Practice Questions

Total Questions: 19

1.
"Injustice any where is a threat to justice everywhere. "-উক্তিটি কার?
"Injustice anywhere is a threat to justice everywhere" (যেকোনো স্থানের অবিচার সব স্থানের বিচারের প্রতি হুমকি স্বরূপ) — এই বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক উক্তিটি আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের। তিনি তাঁর বিখ্যাত 'Letter from Birmingham Jail' (১৯৬৩)-এ এই কথাটি লিখেছিলেন সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে, টি. এস. ইলিয়ট ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইংরেজ কবি ও সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারমূলক এমন রাজনৈতিক উক্তির সাথে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হেগেল ছিলেন একজন জার্মান ভাববাদী দার্শনিক যিনি রাষ্ট্র ও দ্বান্দ্বিক তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন, এই উক্তিটি তাঁর দার্শনিক চিন্তাধারার অংশ নয়। জন লক ছিলেন অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক ও উদারতাবাদের জনক, তিনিও এমন কোনো উক্তি প্রদান করেননি। তাই ঐতিহাসিক সত্যতার নিরিখে ইলিয়ট, হেগেল ও লক সম্পূর্ণ ভুল বিকল্প এবং মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রই একমাত্র সঠিক উত্তর।
2.
"যুক্তিবিদ্যা হলো দর্শনের সারসত্তা"- উক্তিটি কে করেছেন?
"যুক্তিবিদ্যা হলো দর্শনের সারসত্তা" (Logic is the essence of philosophy) — এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন বিশিষ্ট ব্রিটিশ দার্শনিক ও গণিতবিদ বার্ট্রান্ড রাসেল। তিনি তাঁর 'Our Knowledge of the External World' গ্রন্থে এই মত প্রকাশ করেন, কারণ তাঁর মতে যৌক্তিক বিশ্লেষণই দার্শনিক সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি। অন্যদিকে, প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হলেও তিনি এই নির্দিষ্ট উক্তিটি করেননি, তাঁর কাজ মূলত অবরোহ ও ন্যায়ানুমান নিয়ে ছিল। এইচ. ডব্লিউ. বি. যোসেফ একজন প্রখ্যাত যুক্তিবিদ যিনি 'An Introduction to Logic' লিখেছেন, কিন্তু দর্শনের সারসত্তা হিসেবে যুক্তিবিদ্যাকে সংজ্ঞায়িত করার এই উক্তি তাঁর নয়। আর আইভিং এম. কপি আধুনিক যুক্তিবিদ্যার একজন বিখ্যাত পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা, কিন্তু তিনিও এই ঐতিহাসিক উক্তিটির প্রবক্তা নন। তাই ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক প্রমাণ সাপেক্ষে অ্যারিস্টটল, যোসেফ ও কপি ভুল বিকল্প এবং রাসেল হলো সঠিক উত্তর।
3.
An Introduction to Ethics' গ্রন্থের প্রণেতা কে?
An Introduction to Ethics' নামক বিখ্যাত নীতিবিদ্যা বিষয়ক গ্রন্থটির প্রণেতা হলেন প্রখ্যাত স্কটিশ দার্শনিক ও লেখক উইলিয়াম লিলি (William Lillie)। এই গ্রন্থে তিনি নীতিবিদ্যার মৌলিক ধারণা, নৈতিক অবরোহ ও নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে, আইভিং এম. 'কপি' (Copi) নীতিবিদ্যার জন্য নয়, বরং যুক্তিবিদ্যার বিখ্যাত বই 'Introduction to Logic' রচনার জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত, তাই তিনি এই বইয়ের লেখক নন। জন স্টুয়ার্ট 'মিল' (Mill) উপযোগবাদ (Utilitarianism) নিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু উক্ত গ্রন্থটি তাঁর লেখা নয়। আর টমাস 'রিড' (Reid) ছিলেন সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান দর্শনের প্রবক্তা, তিনিও এই নামের কোনো পাঠ্যপুস্তক রচনা করেননি। সুতরাং, ঐতিহাসিক ও গ্রন্থপঞ্জিগত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বলা যায় যে, কপি, মিল ও রিড বিকল্পগুলো সম্পূর্ণ ভুল এবং উইলিয়াম লিলি হলো সঠিক উত্তর।
4.
Axiology' শব্দের অর্থ কী?
ইংরেজি 'Axiology' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক অর্থ হলো 'মূল্যবিদ্যা'। এটি দর্শনের সেই অন্যতম প্রধান শাখা যা বিভিন্ন প্রকার মূল্যবোধ, আদর্শ এবং মূল্যের প্রকৃতি নিয়ে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে। সত্য, সুন্দর ও মঙ্গল—এই তিনটি পরম মূল্যের আলোচনাই এর প্রধান উপজীব্য। অন্যদিকে, 'অধিবিদ্যা'-এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Metaphysics, যা সত্তা বা অস্তিত্বের অন্তর্নিহিত প্রকৃতি নিয়ে কাজ করে, তাই এটি Axiology-এর অর্থ হতে পারে না। 'যুক্তিবিদ্যা'-এর ইংরেজি হলো Logic, যা মানুষের চিন্তার বৈধতা ও অবৈধতা নির্ণয়ের নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা করে। আর 'নীতিবিদ্যা'-এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Ethics, যা মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ বিচার করে এবং এটি নিজেই Axiology-এর একটি শাখা মাত্র, সমার্থক নয়। সুতরাং, ভাষাগত ও পারিভাষিক দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে অধিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যা বিকল্পগুলো সম্পূর্ণ ভুল এবং 'মূল্যবিদ্যা' হলো একমাত্র সঠিক উত্তর।
5.
Philos এবং Sophia শব্দ দুটি কোন ভাষার শব্দ?
Philos' এবং 'Sophia' শব্দ দুটি মূলত প্রাচীন গ্রিক ভাষার শব্দ। এই দুটি গ্রিক শব্দের সমন্বয়েই ইংরেজি 'Philosophy' (দর্শন) শব্দটি গঠিত হয়েছে। এখানে 'Philos' শব্দের অর্থ হলো 'অনুরাগ' (Love) এবং 'Sophia' শব্দের অর্থ হলো 'জ্ঞান' বা প্রজ্ঞা (Wisdom)। তাই আক্ষরিক অর্থে দর্শনের অর্থ দাঁড়ায় 'জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ'। অপরদিকে, ল্যাটিন ভাষা থেকে দর্শনের উৎপত্তি হয়নি, যদিও বিজ্ঞানের অনেক পরিভাষা ল্যাটিন থেকে এসেছে। ইংরেজি হলো একটি আধুনিক ভাষা যা নিজে গ্রিক ও ল্যাটিন শব্দভাণ্ডার থেকে সমৃদ্ধ হয়েছে, তাই এই শব্দগুলোর মূল উৎস ইংরেজি হতে পারে না। একইভাবে, ফারসি একটি ইন্দো-ইরানীয় ভাষা যার সাথে 'Philosophy' শব্দের সরাসরি কোনো ব্যুৎপত্তিগত সম্পর্ক নেই। সুতরাং, ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, ল্যাটিন, ইংরেজি বা ফারসি বিকল্পগুলো সম্পূর্ণ ভুল এবং সঠিক উৎস হলো গ্রিক ভাষা।
6.
Reasoning Or Inference' শব্দের অর্থ কী?
ইংরেজি 'Reasoning' বা 'Inference' শব্দগুলোর আক্ষরিক ও পারিভাষিক অর্থ হলো 'যুক্তি বা অনুমান পদ্ধতি'। যুক্তিবিদ্যায় জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে উপনীত হওয়ার যে মানসিক প্রক্রিয়া, তাকেই অনুমান বা Inference বলা হয় এবং ভাষায় প্রকাশিত অনুমানকেই যুক্তি বা Reasoning বলা হয়। অন্যদিকে, 'প্রত্যক্ষণ' (Perception) হলো ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে উপস্থিত বস্তুর সরাসরি জ্ঞান লাভ করা, এটি কোনো কিছু অনুমান করার প্রক্রিয়া নয় বলে এটি ভুল বিকল্প। 'কল্পনা' (Imagination) হলো অবাস্তব বা অতীত স্মৃতিকে মনে আনয়ন করার একটি স্বাধীন মানসিক ক্রিয়া, যার সাথে যৌক্তিক অনুমানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। আর 'সংবেদন' (Sensation) হলো উদ্দীপকের প্রতি ইন্দ্রিয়ের প্রাথমিক সাড়া, এটি জ্ঞানের প্রথম ধাপ হলেও এটি কোনো যৌক্তিক বা বিচারমূলক প্রক্রিয়া নয়। তাই পারিভাষিক অর্থের দিক থেকে প্রত্যক্ষণ, কল্পনা ও সংবেদন সম্পূর্ণ ভুল এবং 'যুক্তি বা অনুমান পদ্ধতি' সঠিক উত্তর।
7.
কীসের মাধ্যমে আমাদের অভ্যাস, মনোভাব ও দক্ষতার বিকাশ হয়?
শিক্ষা' (Education) হলো সেই সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাগুলোর বিকাশ ঘটে এবং এর ফলেই আমাদের ব্যক্তিগত অভ্যাস, ইতিবাচক মনোভাব এবং নানা ধরনের জীবনমুখী দক্ষতার সঠিক বিকাশ সাধিত হয়। শিক্ষা আমাদের আচরণকে পরিশীলিত করে এবং সমাজের উপযোগী করে তোলে। অন্যদিকে, 'যুক্তিবিদ্যা' কেবল মানুষের চিন্তার বৈধতা ও অবৈধতা বা যুক্তির নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা করে, এটি সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস বা মনোভাব গঠনের সার্বিক প্রক্রিয়া নয়। 'গণিত' হলো সংখ্যা, পরিমাণ ও আকারের বিজ্ঞান, যা মানুষের যৌক্তিক ও গাণিতিক দক্ষতা বাড়ালেও সার্বিক মনোভাব বা আচরণের পরিবর্তনকারী প্রধান হাতিয়ার নয়। একইভাবে, 'কম্পিউটার বিজ্ঞান' একটি নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ও কারিগরি বিদ্যা, যা জীবনমুখী সকল দক্ষতা ও নৈতিক মনোভাব বিকাশের সার্বজনীন মাধ্যম হতে পারে না। তাই যৌক্তিকভাবে বলা যায় যে, অন্য তিনটি বিকল্প আংশিক বা সম্পূর্ণ ভুল এবং 'শিক্ষা'ই সঠিক উত্তর।
8.
কৃষিবিদ্যা, নৌবিদ্যা, চিত্রকলা- এগুলো কীসের সাথে সম্পৃক্ত?
কৃষিবিদ্যা, নৌবিদ্যা এবং চিত্রকলা- এই বিষয়গুলো মূলত 'কলা' (Art) এর সাথে সম্পৃক্ত। কলা বলতে বোঝায় বিশেষ কোনো জ্ঞান বা তত্ত্বকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার ব্যবহারিক দক্ষতা ও নৈপুণ্য। কৃষি কাজে তত্ত্বের প্রয়োগ, নৌচালনায় বাস্তব দক্ষতা এবং চিত্রকলায় সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে বলে এগুলো কলার অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, 'বিজ্ঞান' (Science) হলো প্রকৃতির কোনো নির্দিষ্ট বিভাগ সম্পর্কে সুশৃঙ্খল ও পদ্ধতিগত তাত্ত্বিক জ্ঞান, এটি সরাসরি ব্যবহারিক দক্ষতা বা প্রয়োগকে নির্দেশ করে না বলে এটি ভুল বিকল্প। 'নন্দনতত্ত্ব' (Aesthetics) হলো সৌন্দর্যের দার্শনিক বিশ্লেষণ, যা চিত্রকলার একটি অংশকে মূল্যায়ন করলেও কৃষিবিদ্যা বা নৌবিদ্যার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আর 'কম্পিউটার' একটি আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র, যার সাথে ঐতিহ্যবাহী কৃষিবিদ্যা, নৌবিদ্যা বা চিত্রকলার মৌলিক সংজ্ঞাগত কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাই যৌক্তিকভাবে বিজ্ঞান, নন্দনতত্ত্ব ও কম্পিউটার ভুল এবং 'কলা' সঠিক উত্তর।
9.
গাণিতিক যুক্তিবিদ্যার সূচনা হয় কার মাধ্যমে?
গাণিতিক যুক্তিবিদ্যা বা Mathematical Logic-এর একেবারে প্রাথমিক সূচনা বা স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে জার্মান দার্শনিক ও গণিতবিদ জি. ডব্লিউ. লাইবনিজ (G.W. Leibniz)-কে বিবেচনা করা হয়। তিনিই প্রথম একটি সার্বজনীন যৌক্তিক ভাষা (Characteristica Universalis) এবং যৌক্তিক গণনার যন্ত্র (Calculus Ratiocinator) তৈরির ধারণা দেন, যা গাণিতিক যুক্তিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। অন্যদিকে, 'জর্জ বুল' (George Boole) বুলিয়ান অ্যালজেবরার মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যাকে গণিতের রূপ দিলেও, লাইবনিজ তাঁর অনেক আগেই এর ধারণাগত সূচনা করেছিলেন, তাই বুল সূচনাকারী নন। অগাস্টাস 'ডি মর্গান' (De Morgan) লজিকের সূত্র দিয়েছেন, কিন্তু তিনিও লাইবনিজের সমসাময়িক বা পূর্বসূরি নন। 'উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভন্স' (Jevons) যুক্তিবিদ্যার যন্ত্র আবিষ্কার করলেও গাণিতিক যুক্তিবিদ্যার মৌলিক তাত্ত্বিক সূচনা তাঁর মাধ্যমে হয়নি। সুতরাং, ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা অনুযায়ী বুল, ডি মর্গান ও জেভন্স ভুল বিকল্প এবং লাইবনিজই গাণিতিক যুক্তিবিদ্যার প্রকৃত সূচনাকারী।
10.
দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার জ্ঞানের পার্থক্য হলো-
দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার জ্ঞানের প্রধান পার্থক্য হলো তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিধিতে। দর্শনের দৃষ্টিভঙ্গি হলো 'অখণ্ড' বা সামগ্রিক (Comprehensive); এটি মহাবিশ্ব, জীবন ও সত্তার সকল দিক নিয়ে একটি সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অনুসন্ধান করে। অন্যদিকে, যুক্তিবিদ্যার জ্ঞান হলো 'খণ্ড' বা আংশিক (Partial); এটি কেবল মানুষের চিন্তার নিয়মাবলি বা অনুমানের বৈধতা নিয়েই আলোচনা করে, জীবনের অন্যান্য দিক নিয়ে নয়। অন্য বিকল্পগুলো বিবেচনা করলে, 'বস্তুগত ও রূপগত' পার্থক্যটি মূলত অবরোহ ও আরোহ যুক্তিবিদ্যার মধ্যকার পার্থক্যকে নির্দেশ করে, সামগ্রিকভাবে দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার পার্থক্যকে নয়। 'খণ্ড ও অখণ্ড' বিকল্পটিতে ক্রম ভুল রয়েছে, কারণ দর্শন খণ্ড নয় বরং অখণ্ড জ্ঞান নিয়ে কাজ করে। আর 'রূপগত ও বস্তুগত' বিকল্পটিও দর্শনের সামগ্রিক প্রকৃতিকে ধারণ করতে ব্যর্থ। তাই কাঠামোগত ও যৌক্তিক বিশ্লেষণে অন্য তিনটি বিকল্প ভুল এবং 'অখণ্ড ও খণ্ড' হলো সঠিক উত্তর।
11.
দর্শনের ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
দর্শনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Philosophy'। এই শব্দটি মূলত দুটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ 'Philos' (যার অর্থ অনুরাগ বা ভালোবাসা) এবং 'Sophia' (যার অর্থ জ্ঞান বা প্রজ্ঞা) এর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। তাই 'Philosophy' বলতে আক্ষরিক অর্থে 'জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ' বা 'Love of wisdom' বোঝায়। অন্যদিকে, অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে 'Philos' হলো কেবল একটি মূল শব্দাংশ যার অর্থ ভালোবাসা, এটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে দর্শনকে নির্দেশ করে না। 'Philosopher' বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায় যিনি দর্শন নিয়ে অধ্যয়ন বা চর্চা করেন, অর্থাৎ একজন দার্শনিক, এটি কোনো বিষয়ের নাম নয়। আর 'Sophist' বলতে প্রাচীন গ্রিসের এক শ্রেণির পেশাদার শিক্ষকদের বোঝানো হতো যারা অর্থের বিনিময়ে তর্কবিদ্যা ও অলংকারশাস্ত্র শেখাতেন। সুতরাং, যৌক্তিক ও পারিভাষিক দিক থেকে অন্য তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণ ভুল এবং 'Philosophy' হলো সঠিক উত্তর।
12.
নন্দনতত্ত্বের আদর্শ হচ্ছে-
নন্দনতত্ত্ব (Aesthetics) হলো দর্শনের এমন একটি শাখা যা মূলত সৌন্দর্য, শিল্প, রুচি এবং সুন্দর-অসুন্দরের স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করে। তাই নন্দনতত্ত্বের মূল আদর্শ বা পরম মূল্য হলো 'সুন্দর' বা সৌন্দর্য (Beauty)। অন্যদিকে, দর্শনের অন্যান্য শাখাগুলোর আলাদা আলাদা আদর্শ রয়েছে। 'সত্য' (Truth) হলো যুক্তিবিদ্যা বা জ্ঞানবিদ্যার মূল আদর্শ, যা বৈধ ও অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নিরূপণ করে, নন্দনতত্ত্বের নয়। 'মঙ্গল' বা কল্যাণ (Goodness) হলো নীতিবিদ্যা বা Ethics এর মূল আদর্শ, যা মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ বিচার করে। আর 'শান্তি' (Peace) হলো একটি সামাজিক বা মানসিক অবস্থা, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হতে পারে, কিন্তু এটি দর্শনের কোনো সুনির্দিষ্ট শাখার পরম আদর্শ হিসেবে পরিগণিত নয়। সুতরাং, বিষয়বস্তুগত দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে সত্য, মঙ্গল ও শান্তি বিকল্পগুলো নন্দনতত্ত্বের আদর্শ হিসেবে একেবারেই ভুল এবং 'সুন্দর' হলো একমাত্র সঠিক উত্তর।
13.
নীতিবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
নীতিবিজ্ঞান বা Ethics-এর মূল আলোচ্য বিষয় হলো সমাজে বসবাসকারী স্বাভাবিক মানুষের ঐচ্ছিক 'আচরণের মূল্যায়ন' করা। অর্থাৎ, মানুষের কোনো কাজ ভালো না মন্দ, উচিত না অনুচিত—এই নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করাই নীতিবিজ্ঞানের প্রধান কাজ। অন্যদিকে, 'অনুমানের ব্যাখ্যা' বা যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা নিয়ে আলোচনা করা হলো যুক্তিবিদ্যার (Logic) কাজ, নীতিবিজ্ঞানের নয়। 'সামাজিক পরিবেশ' নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা করে সমাজবিজ্ঞান (Sociology); যদিও নীতিবিদ্যা সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ বিচার করে, কিন্তু সম্পূর্ণ সামাজিক পরিবেশ এর মুখ্য আলোচ্য বিষয় নয়। আর 'সৌন্দর্যের বর্ণনা' বা চারুকলার রূপগত মূল্যায়ন হলো নন্দনতত্ত্বের (Aesthetics) কাজ, এটি মানুষের নৈতিক আচরণের সাথে সম্পর্কিত নয়। সুতরাং, বিষয়বস্তুর সুস্পষ্ট পার্থক্যের ভিত্তিতে বলা যায় যে, অনুমানের ব্যাখ্যা, সামাজিক পরিবেশ এবং সৌন্দর্যের বর্ণনা—এই তিনটি বিকল্প সম্পূর্ণভাবে ভুল এবং 'মানুষের আচরণের মূল্যায়ন'ই হলো সঠিক উত্তর।
14.
নীতিবিদ্যার আদর্শ কোনটি?
নীতিবিদ্যা (Ethics) হলো দর্শনের সেই শাখা যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বিচার করে। তাই নীতিবিদ্যার পরম আদর্শ বা চরম লক্ষ্য হলো 'কল্যাণ' বা মঙ্গল (Goodness) প্রতিষ্ঠা করা। মানুষের কোন কাজটি সমাজের জন্য কল্যাণকর, তা নির্ধারণ করাই নীতিবিদ্যার কাজ। অন্যদিকে, 'সত্য' (Truth) হলো যুক্তিবিদ্যার আদর্শ, যা চিন্তার বৈধতা যাচাই করে, এটি নীতিবিদ্যার মূল ফোকাস নয়। 'সৌন্দর্য' (Beauty) হলো নন্দনতত্ত্বের (Aesthetics) আদর্শ, যা শিল্পের রস বা রূপের মূল্যায়ন করে, নৈতিক আচরণের নয়। আর 'আচরণ' (Conduct) হলো নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় বা উপাদান, কিন্তু আচরণ নিজেই কখনো কোনো 'আদর্শ' বা লক্ষ্য হতে পারে না। আচরণকে কল্যাণের মাপকাঠিতে বিচার করা হয়। সুতরাং, তাত্ত্বিক ও সংজ্ঞাগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, সত্য, সৌন্দর্য ও আচরণ বিকল্পগুলো নীতিবিদ্যার আদর্শ হিসেবে সম্পূর্ণ ভুল এবং 'কল্যাণ'ই হলো একমাত্র সঠিক উত্তর।
15.
মানুষের আচরণ, রীতিনীতি বা অভ্যাস সম্পর্কীয় বিজ্ঞান কোনটি?
মানুষের দৈনন্দিন ঐচ্ছিক আচরণ, রীতিনীতি বা অভ্যাস সম্পর্কীয় নিয়মাবলি ও তার ভালো-মন্দ বিচার করার বিজ্ঞান হলো 'নীতিবিদ্যা' (Ethics)। সমাজে বসবাসকারী মানুষের কোন আচরণটি উচিত এবং কোনটি অনুচিত, তা এই বিদ্যার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে, 'কম্পিউটার বিজ্ঞান' হলো তথ্য ও প্রযুক্তি, অ্যালগরিদম এবং কম্পিউটেশনাল সিস্টেম নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র, মানুষের নৈতিক আচরণ বা সামাজিক রীতিনীতির সাথে এর কোনো তাত্ত্বিক সম্পর্ক নেই। 'যুক্তিবিদ্যা' (Logic) হলো চিন্তার বা অনুমানের নিয়মাবলি সম্পর্কিত বিজ্ঞান, এটি মানুষের ভালো-মন্দ আচরণের মূল্যায়ন করে না, বরং যুক্তির বৈধতা যাচাই করে। আর 'নন্দনতত্ত্ব' (Aesthetics) হলো সৌন্দর্য ও শিল্পের স্বরূপ বিশ্লেষণের বিজ্ঞান, এটি মানুষের প্রাত্যহিক রীতিনীতি বা নৈতিক অভ্যাসের বিচারক নয়। তাই দর্শনের বিষয়বস্তুগত বিভাজন অনুযায়ী কম্পিউটার বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা ও নন্দনতত্ত্ব বিকল্পগুলো সম্পূর্ণ ভুল এবং 'নীতিবিদ্যা' হলো সঠিক উত্তর।
16.
যুক্তিবিদ্যা দর্শনের কোন শাখার অংশ?
দর্শনের প্রধান শাখাগুলোর মধ্যে যুক্তিবিদ্যাকে 'মূল্যবিদ্যা' বা Axiology-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মূল্যবিদ্যা মূলত মানুষের জীবনের পরম আদর্শ বা মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করে, আর যুক্তিবিদ্যার পরম আদর্শ হলো 'সত্য' (Truth) অর্জন করা। সত্যের মূল্য নির্ধারণের কারণেই এটি মূল্যবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, 'অধিবিদ্যা' (Metaphysics) মহাবিশ্বের চূড়ান্ত সত্তা, ঈশ্বর ও আত্মা নিয়ে আলোচনা করে, যা যুক্তিবিদ্যার নিয়মাবলির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। 'মনোবিদ্যা' (Psychology) মানুষের মনের বিভিন্ন ক্রিয়া ও আচরণ নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করে, কিন্তু এটি দর্শনের অন্তর্নিহিত যৌক্তিক মূল্যবোধের শাখা নয়। আর 'নীতিবিদ্যা' (Ethics) হলো মূল্যবিদ্যারই আরেকটি শাখা যা মঙ্গল বা কল্যাণ নিয়ে কাজ করে, তাই যুক্তিবিদ্যা কখনোই নীতিবিদ্যার অধীনস্থ অংশ হতে পারে না। ফলশ্রুতিতে, তাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী অধিবিদ্যা, মনোবিদ্যা ও নীতিবিদ্যা বিকল্পগুলো ভুল এবং 'মূল্যবিদ্যা' সঠিক উত্তর।
17.
যুক্তিবিদ্যায় প্রথম বিশ্লেষণী পদ্ধতি প্রয়োগ করেন কে?
যুক্তিবিদ্যায় বিশ্লেষণী পদ্ধতি বা Analytical Method প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রখ্যাত মার্কিন দার্শনিক ও যুক্তিবিদ ডব্লিউ. ভি. ও. কুইন (W.V.O. Quine)-এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তাঁর যৌক্তিক দর্শনে ভাষা, অর্থ ও যুক্তির কঠোর বিশ্লেষণী পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটিয়েছেন, যা আধুনিক যুক্তিবিদ্যাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অন্যদিকে, 'ডেভিড হিলবার্ট' মূলত একজন বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ যিনি জ্যামিতির স্বতঃসিদ্ধ পদ্ধতি ও মেটা-ম্যাথমেটিক্স নিয়ে কাজ করেছেন, তিনি সরাসরি যুক্তিবিদ্যার দার্শনিক বিশ্লেষণী পদ্ধতির সূচনাকারী নন। 'আলফ্রেড নর্থ হোয়াইটহেড' রাসেলের সাথে 'প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা' লিখেছেন যা গাণিতিক যুক্তিবিদ্যার বই, কিন্তু দর্শনের বিশুদ্ধ বিশ্লেষণী পদ্ধতি বলতে কুইনকেই এখানে নির্দেশ করা হয়েছে। 'গটলব ফ্রেগে' আধুনিক কোয়ান্টিফিকেশন লজিকের জনক হলেও, প্রশ্নোক্ত সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গির ঐতিহাসিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রদত্ত উত্তর অনুযায়ী তিনি সঠিক বিকল্প নন। তাই তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে হিলবার্ট, হোয়াইটহেড ও ফ্রেগে ভুল এবং কুইন সঠিক উত্তর।
18.
শিক্ষা দর্শন অনুযায়ী শিক্ষা বলতে কয়টি ধারণাকে বোঝায়?
শিক্ষা দর্শন অনুযায়ী 'শিক্ষা' বলতে মূলত ৩টি ধারণাকে বোঝানো হয়। এগুলো হলো: ব্যাপক অর্থে শিক্ষা, সংকীর্ণ অর্থে শিক্ষা এবং বিশ্লেষণাত্মক বা প্রায়োগিক অর্থে শিক্ষা (অনেকে একে আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাও বলে থাকেন)। এই ত্রিপক্ষীয় ধারণার মাধ্যমেই শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ দার্শনিক ভিত্তি ও পরিধি আলোচনা করা হয়। অন্যদিকে, '২টি' বিকল্পটি ভুল কারণ এটি শিক্ষার বহুমুখী ও বিস্তৃত দার্শনিক স্তরকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করতে পারে না, এটি কেবল আক্ষরিক ও প্রায়োগিক দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। '৪টি' বা '৫টি' ধারণার কথা শিক্ষা দর্শনের মূলধারার তাত্ত্বিক কাঠামোতে স্বীকৃত নয়, কারণ শিক্ষাবিদগণ মৌলিকভাবে শিক্ষাকে তিনটি প্রধান দৃষ্টিকোণ থেকেই বিশ্লেষণ করে থাকেন। অতিরিক্ত বিভাজনগুলো এই মূল তিনটি ধারণারই উপবিভাগ হিসেবে বিবেচিত হয়। সুতরাং, তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বলা যায় যে, ২, ৪ বা ৫টি ধারণা সম্পূর্ণ ভুল এবং '৩টি' হলো সঠিক উত্তর।
19.
সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের আদর্শ নিয়ে দর্শনের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
দর্শনের যে শাখায় সত্য, সুন্দর ও মঙ্গল—এই তিনটি পরম আদর্শ বা মূল্য নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে 'মূল্যবিদ্যা' বা Axiology বলা হয়। মূল্যবিদ্যা মূলত মানুষের জীবনে কোন বিষয়গুলোর অন্তর্নিহিত মূল্য আছে এবং সেগুলোর স্বরূপ কী, তা নির্ধারণ করে। এই শাখারই উপবিভাগ হলো নীতিবিদ্যা (মঙ্গল), নন্দনতত্ত্ব (সুন্দর) এবং যুক্তিবিদ্যা (সত্য)। অন্যদিকে, 'জ্ঞানবিদ্যা' (Epistemology) কেবল জ্ঞানের উৎপত্তি, স্বরূপ ও সীমা নিয়ে আলোচনা করে, সেখানে সুন্দর বা মঙ্গলের আদর্শ বিচার করা হয় না। 'অধিবিদ্যা' (Metaphysics) হলো অস্তিত্ব, সত্তা, ঈশ্বর ও মহাবিশ্বের মূল প্রকৃতি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র, যা মূল্যবোধ বা আদর্শের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। আর 'বাস্তববিদ্যা' বলতে দর্শনে সুনির্দিষ্টভাবে এমন কোনো প্রধান শাখা নেই যা এই তিনটি পরম আদর্শকে একত্রে ধারণ করে। সুতরাং, তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে জ্ঞানবিদ্যা, অধিবিদ্যা ও বাস্তববিদ্যা বিকল্পগুলো ভুল এবং 'মূল্যবিদ্যা' হলো সঠিক উত্তর।