প্রাকৃতিক ভূগোলের বিভিন্ন শাখার মধ্যে জীবমণ্ডল বা জীবভূগোল (Biogeography) তুলনামূলকভাবে নবীনতম শাখা। এই শাখায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর ভৌগোলিক বণ্টন, বাস্তুতন্ত্র এবং পরিবেশের সাথে তাদের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সময়ের সাথে সাথে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এই শাখাটি বিকশিত হয়েছে। অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology) পৃথিবীর কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রাচীন অধ্যয়ন। জলবায়ুবিদ্যা (Climatology) আবহাওয়া ও জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে, যা ভূগোলের অন্যতম প্রাচীন দিক। সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography) প্রাচীনকাল থেকেই নাবিক ও বিজ্ঞানীদের দ্বারা পঠিত। তাই অন্যান্য প্রাচীন ও সুপ্রতিষ্ঠিত শাখার তুলনায় জীবমণ্ডল বা জীবভূগোল আধুনিক এবং নবীনতম সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।
7.
প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করলে কোনটি পরিলক্ষিত হয়?
ভূগোলের আভিধানিক অর্থ ও প্রাচীন সংজ্ঞায় পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাকাশীয় প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। প্রাকৃতিক ভূগোলের বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ (Astronomical Geography) থেকে দেখলে পৃথিবীর উৎপত্তি, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান এবং সৌরজগতের সাথে পৃথিবীর সম্পর্ক—এগুলো মহাকাশীয় বিষয়াবলির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, 'পৃথিবী' হলো সামগ্রিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, 'সমুদ্র' বারিমণ্ডলের অংশ এবং 'বনভূমি' জীবমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু অন্যান্য বিকল্পগুলো পৃথিবী পৃষ্ঠের নির্দিষ্ট উপাদান বা স্তরকে নির্দেশ করে, তাই একটি বৃহত্তর ও আদিম প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রদত্ত উত্তর অনুযায়ী মহাকাশকে মূল বিষয়বস্তুর প্রাথমিক পটভূমি হিসেবে যৌক্তিকভাবে গ্রহণ করা যায়।
8.
বারিমণ্ডলের উপাদান কোনটি?
পৃথিবীর সমগ্র জলভাগকে একত্রে বারিমণ্ডল বা হাইড্রোস্ফিয়ার (Hydrosphere) বলা হয়, যার মধ্যে সাগর, মহাসাগর, নদী এবং হ্রদ অন্তর্ভুক্ত। সমুদ্র স্রোত হলো মহাসাগরের পানির নিয়মিত ও নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহ, তাই এটি সরাসরি বারিমণ্ডলের একটি প্রধান উপাদান। অন্যদিকে, বায়ু প্রবাহ বায়ুমণ্ডলের (Atmosphere) অংশ, যা বায়ুর চাপের তারতম্যের কারণে ঘটে। ভূমিকম্প অশ্মমণ্ডল বা শিলামণ্ডলের (Lithosphere) ভূ-গাঠনিক আলোড়নের ফল। আর সৌরতাপ হলো সূর্য থেকে আগত শক্তি, যা জলবায়ুবিদ্যা বা বায়ুমণ্ডলের তাপীয় অবস্থার সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং, অন্যান্য বিকল্পগুলো বায়ুমণ্ডল ও অশ্মমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, যৌক্তিকভাবে সমুদ্র স্রোতই বারিমণ্ডলের একমাত্র সঠিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হবে।
9.
ভূগোল বিষয়টি কীসের আলোকে পৃথিবী ও মানুষের আন্তঃসম্পর্ক আলোচনা করে?
ভূগোল বিষয়টি মূলত স্থান (Space) এবং কাল (Time) এর আলোকে পৃথিবী ও মানুষের মধ্যকার জটিল আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক স্থানে সময়ের সাথে সাথে মানববসতি, পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের যে পরিবর্তন সাধিত হয়, তা ভূগোলের মূল আলোচ্য বিষয়। অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে, 'স্থান ও পানি' আংশিক ধারণা, কারণ পানি ছাড়াও অনেক উপাদান রয়েছে। 'কাল বিবর্তন' শুধুমাত্র সময়ের পরিবর্তন বোঝায়, কিন্তু স্থানের প্রেক্ষাপট বাদ দেয়। 'সময় ও সুযোগ' একটি সাধারণ শব্দগুচ্ছ, যার কোনো সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তাই স্থান ও কাল-এর সমন্বিত দৃষ্টিকোণই ভূগোল অধ্যয়নের সবচেয়ে সঠিক এবং গ্রহণযোগ্য মাপকাঠি।
10.
ভূগোলের কোন শাখায় বায়ুর চাপ, তাপ, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি আলোচনা করা হয়?
ভূগোলের যে শাখায় দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়া, বায়ুমণ্ডলের উপাদান, বায়ুর চাপ, তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিপাত নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করা হয়, তাকে জলবায়ুতত্ত্ব বা জলবায়ুবিদ্যা (Climatology) বলা হয়। তাই বায়ুর চাপ ও তাপ জলবায়ুতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ভূমিরূপ তত্ত্ব (Geomorphology) পৃথিবীর কঠিন ভূত্বক, পর্বত, মালভূমি ও সমভূমির গঠন এবং নদীর কাজ নিয়ে আলোচনা করে, বায়ুমণ্ডল নিয়ে নয়। সমুদ্রতত্ত্ব (Oceanography) মহাসাগরের তলদেশ, সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা নিয়ে কাজ করে। যেহেতু প্রথম তিনটি বিকল্পের মধ্যে জলবায়ুতত্ত্ব বায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলো নিখুঁতভাবে ধারণ করে, তাই 'কোনোটিই নয়' বিকল্পটিও বাতিলযোগ্য। অতএব, সঠিক উত্তর হলো জলবায়ুতত্ত্ব।
11.
সমুদ্র বিদ্যার উপাদান নয় কোনটি?
সমুদ্রবিদ্যা বা ওশানোগ্রাফি (Oceanography) হলো প্রাকৃতিক ভূগোলের সেই শাখা, যা মহাসাগর, সমুদ্রের তলদেশের ভূপ্রকৃতি এবং সামুদ্রিক পানি নিয়ে আলোচনা করে। মহাসাগর, মহীসোপান (সমুদ্রের তলদেশের অগভীর অংশ) এবং সমুদ্র স্রোত—এই তিনটি বিষয় সরাসরি সমুদ্রবিদ্যার অবিচ্ছেদ্য উপাদান। অন্যদিকে, ভূমিকম্প (Earthquake) হলো ভূত্বকের আকস্মিক কম্পন, যা মূলত অভ্যন্তরীণ ভূ-গাঠনিক শক্তির (Tectonic forces) কারণে ঘটে। এটি ভূতত্ত্ব বা ভূমিরূপবিদ্যার (Geomorphology) প্রধান আলোচ্য বিষয়। যদিও সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প হলে সুনামি হতে পারে, তবে ভূমিকম্প নিজে সমুদ্রবিদ্যার মূল উপাদান নয়। তাই অন্য তিনটি সামুদ্রিক উপাদানের বিপরীতে ভূমিকম্পই হলো সঠিক উত্তর, যা সমুদ্রবিদ্যার উপাদান নয়।