Practice Questions

Total Questions: 48

21.
পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি কোন ধরনের বনভূমির অন্তর্গত? NU-Humanities (11-12)
পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি মূলত ক্রান্তীয় চিরসবুজ এবং আধা-চিরসবুজ (Tropical Evergreen) প্রকৃতির, যেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং সারা বছর গাছপালা সবুজ থাকে, তাই এটি সঠিক। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: নাতিশীতোষ্ণ বনভূমি শীতপ্রধান অঞ্চলে দেখা যায়, যা বাংলাদেশের উষ্ণ জলবায়ুর সাথে বেমানান। উপ-ক্রান্তীয় পত্রপতনশীল বনভূমি মূলত শালবন অঞ্চলে (যেমন ভাওয়াল ও মধুপুর) দেখা যায়, যেখানে শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যায়। সরল বর্গীয় বনভূমি হিমালয় বা অতি উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা যায় (যেমন পাইন বন), যা পার্বত্য চট্টগ্রামের তুলনামূলক কম উচ্চতার পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় না।
22.
পৃথিবীর উপরের স্তর কোন শিলা দ্বারা গঠিত?
পৃথিবীর একেবারে উপরের কঠিন স্তর বা মহাদেশীয় ভূত্বক (Sial) মূলত হালকা এবং সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ 'গ্রানাইট' আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিত। তাই তৃতীয় বিকল্পটি সঠিক উত্তর। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: গ্রাফাইট হলো কার্বনের একটি রূপভেদ বা খনিজ, এটি ভূত্বক গঠনকারী কোনো প্রধান শিলা নয়। পাললিক শিলা ভূত্বকের উপরিভাগে পাতলা আস্তরণ হিসেবে থাকলেও এটি পুরো উপরের স্তরের মূল ভিত্তি বা প্রাথমিক গঠনকারী উপাদান নয়। যেহেতু গ্রানাইট সরাসরি ভূত্বকের মূল গঠনে যুক্ত, তাই 'কোনোটিই নয়' বিকল্পটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুল হয়ে যায়।
23.
পৃথিবীর দীর্ঘ ও উচ্চতম পর্বত হলো-
পৃথিবীর দীর্ঘতম (যেমন: আন্দিজ) এবং উচ্চতম (যেমন: হিমালয়) পর্বতগুলো মূলত ভঙ্গিল পর্বত (Folded Mountain)। টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভূত্বকে প্রবল ভাঁজ সৃষ্টির মাধ্যমে এসব বিশাল পর্বতমালা গঠিত হয়। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: আগ্নেয় পর্বত সাধারণত একক এবং খাড়া হয়, এরা দীর্ঘ পর্বতমালা তৈরি করে না। ল্যাকোলিথ পর্বত ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা জমে তৈরি গম্বুজাকৃতির ছোট পাহাড়, যা মোটেও দীর্ঘ বা সর্বোচ্চ নয়। ক্ষয়জাত পর্বত মূলত প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত পুরনো পাহাড়, তাই এদের উচ্চতা অনেক কম থাকে।
24.
পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি কোনটি?
পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি হলো ইউরেশিয়ার সমভূমি (Eurasian Plain), যা ইউরোপের আটলান্টিক উপকূল থেকে শুরু করে রাশিয়ার উরাল পর্বতমালা পেরিয়ে এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি আয়তনে অন্য যেকোনো সমভূমির চেয়ে বিশাল। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: উত্তর আমেরিকার প্রেইরি বা বৃহৎ সমভূমি বিশাল হলেও ইউরেশিয়ার তুলনায় অনেক ছোট। অস্ট্রেলিয়ার সমভূমি মহাদেশটির গঠন অনুযায়ী মূলত শুষ্ক ও অপেক্ষাকৃত ছোট পরিসরের। আমাজন অববাহিকা একটি বিশাল নিরক্ষীয় সমভূমি ঠিকই, তবে সামগ্রিক বিস্তৃতির দিক থেকে এটি ইউরেশিয়ার বিশাল সমভূমির চেয়ে আয়তনে ক্ষুদ্রতর।
25.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় রয়েছে? NU-Humanities (09-10)
বাংলাদেশের একমাত্র মহেশখালী দ্বীপে টারশিয়ারি যুগের প্রাচীন পাহাড়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যা একে অন্যান্য দ্বীপ থেকে ভূতাত্ত্বিকভাবে আলাদা করেছে। তাই চতুর্থ বিকল্পটি সঠিক। অন্য বিকল্পগুলো ভুল হওয়ার কারণ: সন্দীপ মেঘনার মোহনায় পলি জমে তৈরি একটি অপেক্ষাকৃত নবীন দ্বীপ, এখানে কোনো প্রাচীন পাহাড় নেই। কুতুবদিয়াও সমুদ্রের পলি ও বালুচর দ্বারা গঠিত একটি সমতল দ্বীপ। নিঝুমদ্বীপ অত্যন্ত সাম্প্রতিককালে পলি সঞ্চয়ের ফলে জেগে ওঠা একটি নিচু দ্বীপ, যেখানে ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে তবে কোনো পাহাড় নেই। তাই শুধুমাত্র মহেশখালীই পাহাড়ি কাঠামোর শর্ত পূরণ করে।
26.
বাংলাদেশের কোন ভূমিরূপ সবচেয়ে প্রাচীন? NU-Humanities (09-10)
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি ভূমি (সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল), যা প্রায় ২ থেকে ২.৫ কোটি বছর আগে গঠিত হয়েছিল। তাই প্রথম বিকল্পটি সঠিক। অন্যগুলো ভুল কারণ: বরেন্দ্রভূমি প্লাইস্টোসিন যুগের (প্রায় ২৫,০০০ থেকে ১ লক্ষ বছর আগের) সোপান, যা পাহাড়ের তুলনায় অনেক নবীন। উপকূলীয় সমভূমি নদী ও সমুদ্রের পলি দ্বারা গঠিত সাম্প্রতিক কালের (হলোসিন যুগের) ভূমিরূপ। ভোলা বা হাতিয়ার মতো দ্বীপসমূহ মূলত পলি সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট অতি সাম্প্রতিক গঠন। তাই ভূতাত্ত্বিক বিচারে পাহাড়ি ভূমিই সবচেয়ে প্রাচীন।
27.
বাংলাদেশের পর্বতের সাথে গঠনগত মিল রয়েছে কোন পর্বতের?
প্রদত্ত উত্তরমালায় হেনরি পর্বতকে (ল্যাকোলিথ) সঠিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের পাহাড়গুলো মূলত টারশিয়ারি যুগের ভঙ্গিল পর্বত (Folded Mountain), প্রশ্নকর্তার নির্দিষ্ট মানদণ্ডে হেনরি পর্বতকে গঠনগত সমকক্ষ ধরা হয়েছে। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: ফুজিয়ামা (জাপান) এবং ভিসুভিয়াস (ইতালি) হলো পুরোপুরি আগ্নেয়গিরি বা আগ্নেয় পর্বত, যার সাথে বাংলাদেশের মাটির স্তরবিশিষ্ট পাহাড়ের কোনো মিল নেই। আন্দিজ একটি বিশাল মহাদেশীয় ভঙ্গিল পর্বতমালা হলেও, প্রশ্নের নির্দিষ্ট কাঠামোগত দৃষ্টিভঙ্গিতে এখানে হেনরিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাই পরীক্ষার উত্তরপত্র অনুযায়ী এটিই সঠিক উত্তর।
28.
বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় কোনটি?
প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে বান্দরবান জেলায় অবস্থিত 'তাজিনডং' (বিজয়) বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পাঠ্যপুস্তকে স্বীকৃত। এর উচ্চতা প্রায় ১২৩১ মিটার বা ৪০৩৯ ফুট। (যদিও সাম্প্রতিক জরিপে সাকা হাফং সবচেয়ে উঁচু, তবে বিকল্পে তা নেই)। অন্যগুলো ভুল কারণ: গারো পাহাড় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থিত এবং তুলনামূলকভাবে অনেক নিচু। চিম্বুক বান্দরবানের একটি সুপরিচিত পাহাড় হলেও এটি সর্বোচ্চ নয়। চন্দ্রনাথ পাহাড় সীতাকুণ্ডে অবস্থিত, যার উচ্চতা তাজিনডংয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তাই প্রদত্ত বিকল্প অনুসারে তাজিনডং সঠিক উত্তর।
29.
বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে জানতে কোন তথ্যটি নির্ভরযোগ্য মনে করেন?
বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তরভাগ (Mantle এবং Core) সম্পর্কে জানার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে ভূমিকম্পের তরঙ্গের (P, S, L waves) গতি ও প্রকৃতি বিশ্লেষণকে ব্যবহার করেন। তরঙ্গগুলো বিভিন্ন ঘনত্বের স্তরে ভিন্নভাবে প্রতিসরিত হয়, যা স্তরের বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে সাহায্য করে। অন্যগুলো ভুল কারণ: অগ্ন্যুৎপাত কেবল ভূত্বকের কিছুটা নিচের (ম্যাগমা চেম্বার) তথ্য দেয়, একেবারে কেন্দ্রের নয়। পৃথিবীর চৌম্বকত্ব আউটার কোরের তরল লোহার ধারণা দিলেও সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ কাঠামোর সঠিক চিত্র দেয় না। ডিনামাইট বিস্ফোরণ অত্যন্ত অগভীর স্তরের জরিপে ব্যবহৃত হয়।
30.
বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ কোথায় অবস্থিত?
বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ বা ডেল্টা হলো গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ, যার বেশিরভাগ অংশই বাংলাদেশে অবস্থিত (বাংলাদেশ নিজেই একটি বিশাল ব-দ্বীপ)। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর মিলিত পলি দ্বারা এটি গঠিত। তাই প্রথম বিকল্পটি সঠিক। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: ভারতের গাঙ্গেয় সমভূমির কিছু অংশে ব-দ্বীপ থাকলেও মূল বিশাল অংশটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। পাকিস্তান মূলত সিন্ধু নদের অববাহিকায় অবস্থিত, সেখানে বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ নেই। মায়ানমারে ইরাবতী নদীর ব-দ্বীপ রয়েছে, তবে তা বাংলাদেশ ও ভারতের গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের আয়তনের তুলনায় অনেক ছোট।
31.
ভূ-অভ্যন্তরের নিচ দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ-
ভূত্বক থেকে পৃথিবীর যত কেন্দ্রের দিকে বা নিচের দিকে যাওয়া যায়, তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে (প্রায় প্রতি ৩২ মিটারে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি পায়)। পৃথিবীর কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি। তাই প্রথম বিকল্পটি সঠিক। অন্য বিকল্পগুলো সম্পূর্ণ ভুল। পৃথিবীর অভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যাগমা ও তেজস্ক্রিয় উপাদানের কারণে তাপমাত্রা কখনোই কমতে পারে না। এটি কোনোভাবেই স্থির থাকে না, গভীরতার সাথে সাথে তাপের তীব্রতা বাড়ে। তাই কমতে থাকে, স্থির থাকে বা কোনোটিই নয়—এই বিকল্পগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন ও ভুল।
32.
ভূত্বক কোন দুইটি স্তরে বিভক্ত?
পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের আবরণ বা ভূত্বককে রাসায়নিক উপাদানের ভিত্তিতে প্রধানত দুটি স্তরে ভাগ করা হয়: উপরের সিয়াল (Silica + Aluminum) এবং নিচের সিমা (Silica + Magnesium)। তাই প্রথম বিকল্পটি সঠিক। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: ক্রোফেসিয়া (Chromium, Iron, Silicon, Magnesium) এবং নিফেসিয়া (Nickel, Iron, Silicon, Magnesium) হলো পৃথিবীর গভীরে অবস্থিত গুরুমণ্ডলের (Mantle) দুটি স্তর, এগুলো ভূত্বকের অংশ নয়। ফলে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বিকল্পে গুরুমণ্ডলের উপাদানের নাম যুক্ত থাকায় সেগুলো ভূত্বকের বিভাজন হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং ভুল উত্তর।
33.
ভূত্বকের নিচের অংশ অর্থাৎ সিমা স্তর কোন শিলায় গঠিত?
ভূত্বকের নিচের অংশ বা মহাসাগরীয় ভূত্বক, যা সিমা (Silica + Magnesium) নামে পরিচিত, তা মূলত অত্যন্ত ভারী, ঘন ও গাঢ় রঙের 'ব্যাসল্ট' শিলা দ্বারা গঠিত। তাই চতুর্থ বিকল্পটি সঠিক। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: গ্রানাইট শিলা হালকা এবং এটি উপরের স্তর বা মহাদেশীয় ভূত্বক গঠন করে। আগ্নেয় শিলা একটি সাধারণ শ্রেণি, যার মধ্যে গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট দুটোই পড়ে, তাই সুনির্দিষ্ট উত্তর হিসেবে এটি অসম্পূর্ণ। পাললিক শিলা পলি জমে তৈরি হয়, যা ভূগর্ভের এত গভীরে মূল শিলাস্তর হিসেবে থাকে না।
34.
ভূপৃষ্ঠের প্রধান দুইটি ধাতুর নাম কী? NU-Humanities (14-15)
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো অ্যালুমিনিয়াম ও লোহা, কারণ পৃথিবীর পৃষ্ঠ বা ভূত্বকের গঠনে এই দুটি ধাতুই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। ভূত্বকে অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ প্রায় শতকরা ৮.১ ভাগ এবং লোহার পরিমাণ প্রায় শতকরা ৫.০ ভাগ। অন্য বিকল্পগুলো এখানে সম্পূর্ণ ভুল। প্রথম বিকল্পে থাকা লোহা ও নিকেল মূলত পৃথিবীর একেবারে ভেতরের অংশ বা কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান, ভূত্বকের নয়। দ্বিতীয় বিকল্পের ক্রোমিয়াম ও নিকেলের পরিমাণ ভূত্বকে খুবই নগণ্য। তৃতীয় বিকল্পের নিকেল ও ক্যাডমিয়ামও ভূত্বকের প্রধান উপাদান নয়, ক্যাডমিয়াম প্রকৃতিতে বেশ বিরল। তাই যৌক্তিকভাবে চতুর্থ বিকল্পটিই সঠিক।
35.
ভূ-বিজ্ঞানী কান্টের নীহারিকা মতবাদটির ভিত্তি কোনটি?
ইমানুয়েল কান্ট ১৭৫৫ সালে তার 'নীহারিকা মতবাদ' (Nebular Hypothesis) প্রদান করেন, যা সম্পূর্ণভাবে আইজ্যাক নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্বের (Law of Gravitation) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে মহাকর্ষ বলের প্রভাবে নীহারিকার কণাগুলো একত্রিত হয়ে গ্রহের সৃষ্টি করেছে। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: জোয়ার তত্ত্ব (Tidal Hypothesis) জেমস জিনস প্রদান করেছিলেন, কান্ট নয়। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব বিংশ শতাব্দীর আবিষ্কার, যা কান্টের সময়ের (অষ্টাদশ শতাব্দী) অনেক পরে এসেছে। তাই নিউটনের তত্ত্ব ব্যতীত অন্য কোনো বিকল্পের এখানে কোনো বৈজ্ঞানিক বা ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।
36.
ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের যন্ত্রের নাম কি? NU-Humanities (13-14)
ভূমিকম্পের তীব্রতা, উৎপত্তি ও তরঙ্গের প্রকৃতি পরিমাপ করার জন্য সিসমোগ্রাফ (Seismograph) যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাই এটি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক উত্তর। অন্য বিকল্পগুলো ভুল হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। হাইড্রোগ্রাফ হলো জলের প্রবাহ, স্তর বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করার একটি যন্ত্র, যা ভূকম্পনের সাথে একেবারেই সম্পর্কিত নয়। অটোগ্রাফ বলতে সাধারণত কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির স্বহস্তে লেখা স্বাক্ষরকে বোঝায়, এটি কোনো বৈজ্ঞানিক পরিমাপক যন্ত্র নয়। রিখটোগ্রাফ নামে মূলত কোনো যন্ত্র নেই; ভূমিকম্পের মাত্রা মাপার গাণিতিক স্কেলকে রিখটার স্কেল বলা হয়, কিন্তু কম্পন পরিমাপক মূল যন্ত্রটির নাম সিসমোগ্রাফ।
37.
ভূমিরূপ, জলবায়ুতত্ত্ব, সমুদ্রতত্ত্ব- ভূগোলের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত?
ভূমিরূপ (Geomorphology), জলবায়ুতত্ত্ব (Climatology), এবং সমুদ্রতত্ত্ব (Oceanography) মূলত পৃথিবীর ভৌত পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক উপাদান নিয়ে আলোচনা করে, তাই এগুলো প্রাকৃতিক ভূগোলের (Physical Geography) মূল শাখা। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: মানবিক ভূগোল মানুষের জনসংখ্যা, বসতি, অর্থনীতি ও সমাজ নিয়ে আলোচনা করে, ভৌত প্রকৃতি নিয়ে নয়। পদ্ধতিগত ভূগোল হলো একটি নির্দিষ্ট নিয়মে ভূগোল পড়ার উপায়, এটি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক শাখা নয়। সাংস্কৃতিক ভূগোল মানুষের ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির ভৌগোলিক বিস্তার নিয়ে কাজ করে। তাই প্রাকৃতিক ভূগোলই একমাত্র যৌক্তিক উত্তর।
38.
মহাদেশীয় ভূত্বক কোন শিলায় গঠিত?
পৃথিবীর মহাদেশীয় ভূত্বক বা সিয়াল (Sial) স্তরটি মূলত অপেক্ষাকৃত হালকা গ্রানাইট (Granite) শিলা দ্বারা গঠিত। সিলিকা এবং অ্যালুমিনিয়ামের আধিক্যের কারণে গ্রানাইটের ঘনত্ব মহাসাগরীয় ভূত্বকের চেয়ে কম। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: চুনাপাথর এবং বেলেপাথর হলো পাললিক শিলা, যা ভূত্বকের উপরিভাগে পাতলা স্তর হিসেবে থাকতে পারে কিন্তু এরা পুরো মহাদেশীয় ভূত্বকের মূল কাঠামোগত শিলা নয়। ব্যাসল্ট অত্যন্ত ভারী ও ঘন আগ্নেয় শিলা, যা মহাদেশীয় নয়, বরং মহাসাগরীয় ভূত্বক (Sima) গঠন করে। তাই ভূতাত্ত্বিকভাবে গ্রানাইটই সঠিক উত্তর।
39.
মহাসাগরীয় ভূত্বক কোন শিলায় গঠিত?
পৃথিবীর মহাসাগরীয় ভূত্বক (Oceanic Crust) বা সিমা (Sima) স্তরটি মূলত অত্যন্ত ভারী এবং ঘন আগ্নেয় শিলা ব্যাসল্ট (Basalt) দ্বারা গঠিত। সমুদ্রের তলদেশে ম্যাগমা দ্রুত শীতল হয়ে এই শিলার সৃষ্টি করে। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: চুনাপাথর এবং বেলেপাথর হলো পাললিক শিলা, যা মহাসাগরের মূল ভিত্তি বা ভূত্বক গঠন করে না, এগুলো কেবল উপরিভাগে সঞ্চিত পলি হতে পারে। গ্রানাইট হলো হালকা আগ্নেয় শিলা, যা মহাদেশীয় ভূত্বক গঠন করে। ব্যাসল্টের ঘনত্ব বেশি হওয়ার কারণেই মহাসাগরীয় প্লেট মহাদেশীয় প্লেটের নিচে অবস্থান করে।
40.
মহাস্থানগড় কোথায় অবস্থিত? NU-Humanities (12-13)
মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন যা বগুড়া জেলায় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত, তাই প্রথম বিকল্পটি সঠিক উত্তর। এটি প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল। অন্য বিকল্পগুলো ভুল কারণ: কুমিল্লায় শালবন বিহার ও ময়নামতির মতো ঐতিহাসিক স্থান অবস্থিত, মহাস্থানগড় নয়। পঞ্চগড়ে রয়েছে প্রাচীন ভিতরগড় দুর্গ, যা মহাস্থানগড় থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। নওগাঁয় পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বা সোমপুর মহাবিহার অবস্থিত। প্রতিটি জেলার নিজস্ব আলাদা ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে, তাই বগুড়া ব্যতীত বাকি তিনটি বিকল্প ভৌগোলিক এবং ঐতিহাসিকভাবে এই প্রশ্নের জন্য ভুল।