তোমাদের ভর্তি পরীক্ষার বহুনির্বাচনি অংশের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির জন্য সমগ্র পাঠ থেকে নির্বাচিত এবং যাচাইকৃত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি তথ্য নিচে প্রদান করা হলো:
০১. যুক্তিবিদ্যার আদি জনক বা প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত— দার্শনিক অ্যারিস্টটল।
০২. ইংরেজি Logic শব্দটি সরাসরি যে প্রাচীন গ্রিক শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে, তা হলো— Logos।
০৩. প্রাচীন গ্রিক শব্দ Logos-এর মূল আভিধানিক অর্থ হলো— চিন্তা, শব্দ বা ভাষা।
০৪. 'Logike' শব্দটি হলো— 'Logos' শব্দের বিশেষণ রূপ।
০৫. প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্তিবিদ্যার জন্মস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়— প্রাচীন গ্রিসকে।
০৬. দার্শনিক অ্যারিস্টটল-এর যুক্তিবিদ্যা বিষয়ক অমর গ্রন্থাবলির নাম হলো— অর্গানন (Organon)।
০৭. "যুক্তিবিদ্যা হলো বৈধ চিন্তার নীতিমালা নিয়ন্ত্রণকারী বিজ্ঞান"— এ সংজ্ঞাটি প্রদান করেছেন ওয়েলটন।
০৮. "যুক্তিবিদ্যা দর্শনের সারবস্তু"— এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন প্রখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।
০৯. "যুক্তিবিদ্যা হলো যুক্তি-পদ্ধতির বিজ্ঞান"— এ কথাটি বলেছেন প্রখ্যাত যুক্তিবিদ জেভন্স।
১০. "যুক্তিবিদ্যা একাধারে একটি বিজ্ঞান ও একটি কলা"— এই যৌক্তিক ধারণাটি পোষণ করেন জে. এস. মিল ও হোয়েটলি।
১১. "যুক্তিবিদ্যা হলো যুক্তিসংক্রান্ত কলা"— এই মতবাদটি প্রথম প্রচার করেন যুক্তিবিদ অলড্রিচ।
১২. "যুক্তিবিদ্যার রয়েছে একটি প্রাচীন ও মহান ঐতিহ্য"— এই উক্তিটির প্রবক্তা হলেন টমসন।
১৩. "যুক্তিবিদ্যা হলো চিন্তার বিজ্ঞান"— এ সংজ্ঞাটি দিয়েছেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ যুক্তিবিদ যোসেফ।
১৪. আধুনিক প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার মূল জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়— দার্শনিক লিবনিজকে।
১৫. বিখ্যাত 'A System of Logic' নামক গ্রন্থটির একক রচয়িতা হলেন— জে. এস. মিল।
১৬. 'An Introduction to Logic' শিরোনামে বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেছেন— আই. এম. কপি।
১৭. সম্পূর্ণ গাণিতিক রূপরেখায় 'Principia Mathematica' গ্রন্থটি রচনা করেছেন— বার্ট্রান্ড রাসেল ও এ. এন. হোয়াইটহেড।
১৮. 'A Concise Introduction to Logic' গ্রন্থের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত— প্যাট্রিক জে. হার্লি।
১৯. মুসলিম বিশ্বে 'দ্বিতীয় শিক্ষক' বা 'উস্তাদুল সানি' হিসেবে পরিচিত— দার্শনিক আল-ফারাবি।
২০. যুক্তিবিদ্যার চূড়ান্ত এবং প্রধান লক্ষ্য হলো— সত্যকে অর্জন করা এবং মিথ্যাকে বর্জন করা।
২১. শুদ্ধ বা বৈধ যুক্তি থেকে অশুদ্ধ বা অবৈধ যুক্তিকে পৃথক করার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিই হলো— যুক্তিবিদ্যা (আই. এম. কপি)।
২২. মানুষের যেকোনো যৌক্তিক চিন্তা এবং অনুমানের প্রধান বাহন হিসেবে কাজ করে— ভাষা।
২৩. মানুষের চিন্তার কেবল মানসিক দিক নিয়ে আলোচনা করে যে শাস্ত্র, তা হলো— মনোবিজ্ঞান।
২৪. অবরোহ অনুমানের মূল ভিত্তি হলো— জানা বিষয় বা সার্বিক সত্য থেকে অজানা বা বিশেষ বিষয়ে গমন করা।
২৫. অ্যারিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যার মৌলিক সূত্রের সংখ্যা ধরা হয়— চারটি।
২৬. প্রাচীন ভারতীয় যুক্তিবিদ্যার একটি প্রামাণ্য এবং নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হলো— মহর্ষি গৌতম রচিত 'ন্যায়সূত্র'।
২৭. মহর্ষি গৌতমের ন্যায় দর্শন-এ একটি পূর্ণাঙ্গ যুক্তির অবয়ব বা অংশ রয়েছে— পাঁচটি (যা পঞ্চাবয়বী ন্যায় নামে পরিচিত)।
২৮. প্রাচীন ভারতীয় বৌদ্ধ দর্শনের 'মাধ্যমিক' সম্প্রদায়-এর প্রবর্তক ছিলেন— দার্শনিক নাগার্জুন।
২৯. 'মূল-মাধ্যমিক কারিকা' নামক বিখ্যাত যৌক্তিক গ্রন্থটি রচনা করেছেন— নাগার্জুন।
৩০. প্রাচীন বাংলায় নব্য-ন্যায় সম্প্রদায়-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং 'তত্ত্বচিন্তামণি' গ্রন্থের রচয়িতা— গঙ্গেশ উপাধ্যায়।
৩১. বিখ্যাত দার্শনিক গ্রন্থ 'অদ্বয়সিদ্ধি' ও 'ন্যায়কন্দলী' রচনা করেছেন— বাঙালি পণ্ডিত শ্রীধর ভট্ট।
৩২. 'অনুমান দীধিতি' নামক বিখ্যাত যৌক্তিক গ্রন্থটি রচনা করেছেন— প্রখ্যাত বাঙালি পণ্ডিত রঘুনাথ শিরোমণি।
৩৩. নিজস্ব বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে বিজ্ঞানকে প্রধানত ভাগ করা হয়— দুই ভাগে (আকারগত ও বস্তুগত বিজ্ঞান)।
৩৪. কোনো সুনির্দিষ্ট আদর্শের ভিত্তিতে চিন্তার মূল্যায়ন করে বলে যুক্তিবিদ্যা হলো— একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
৩৫. যুক্তিবিদ্যা যে পরম আদর্শকে সামনে রেখে সর্বদা কাজ করে, তা হলো— কেবলই সত্যের আদর্শ।
৩৬. সমকালীন যুক্তিবিদগণ সামগ্রিকভাবে যুক্তিবিদ্যাকে আখ্যায়িত করেছেন— আকারগত বিজ্ঞান হিসেবে।
৩৭. যে বিজ্ঞান নিজস্ব বিষয়বস্তুর অন্তর্নিহিত নিয়ম ও প্রকৃতি সরাসরি বর্ণনা বা আবিষ্কার করে, তাকে বলে— বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
৩৮. একটি আদর্শ যুক্তিবাক্যের অপরিহার্য উপাদান বা অংশ মূলত— তিনটি (উদ্দেশ্য, বিধেয় এবং সংযোজক)।
৩৯. মানুষের যাবতীয় যৌক্তিক চিন্তার একেবারে মূল ভিত্তি বা প্রাণ হলো— অনুমান।
৪০. যুক্তিবিদ্যায় অনুমানকে প্রধানত যে দুটি মূল ভাগে ভাগ করা হয়, তা হলো— অবরোহ ও আরোহ অনুমান।
৪১. যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো— যেকোনো পদের অর্থকে সুস্পষ্ট করা।
৪২. কোনো পদের অপরিহার্য এবং সম্পূর্ণ মৌলিক গুণকে যুক্তিবিদ্যার পরিভাষায় বলা হয়— জাত্যর্থ।
৪৩. আধুনিককালে যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের বহুল ব্যবহারের প্রবর্তক বা গাণিতিক রূপকার হলেন— জর্জ বুল।
৪৪. যুক্তিবিদ্যার বিভিন্ন মৌলিক নিয়মাবলির শতভাগ নিশ্চয়তা বিধান করে থাকে— দর্শন শাস্ত্র।
৪৫. সত্য থেকে মিথ্যাকে পৃথককরণের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে যুক্তিবিদ্যাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন— আল-ফারাবি।
৪৬. যুক্তিবিদ্যা শুধু আকারগত নয়, বরং বস্তুগত সত্যতা নিয়েও আলোচনা করে— এটি মূলত আরোহ যুক্তিবিদ্যার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
৪৭. খ্রিস্টপূর্ব একাদশ শতকে সর্বপ্রথম মহাকাশ পর্যালোচনায় যুক্তিবিদ্যার বিভিন্ন সূত্রের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়— ব্যবিলনীয় সভ্যতায়।
৪৮. দার্শনিক আল-ফারাবি যুক্তিবিদ্যার সমগ্র আলোচ্য বিষয়কে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করেছেন— ধারণা (তাসাভ্যুর) ও প্রমাণ (তাসদিক)।
৪৯. অ্যারিস্টটল-এর যুক্তিতত্ত্বে সবচেয়ে বড় এবং যুগান্তকারী অবদান হলো— সহানুমান বা নিরপেক্ষ সহানুমান আবিষ্কার।
৫০. সমগ্র বিশ্বে 'সকল বিজ্ঞানের বিজ্ঞান' এবং 'সকল কলার কলা' হিসেবে সুপরিচিত শাস্ত্রটি হলো— যুক্তিবিদ্যা।